আপডেট :

        মিনিয়াপোলিসে গুলিকাণ্ডের পর ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা সহজ করতে বিল পাস করল ক্যালিফোর্নিয়া সিনেট

        ট্রাম্প নীতির প্রভাবে বিদেশি জনসংখ্যা কমল ১৫ লাখ, হুমকিতে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বাড়ি! কোথায় মিলছে সবচেয়ে সস্তা বাড়ি?

        ম্যাজিক জনসনের উদ্যোগে লস এঞ্জেলেস বন্দরে নতুন ক্রুজ টার্মিনাল

        মিনিয়াপলিসে অ্যালেক্স প্রেটি হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবিতে রিপাবলিকানদের চাপ বাড়ছে

        ফুলারটনে বিদ্যালয়ের কাছে অস্ত্রধারী সন্দেহভাজন: সতর্কতা না পাওয়ায় প্রশ্নে অভিভাবক ও বাসিন্দারা

        মিনেসোটায় আইসিই অভিযানে হত্যাকাণ্ড: ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রোহে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে সরকার শাটডাউনের শঙ্কা

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, উত্তাল লস এঞ্জেলেস

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির দাবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের, মিনেসোটাকেও ছাড়িয়ে গেছে পরিমাণ

        লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯০ মৃত্যুর প্রতিবাদে সিটি হলের সামনে ব্যতিক্রমী ‘ডাই-ইন’ বিক্ষোভ

        মিনিয়াপোলিসে ফের এক মার্কিন নাগরিকের গুলিতে মৃত্যু, বিক্ষোভ আবারও জারি

        যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর ডব্লিউএইচওর রোগ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যোগ দিল ক্যালিফোর্নিয়া

        লস এঞ্জেলেসে গৃহহীন তহবিল আত্মসাৎ: দাতব্য সংস্থার প্রধান গ্রেপ্তার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দামে মৃদু পতন: ৮৮% এলাকায় মূল্য কমেছে

        বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযানে গুলি, ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা

        প্রথম প্রজন্মের গৃহক্রেতাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি আবার চালু

        ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার’ না করতে বিশ্বনেতাদের কড়া বার্তা নিউজমের

        ২০২৫ সালের শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম কমেছে, বিক্রি বেড়েছে

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘হিরো’ পুলিশ অফিসার জীবন দিয়ে বাঁচালেন অন্যদের

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘হিরো’ পুলিশ অফিসার জীবন দিয়ে বাঁচালেন অন্যদের

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

নিউ ইয়র্ক সিটির একটি অফিস বিল্ডিংয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুই সন্তানের জনক।

৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম পার্ক অ্যাভিনিউর একটি ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন, তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তিনি “একজন বীরের মতোই” মারা গেছেন।

নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, “তিনি যা সবচেয়ে ভালো পারতেন, তাই করছিলেন—মানুষের জীবন রক্ষা। তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের রক্ষা করছিলেন।”

মেয়র আরও জানান, এই ঘটনায় আরও তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন—দুজন পুরুষ ও একজন নারী। তবে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার জন্য দায়ী সন্দেহভাজন একমাত্র হামলাকারী শেন তামুরা (২৭), যিনি নেভাদার বাসিন্দা ছিলেন, নিজেই নিজের গায়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

তামুরার মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা ছিল বলে পূর্বে নথিভুক্ত রয়েছে, তবে তাঁর হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ বলছে, তামুরা প্রথমে ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউর ভবনে প্রবেশ করার সময় দিদারুল ইসলামকে গুলি করেন। এরপর তিনি ভবনের ৩৩ তলায় উঠে গিয়ে আরও কয়েকজনকে গুলি করেন এবং শেষে নিজেকে গুলি করেন।

এনওয়াইপিডি-র (নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ) অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, দিদারুল ইসলাম “আমাদের ডিপার্টমেন্টের সর্বোত্তম প্রতিনিধিত্ব করেছেন”। পোস্টে আরও বলা হয়, “তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের সুরক্ষা দিচ্ছিলেন, তখনই তাঁর জীবন মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়ে যায়।”

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, ইসলাম এনওয়াইপিডি-র ব্রঙ্কস এলাকার ৪৭তম জেলায় কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তিনি তা পালন করছিলেন। তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন। তিনি চরম আত্মত্যাগ করেছেন।” কমিশনার আরও বলেন, “তিনি যেমন জীবন কাটিয়েছেন, তেমনভাবেই মারা গেছেন—একজন বীর হিসেবে।”

মেয়র অ্যাডামস বলেন, “তিনি শুধু পোশাকেই নয়, মন-প্রাণেও একজন সত্যিকারের নিউ ইয়র্কার ছিলেন। তিনি এই শহরকে ভালোবাসতেন।” মেয়র জানান, তিনি ইসলাম পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ইসলাম তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মেয়র বলেন, “তিনি তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। আমি আমার সন্তান জর্ডানকে ভাবি... এত বড় ক্ষতি কল্পনাও করা যায় না।”

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকে সোমবার সন্ধ্যায় ইসলাম পরিবারের বাসায় যান। তাঁরা বলেন, ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রথমে একটি স্কুলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন, পরে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। তিনি স্থানীয় মসজিদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং অনেক তরুণকে পথ দেখাতেন।

তাঁর এক শিষ্য, মারজানুল করিম বলেন, ইসলাম কেন কম নিরাপদ পুলিশ পেশায় যোগ দিলেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন—“তিনি এমন কিছু রেখে যেতে চেয়েছিলেন, যা তাঁর পরিবার গর্ব করে স্মরণ করতে পারে।”

 এলএবাংলাটাইমস/ওএম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত