হারিকেন এরিনের তাণ্ডবে উত্তর ক্যারোলাইনার উপকূলে উঁচু ঢেউ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ঘেঁষে চলা হারিকেন এরিন উত্তর ক্যারোলাইনার উপকূলে তীব্র বৃষ্টি ও উঁচু ঢেউ সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের আউটার ব্যাংকস অঞ্চল। ঝড়টি ক্যাটাগরি–২ শক্তি ধারণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি আঘাত হানবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন পূর্ব উপকূলের বেশিরভাগ সৈকতে সাঁতার না কাটতে, কারণ সমুদ্রের ঢেউ ও রিপ কারেন্ট জীবনঘাতী হতে পারে।
হারিকেন এরিনের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০৫ মাইল (১৬৮ কিমি) এবং এটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঝড়টি ক্যারিবিয়ান অঞ্চল অতিক্রম করে পুয়ের্তো রিকোতে ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়টি অস্বাভাবিকভাবে বড় আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাবে ট্রপিক্যাল ঝড়ো হাওয়া প্রায় ৫০০ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এনএইচসি জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে ঝড়ের দুর্বল হতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এটি হারিকেন হিসেবেই থাকতে পারে।
বুধবার আটলান্টিক উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০ ফুট (৯.১৪ মিটার) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আউটার ব্যাংকসে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে হাইওয়ে ১২ ওরেগন ইনলেট থেকে হ্যাটেরাস ভিলেজ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ফেরি সিস্টেম ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক উচ্ছেদের অংশ হিসেবে হ্যাটেরাস ও ওক্রাকোক দ্বীপ থেকে ২,২০০–এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে।
তবে বুধবারও কিছু মানুষ নর্থ ক্যারোলাইনার রাইটসভিল বিচে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে, যদিও সেখানে শুক্রবার পর্যন্ত সাঁতার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার এ সৈকতে রিপ কারেন্ট থেকে অন্তত ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জোশ স্টেইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি একটি গুরুতর ঝড়। কেউ সমুদ্রে নামবেন না।”
তিনি আরও জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি সুইফট-ওয়াটার রেসকিউ টিম এবং ২০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নৌকা, বিমান ও অন্যান্য যান নিয়ে উদ্ধার কাজে প্রস্তুত রয়েছে।
আউটার ব্যাংকসের ন্যাগস হেড শহরের মিলার’স ওয়াটারফ্রন্ট রেস্তোরাঁর হোস্টেস লিলি জানান, বাতাস জোরালো হতে শুরু করেছে এবং আবহাওয়া মেঘলা হয়ে গেছে। যদিও তিনি মনে করেন, “আবহাওয়া চ্যানেলগুলো অতিরঞ্জিত করছে।” তবে হ্যাটেরাস দ্বীপের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, হ্যাটেরাস দ্বীপের হারবার হাউস সিফুড মার্কেটের কর্মী ভিকি হ্যারিসন বলেন, তিনি পরিবারসহ সরে না গিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“সোমবার পর্যটকদের এবং মঙ্গলবার স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” তিনি বলেন।
হ্যারিসন আরও বলেন, তাদের পরিবার গত ৪০ বছর ধরে হ্যাটেরাসে বসবাস করছে এবং এর মধ্যে বহুবার উচ্ছেদ হতে হয়েছে।
“আমরা জানি কিভাবে নিরাপদে থাকতে হয়। আমাদের কাছে প্রচুর খাবার ও পানি মজুত আছে,” তিনি যোগ করেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন