৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র, তালিকায় বাংলাদেশ
ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। রোববার এক ভিডিও বার্তায় নিজেই এই তথ্য জানান পাওয়েল।
ভিডিও বক্তব্যে পাওয়েল বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের ভবন সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে সিনেট কমিটিতে দেওয়া তাঁর সাক্ষ্যের প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ সংস্থাটির কাছে সমন (সাবপোনা) পাঠিয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার হুমকি দিয়েছে।
এই তদন্তকে তিনি “অভূতপূর্ব” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, সুদের হার কমাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার প্রকাশ্য চাপ সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করায় তিনি ট্রাম্পের অসন্তোষের শিকার হন। তাঁর বিশ্বাস, সেই কারণেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
পাওয়েল বলেন, “এটি মূলত এই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত—ফেড কি প্রমাণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে, নাকি রাজনৈতিক চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মুদ্রানীতি পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনের শাসন ও আমাদের গণতন্ত্রে জবাবদিহিতার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়—নিশ্চয়ই ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানও নয়। তবে এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপকে প্রশাসনের হুমকি ও ধারাবাহিক চাপের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত।”
ফেড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি নিয়ে বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিচার বিভাগের এই তদন্ত সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি পাওয়েলের সমালোচনা করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, কিন্তু তিনি ফেড পরিচালনায় খুব একটা ভালো নন, আর ভবন বানানোর কাজেও তিনি ভালো নন।”
যদিও এখন পর্যন্ত প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তবে এই পদক্ষেপ ট্রাম্প ও পাওয়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পই ২০১৭ সালে জেরোম পাওয়েলকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এরপর সুদের হার নীতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দেয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন