ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধ দমন অভিযানে ন্যাশনাল গার্ডকে অস্ত্রধারণের অনুমতি
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নির্দেশ দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন ডিসিতে টহলরত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা এখন থেকে অস্ত্র বহন করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজধানীতে অপরাধ দমনের অভিযান চলমান অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
চলতি আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সেনা মোতায়েনের আদেশ দেন এবং শহরের পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। তিনি দাবি করেন, শহরের অপরাধ পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে” চলে গেছে।
গত সপ্তাহেই পেন্টাগন ও মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, প্রায় ২,০০০ মোতায়েনকৃত সেনা অস্ত্র বহন করবে না। তবে সর্বশেষ বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, “ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা শিগগিরই তাদের মিশন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি অস্ত্র বহন করবে।”
এখনও পরিষ্কার নয় যে এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনে সেনাদের মিশনের প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে কি না। এতদিন তারা আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমে অংশ নেয়নি; সেই দায়িত্ব পালন করেছে স্থানীয় পুলিশ ও বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তা। সেনাদের মূলত মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল মল ও ইউনিয়ন স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে শুক্রবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান ওয়াশিংটনে “সম্পূর্ণ নিরাপত্তা” ফিরিয়েছে এবং এটি শিকাগোতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “ডিসি ছিল এক নরককুণ্ড, কিন্তু এখন এটি নিরাপদ।”
শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে জানান, তিনি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে কোনো তথ্য পাননি। তিনি এই পদক্ষেপকে “অসংগত, অযৌক্তিক ও অনুপযুক্ত” বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, এটি স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং অপরাধ কমাতে শহরের যে অগ্রগতি হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যদিও ট্রাম্প ওয়াশিংটনে মিশনকে সফল ঘোষণা করেছেন, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ৩০ দিনের মোতায়েনের সময়সীমা শেষ হলে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। তার ভাষায়, “যদি মনে করি সবকিছু ঠিক আছে, তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু যদি না হয়, তবে আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করব। এতে আমি যতদিন চাই, সেনাদের এখানে রাখতে পারব।”
অভিযানে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মতো রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্য থেকেও বাহিনী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে ওয়াশিংটন শহরকে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস শহরের বাজেট থেকে মোট ১.১ বিলিয়ন ডলার কেটে দিয়েছিল।
শুক্রবার সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারই ছিল ৪০ জন। এছাড়া ৯১টি অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা এই ফেডারেল হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মেয়র বাউজার দাবি করেছেন, শহরে ইতোমধ্যেই অপরাধের হার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে এবং এটি এখন “গত ৩০ বছরের মধ্যে সহিংস অপরাধের সর্বনিম্ন স্তরে” রয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও সচার স্কুল-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৮০% বাসিন্দা এই সেনা মোতায়েন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফেডারেল দখলদারিত্বের বিরোধিতা করছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন