সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
কারাকাসে হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে এবং দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় “বৃহৎ পরিসরের” হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কারাকাসে বিস্ফোরণের পর আকাশে সামরিক হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এই ঘটনাকে “মার্কিন সামরিক আগ্রাসন” বলে আখ্যা দিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মাদুরোর শাসন “অবৈধ” এবং তিনি একটি “মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের” নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স এই অভিযান চালিয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি জানান, রুবিওর মতে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আপাতত আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসের কেন্দ্রস্থল লা কার্লোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনাসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। শনিবার ভোরে রাজধানীতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরের হামলা পরিচালনা করেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযান মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (গ্রিনিচ সময় ১৬:০০) এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
কারাকাসে বসবাসরত সাংবাদিক ভেনেসা সিলভা বিবিসিকে বলেন, তিনি এমন একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন যা “বজ্রপাতের চেয়েও শক্তিশালী” ছিল।
“বিস্ফোরণে আমার ঘর কেঁপে ওঠে। ভয়েই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়,” বলেন তিনি।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানায়, মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এই হামলার লক্ষ্য দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা। এক বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই “চরম আগ্রাসনের” নিন্দা জানায়।
কিউবা ও কলম্বিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে ভেনেজুয়েলার কয়েকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার ট্রাম্প জানান, সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের সঙ্গে যুক্ত একটি ডক এলাকায় হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে এবং তাকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত বছরের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন