মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরে অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিলেন তুলসি গ্যাবার্ড
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের (ODNI) পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সংস্থাটির কর্মীসংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা বাজেট থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার কমানো হবে।
ঘোষণা দিতে গিয়ে গ্যাবার্ড বলেন, গত দুই দশকে গোয়েন্দা দপ্তর “অতিরিক্ত ফুলে উঠেছে এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে।” তার ভাষায়, নতুন কাঠামো দলগুলোকে একীভূত করবে এবং সংস্থাটিকে “বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের” মূল লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে।
এই ঘোষণা আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন গ্যাবার্ড জানালেন যে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান ও সাবেক ৩৭ জন মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) বাতিল করবে।
বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্যাবার্ড ফরেন ম্যালাইন ইনফ্লুয়েন্স সেন্টার বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেন, যা বিদেশি প্রভাব নজরদারির দায়িত্বে ছিল। গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, এই কাজ অন্য গোয়েন্দা ইউনিট আগে থেকেই করছে। একইভাবে, বিধ্বংসী অস্ত্র (WMD) ট্র্যাকিং, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ ও বৈশ্বিক দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদানকারী ইউনিটগুলোও বাদ দেওয়া হচ্ছে।
ODNI–তে গ্যাবার্ড দায়িত্ব নেওয়ার সময় কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ১,৮০০। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ২৫% কর্মী ছাঁটাই করেছেন, ফেডারেল নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল
নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিলের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি মেমোতে জানানো হয়। এতে গ্যাবার্ড কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের নির্দেশ দেন অবিলম্বে উল্লিখিত কর্মকর্তাদের ছাড়পত্র বাতিল করতে। তার অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা গোয়েন্দা তথ্যকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
যেসব কর্মকর্তার ছাড়পত্র বাতিল হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টা। যদিও গ্যাবার্ড কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
নিরাপত্তা ছাড়পত্রের মাধ্যমে সংবেদনশীল সরকারি নথি ও তথ্য ব্যবহারের সুযোগ মেলে। কিছু সাবেক কর্মকর্তা এগুলো ধরে রাখেন উত্তরসূরিদের পরামর্শ দিতে বা বেসরকারি চাকরির শর্ত পূরণের জন্য। এখনো স্পষ্ট নয়, তালিকাভুক্ত ৩৭ জনের সবার সক্রিয় ছাড়পত্র ছিল কিনা।
গ্যাবার্ড বলেন, ট্রাম্পের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কারণ কর্মকর্তারা “জনগণের আস্থা ভেঙেছেন, শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ফাঁস করেছেন এবং পেশাগত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।”
তার ভাষায়, “নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুবিধা। যারা সংবিধানের প্রতি শপথ ভেঙে ব্যক্তিগত স্বার্থকে দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখেন, তারা জনগণের প্রতি দেওয়া পবিত্র আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে বাইডেন, কমলা হ্যারিস এবং কয়েকজন সাবেক আইনপ্রণেতার নিরাপত্তা ছাড়পত্রও বাতিল করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্যাপিটল দাঙ্গা তদন্তে যুক্ত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্যাবার্ড নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই প্রচারণায়, যেখানে ওবামা আমলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে রাশিয়া ২০১৬ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। ট্রাম্প ও গ্যাবার্ড বরাবরই এটিকে “রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এটি জনগণের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা, বিশেষত ট্রাম্পের অজনপ্রিয় নীতি ও কুখ্যাত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ থেকে।
ওবামার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন,“এই আজগুবি অভিযোগগুলো হাস্যকর এবং মনোযোগ সরানোর দুর্বল প্রচেষ্টা।”
এলএবাংলাটাইমস/এম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন