সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তন: কোভিড ও হেপাটাইটিসসহ একাধিক টিকা আর বাধ্যতামূলক নয় যুক্তরাষ্ট্রে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য প্রস্তাবিত টিকাদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় শিশুদের যেসব রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়, তার সংখ্যা ১৭ থেকে কমিয়ে ১১-এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রকাশিত নতুন তালিকায় পোলিও ও হাম (মিজলস)–এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকা আগের মতোই বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। তবে হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি এবং কোভিড-১৯–এর টিকা এখন আর সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এসব টিকা নেওয়া হবে শিশুর ঝুঁকি ও চিকিৎসক–অভিভাবকের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, এটি “বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে” নেওয়া হয়েছে।
তবে শিশু বিশেষজ্ঞদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি) এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি একে “বিপজ্জনক ও অপ্রয়োজনীয়” বলে আখ্যা দিয়েছে।
এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে স্বাস্থ্যনীতিতে নেওয়া সর্বশেষ বড় সিদ্ধান্ত, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, “অনেক আমেরিকান, বিশেষ করে ‘মাহা মমস’ (Make America Healthy Again), বহু বছর ধরে এই সাধারণ-বুদ্ধিভিত্তিক সংস্কারের জন্য প্রার্থনা করে আসছিলেন।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনেডি বলেন, “দীর্ঘ ও গভীর পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শিশুদের সুরক্ষা দেবে, পরিবারগুলোর মতামতকে সম্মান করবে এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন করবে।”
সিডিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিশুর জন্য যেসব টিকা এখনও সুপারিশ করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—হাম, মাম্পস, রুবেলা, পোলিও, পার্টুসিস (হুপিং কাশি), টিটেনাস, ডিফথেরিয়া, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (হিব), নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) এবং চিকেন পক্স (ভ্যারিসেলা)।
ঝুঁকিভিত্তিকভাবে যেসব টিকা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—আরএসভি (রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস), হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, ডেঙ্গু এবং মেনিনজোকক্কাল এসিডব্লিউওয়াই ও মেনিনজোকক্কাল বি, যা মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করে।
এ ছাড়া কোভিড-১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও রোটাভাইরাসের টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত চিকিৎসক ও অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত যেসব টিকা এখনও সুপারিশের তালিকায় রয়েছে, সেগুলোর খরচ বীমা কোম্পানিগুলো বহন করবে বলে জানিয়েছে সিডিসি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ডিসেম্বরে যে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই এই নতুন সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের টিকাদান নীতিকে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারি তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়াসহ ২০টি উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়েছে যে, শিশুদের টিকার সংখ্যা ও ডোজের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি “ব্যতিক্রমী অবস্থানে” রয়েছে। ডেনমার্কে শিশুদের মাত্র ১০টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা সুপারিশ করা হয়—এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মডেল হিসেবে ধরা হয়েছে।
তবে এই তুলনার কড়া সমালোচনা করেছেন আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি ডা. অ্যান্ড্রু ডি. রেসিন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক নয়। ডেনমার্কের টিকাদান সূচি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ডেনমার্কের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ, আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ। দুই দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও রোগঝুঁকি একেবারেই আলাদা।”
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, “বৈজ্ঞানিক তথ্য ও স্বচ্ছতা ছাড়াই শিশুদের টিকাদান সূচিতে পরিবর্তন আনা রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি করবে এবং দেশকে আরও অসুস্থ করে তুলবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ডিসেম্বরে সিডিসি নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার সময়সূচি পরিবর্তন করে। আগে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়ার সুপারিশ থাকলেও, নতুন নির্দেশনায় হেপাটাইটিস বি–নেগেটিভ মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে তা দুই মাস বয়সে দেওয়ার কথা বলা হয়। তখনও শিশু বিশেষজ্ঞরা একে “শিশুদের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত” বলে সমালোচনা করেছিলেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন