৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র, তালিকায় বাংলাদেশ
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে। তবে মাদুরো অপসারণের পরও ট্রাম্প এখনো মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেননি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বহুল বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন জোট বিজয় দাবি করেছিল।
এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে মাচাদো বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চান এবং নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দিতে আগ্রহী। ট্রাম্প বিষয়টিকে “একটি বড় সম্মান” বলে উল্লেখ করলেও পরে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
এর আগে মাচাদোর নোবেল পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এই পুরস্কারটি তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে পেতে আগ্রহী বলে জানা যায়।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভেনেজুয়েলায় তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন।
“তিনি হয়তো কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারেন। আমাকে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি আসতে চান—এটা ভালো লাগছে,” বলেন ট্রাম্প।
তবে মাদুরো অপসারণের পর চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, মাচাদোর দেশে যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই।
“তিনি খুব ভালো মানুষ, কিন্তু দেশের ভেতরে তার সম্মান নেই,” বলেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ডেলসি রোদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে। ট্রাম্প রোদ্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের “মিত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগও আনেনি ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন,
“ডেলসি রোদ্রিগেজ ও তার দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করছে।”
তবে মাচাদো স্পষ্ট করে বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন জোটেরই “নিশ্চিতভাবে” দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রোদ্রিগেজকে কেউ বিশ্বাস করে না এবং তিনি ভেনেজুয়েলায় নিরপরাধ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
“ভেনেজুয়েলার ভেতরে ও বাইরে সবাই ভালো করেই জানে তিনি কে এবং কী ভূমিকা রেখেছেন,” বলেন মাচাদো।
সাবেক এই আইনপ্রণেতা, যিনি গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে দেশটিতে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সমৃদ্ধি ফেরানোর পথে “একটি বড় পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে ডেলসি রোদ্রিগেজ ট্রাম্পের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণ করছে। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন,
“ভেনেজুয়েলা শাসন করছে ভেনেজুয়েলার সরকার—অন্য কেউ নয়। আমাদের দেশ কোনো বাইরের শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন