৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ভিসাধারীর রেকর্ড পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন কি না তা যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে থাকা ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি ভিসাধারীর রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ভিসাধারীরা “নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ” (continuous vetting)-এর আওতায় থাকবেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকা, অপরাধমূলক কার্যক্রম, জননিরাপত্তার হুমকি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা অথবা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় প্রশাসনের মূল নীতিই করেছেন কড়া অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ। এর মধ্যে রয়েছে গণ-নির্বাসন, একাধিক দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ৬ হাজার ছাত্র ভিসা বাতিল।
বিস্তৃত এ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে। সেখানে যদি মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির প্রতি বৈরিতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
এছাড়া, ভিসা অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেন যারা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন বা সহায়তা করেন, কিংবা যারা বেআইনি ইহুদিবিদ্বেষী (antisemitic) হয়রানি বা সহিংসতায় জড়িত।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্রাগেসার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকার সুযোগ-সুবিধা তাদের দেওয়া উচিত নয় যারা দেশকে ঘৃণা করে এবং মার্কিনবিরোধী মতাদর্শ প্রচার করে।” তিনি আরও জানান, সংস্থাটি “নীতিমালা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ” যা “মার্কিনবিরোধী কার্যকলাপ” নির্মূল করবে।
এই ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য কর্ম ভিসা প্রদান “তাৎক্ষণিকভাবে” স্থগিত করা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “মার্কিন সড়কে বিদেশি চালকদের সংখ্যা বৃদ্ধি আমেরিকানদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে এবং দেশীয় ট্রাকচালকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার। উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সমর্থন দিয়ে আসছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, মালাউই ও জাম্বিয়ার নাগরিকদের পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১১,৩০০ পাউন্ড) জামানত জমা দিতে হবে।
এছাড়া, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন এবং আরও সাতটি দেশের ক্ষেত্রে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। গত মে মাসে প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৫ লাখেরও বেশি অভিবাসীর বৈধ মর্যাদা সাময়িকভাবে বাতিল করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারও বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন