ট্রাম্পের প্রশাসনে পরিবর্তন: মাইক ওয়াল্টজকে সরিয়ে জাতিসংঘে নিয়োগের ঘোষণা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজকে সরিয়ে তাঁকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এক পোস্টে ওয়াল্টজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অস্থায়ীভাবে পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন। রুবিও একসঙ্গে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করবেন—এটি হেনরি কিসিঞ্জারের পর এই ধরনের প্রথম ঘটনা।
মাইক ওয়াল্টজ, যিনি একসময় ফ্লোরিডা থেকে কংগ্রেস সদস্য ছিলেন, সেনাবাহিনী ও কংগ্রেসে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তবে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ঘটনার জেরে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। মার্চ মাসে তিনি ভুলবশত সাংবাদিক জেফরি গোল্ডবার্গকে একটি সিগন্যাল চ্যাট গ্রুপে যুক্ত করেন, যেখানে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এবং রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওয়াল্টজকে সরানোর অন্যতম কারণ ছিল এই সিগন্যাল চ্যাট কেলেঙ্কারি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মীদের যথাযথ যাচাই না করা। যদিও ট্রাম্প তাঁকে সম্মানজনকভাবে উচ্চ-প্রোফাইল পদে পুনর্বিন্যাস করেছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেনেট থেকে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেন, যাতে সরাসরি বরখাস্ত করার প্রয়োজন না হয়।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি পদটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য রয়েছে। পূর্বে নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিককে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হলেও হাউসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষার কারণে সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়।
ওয়াল্টজের ডেপুটি, অভিজ্ঞ কূটনীতিক অ্যালেক্স ওয়ং-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওয়ংও বিতর্কিত সিগন্যাল চ্যাটে ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “মাইক ওয়াল্টজকে বরখাস্ত করা হয়নি, বরং তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও আমার উভয়েরই তাঁর ওপর আস্থা আছে।”
এদিকে, নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কে হবেন তা এখনও পরিষ্কার নয়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দুইজনের নাম আলোচনায় রয়েছে—স্টিভ উইটকফ, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত; এবং রিক গ্রেনেল, যিনি পূর্বে জাতিসংঘ ও ইউরোপে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাবেক উপদেষ্টা জন বোল্টন বিবিসিকে জানান, ওয়াল্টজকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের "বিশৃঙ্খল" সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন