আপডেট :

        রেকর্ড ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্রেডিট কার্ড ঋণে জর্জরিত মার্কিনরা, বাড়ছে বকেয়া বিল

        ইউসিএলএ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

        ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ

        কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

        ভার্জিনিয়ায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৫, আহত অর্ধশতাধিক; চালকের পরিচয় প্রকাশ

        স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের মেলা থেকে সরে দাঁড়ালেন একাধিক শিল্পী

        ট্রাম্পের তহবিলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১০০% করের হুমকি

        কোভিড ত্রাণ ঋণ জালিয়াতিতে ৪০ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, কারাদণ্ড

        রিভারসাইড কাউন্টিতে স্কাইডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ১

        যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি খুব কাছাকাছি, তবে এখনো চূড়ান্ত নয়: জেডি ভ্যান্স

        নিউইয়র্কে ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মার্কিন নাগরিকের ১০ বছরের সাজা

        ট্রাম্পের ছবি দিয়ে ২৫০ ডলারের নতুন নোট আনার প্রস্তুতি

        বিশ্বকাপ ঘিরে বড় নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে লস এঞ্জেলেস পুলিশ

        ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক আতঙ্ক কাটল, প্রত্যাহার সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রে কাগজ কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণ, নিহত ১

        ফেডারেল কর্মীদের এনডিএ সই করাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে হোয়াইট হাউসে ইউএফসি খাঁচা নির্মাণ

        খালি হাতে সাপ ধরলেন রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, ভাইরাল ভিডিও

        ইরানে আবারও মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌকা লক্ষ্যবস্তু

        মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত ৪ ইতালিয়ানের মরদেহ দেশে ফেরত

অস্টিনে কলেজছাত্রীর পরিবারকে লক্ষ্য করে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযানে আতঙ্ক

অস্টিনে কলেজছাত্রীর পরিবারকে লক্ষ্য করে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযানে আতঙ্ক

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

টেক্সাসের অস্টিনে সম্প্রতি দেশ থেকে বিতাড়িত এক কলেজছাত্রীর পরিবারকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এজেন্টরা হাজির হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবার ও তাদের আইনজীবীর দাবি, রোববার তিনটি অচিহ্নিত গাড়িতে করে এজেন্টরা তাদের বাড়ির সামনে আসে এবং কোনো ধরনের নোটিশ বা যোগাযোগ ছাড়াই বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে চাপ সৃষ্টি করে।

১৯ বছর বয়সী অ্যানি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা—ম্যাসাচুসেটসের ব্যাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী—থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে পরিবারের জন্য সারপ্রাইজ হিসেবে অস্টিনে ফিরছিলেন। কিন্তু ২০ নভেম্বর বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে আটক করে এবং দুই দিন পরই তাকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ও তার পরিবার এক দশকেরও বেশি আগে সহিংসতার কারণে পালিয়ে এসেছিলেন।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ২০১৫ সালের একটি পুরনো ডিপোর্টেশন অর্ডারের ভিত্তিতে তাকে দেশ থেকে সরানো হয়েছে। তবে তার আইনজীবী টড পোমারলো জানান, তিনি এমন কোনো আদেশের রেকর্ড পাননি। বরং ২১ নভেম্বর ফেডারেল কোর্টের এক আদেশ অনুযায়ী, মামলার শুনানি চলাকালীন অ্যানিকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল।

রোববার কেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন (ই.আর.ও) ইউনিট লোপেজ পরিবারের বাড়িতে গেল, তা পরিষ্কার নয়। তবে অ্যানি ও তার বাবা সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন, যা হয়তো পরিবারের দিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বাবা ফ্রান্সিস লোপেজ জানান, তিনি গাড়ি ধুচ্ছিলেন—এ সময় একটি সাদা ট্রাক বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিল। পরে আরও দুটি গাড়ি আসে এবং সবুজ ভেস্ট পরা এক কর্মকর্তা হঠাৎ দৌড়ে তার দিকে আসেন। কোনো কথা না বলেই কর্মকর্তা গেটে ঢুকে পেছনের আঙিনায় প্রবেশ করেন। লোপেজ দ্রুত ঘরে ঢুকে দরজা লক করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর কোনো যোগাযোগ ছাড়াই এজেন্টরা চলে যায়।

“আমরা ভীত,” বলেন ফ্রান্সিস লোপেজ। “বিশেষ করে আমাদের ছোট মেয়েদের জন্য।”

লোপেজ পরিবার প্রায় ১২ বছর আগে হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলার অপরাধ বৃদ্ধি থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। অ্যানি তখন ছোট; পরে পরিবারটি আশ্রয়ের আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যান হয়। পরিবারটির দাবি, তারা কখনো কোনো ডিপোর্টেশন অর্ডারের নোটিশ পায়নি।

পরিবারের আইনজীবী ক্রিস্টিন এতার বলেন, “এজেন্টদের কাছে কোনো পরোয়ানা ছিল না। কোনো অপরাধমূলক মামলা নেই—তাহলে কীসের পরোয়ানা?”

অ্যানির দুই ছোট বোন—৫ ও ২ বছর বয়সী—উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন একজন কলেজছাত্রীর পরিবারকে ভয় দেখাতে টার্গেট করছে, কারণ ওই ছাত্রী সরকারের অন্যায় আচরণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে বলেছে।”

বোস্টন বিমানবন্দরে আটক হওয়ার সময় অ্যানিকে জানানো হয় যে পুরনো ডিপোর্টেশন অর্ডারের কারণে তাকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি ডিএসিএ—ডাকাদের জন্য ঘোষিত বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি—পেতে যোগ্য ছিলেন না কারণ তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

তার এই ভ্রমণ ছিল পরিবারের জন্য উপহারস্বরূপ। লোপেজের কর্মস্থলের মালিক ও তার স্ত্রী টিকিটের খরচ বহন করেছিলেন। বিমানবন্দরে তার টিকিট কাজ না করায় তিনি হেল্প ডেস্কে গেলে ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে—এভাবেই শুরু হয় আটক ও পরবর্তী বিতাড়নের ঘটনা।

এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির বিস্তৃত কঠোরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

     

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত