কলোরাডোতে ফিউনারেল হোমের গোপন কক্ষে মিললো পচনধরা মরদেহ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি ফিউনারেল হোমে পরিদর্শকরা গোপন দরজার পেছনে প্রায় ২০টি পচনধরা মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোমটির মালিক যিনি আবার স্থানীয় কাউন্টির করোনার (মৃতদেহ তদন্তকারী কর্মকর্তা), তিনি স্বীকার করেছেন যে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর কাছে সম্ভবত নকল ছাই হস্তান্তর করেছিলেন।
ডেনভার থেকে প্রায় ১১০ মাইল দক্ষিণে পুয়েবলো শহরের ডেভিস মর্চুয়ারিতে বুধবার রাজ্য পরিদর্শকরা প্রবেশ করলে তীব্র পচনের গন্ধ পান। তারা দেখতে পান, একটি কার্ডবোর্ড ডিসপ্লে দিয়ে আড়াল করা দরজার পেছনের কক্ষে মরদেহগুলো রাখা হয়েছে। রাজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথি অনুযায়ী, মালিক ব্রায়ান কটার—যিনি পুয়েবলো কাউন্টির করোনার—পরিদর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন যেন তারা সেই কক্ষে প্রবেশ না করেন।
বহু বছর ধরে কলোরাডোতে ফিউনারেল হোম খাতের তদারকি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। কোনো নিয়মিত পরিদর্শন ছিল না, এমনকি পরিচালকদের জন্য কোনো যোগ্যতার শর্তও ছিল না। এর সুযোগে একাধিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে। গত বছর পার্শ্ববর্তী পেনরোজ শহরে একটি ভবনে প্রায় ২০০টি পচনধরা মরদেহ ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। সেই মামলায় শুক্রবার এক মালিকের সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।
পুয়েবলোতে সর্বশেষ আবিষ্কারটি ঘটে নতুন আইন অনুযায়ী ডেভিস মর্চুয়ারির প্রথম পরিদর্শনে। আইন পরিবর্তনের আগে কেবল অভিযোগ থাকলেই ফিউনারেল হোমগুলো তদারকি করা যেত। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন রাজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পেশা ও কার্যক্রম বিভাগের পরিচালক স্যাম ডেল্প।
কটার পরিদর্শকদের জানান, কিছু মরদেহ প্রায় ১৫ বছর ধরে দাহ করার অপেক্ষায় আছে। এ কারণে রাজ্য কর্তৃপক্ষ মর্চুয়ারিটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
কলোরাডো ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিচালক আর্মান্দো সালদাতে তৃতীয় বলেছেন, “এটি বিশ্বাসের এক মারাত্মক ভঙ্গ এবং পরিবারগুলোর জন্য হৃদয়বিদারক প্রতারণা, যারা তাদের প্রিয়জনকে এ ফিউনারেল হোমে সঁপে দিয়েছিল।”
ফিউনারেল হোম কর্মীদের হিসেবে কক্ষে প্রায় ২০টি মরদেহ রয়েছে, তবে এখনো সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরানো হয়নি। বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলাতে প্রশিক্ষিত রাজ্য টহলদারদের সহায়তায় প্রমাণ সংগ্রহ চলছে এবং মরদেহগুলোকে “সম্মানের সঙ্গে ও মানবিকভাবে” পরিচালনা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কটারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুয়েবলো কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি কালা বোভাইস জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান থাকায় এখনো কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
মর্চুয়ারিতে ফোনে যোগাযোগ করলে এক নারী বলেন, তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং কটারকেও সাক্ষাৎকারের জন্য পাওয়া যাবে না। কটারকেও করোনার অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ডেভিস মর্চুয়ারির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কটার ও তার ভাই ক্রিস ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি কিনেছিলেন। তারা দাবি করেন, তাদের বাবা কলোরাডো, কানসাস ও নেব্রাস্কায় ফিউনারেল হোম পরিচালনা করতেন, আর সেখান থেকেই তারা “পুরোনো ধাঁচের” কাজ করার শিক্ষা পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ফিউনারেল হোম নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় থাকে। তবে কলোরাডোতে বহু বছর এমন কোনো আইন কার্যকর ছিল না।
পূর্ববর্তী কেলেঙ্কারির মধ্যে রয়েছে—গ্র্যান্ড জাংশনের এক ফিউনারেল হোম যেখানে ২০২২ সালে মালিকদের দেহাংশ বিক্রি ও নকল ছাই দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আরও এক ঘটনায়, ডেনভারের উপকণ্ঠে একটি ফিউনারেল হোম একটি নারীর মরদেহ প্রায় এক বছর ধরে হিয়ার্সে ফেলে রেখেছিল। সেখানে মালিকের বাড়িতে অন্তত ৩০ সেট ছাইও লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
গত বছর কলোরাডোর আইনপ্রণেতারা নতুন আইন পাশ করেন যাতে নিয়মিত পরিদর্শন ও কড়া তদারকির বিধান আনা হয়। পাশাপাশি, ফিউনারেল পরিচালক ও কর্মীদের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, জাতীয় পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এর আগে, কলোরাডোতে ফিউনারেল হোমের পরিচালক হতে হলে এমনকি মাধ্যমিক পাশও আবশ্যক ছিল না।
এলএবাংলাটাইস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন