ট্রাম্প প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে হার্ভার্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
২০২৫ সালের মে মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার ক্ষমতা বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে, যেখানে তারা অভিযোগ করে যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্যাম্পাসে “বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সহিংস উসকানির পরিবেশ তৈরি করছে” এবং এটি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এই ঘোষণার ফলে হার্ভার্ডে পড়তে আসা প্রায় ৬,৮০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যারা ইতোমধ্যে ভর্তি হয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং যারা ভবিষ্যতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন, তাদের পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক, বেআইনি এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের প্রতিফলন” বলে মন্তব্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ একাডেমিক স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও গবেষণার গতি থামিয়ে দিতে পারে। হার্ভার্ড ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল হার্ভার্ড নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক বড় ধাক্কা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। এতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষতি হবে না, বরং বৈশ্বিক জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিনিময় প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা বিকল্প দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারে—যেখানে একাডেমিক স্বাধীনতা ও বহুজাতিক পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক সংহতির ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন