ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভ্রাটের পর ভেরিজনের নেটওয়ার্ক সেবা স্বাভাবিক
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভ্রাটের পর ভেরিজনের নেটওয়ার্ক সেবা স্বাভাবিক
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট ভেরিজন (Verizon) জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্কে সৃষ্ট বড় ধরনের বিভ্রাটের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই বিভ্রাটের কারণে হাজারো গ্রাহক মোবাইল সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং কিছু এলাকায় ৯১১ জরুরি কল করাও সম্ভব হয়নি।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভেরিজনের মুখপাত্র বলেন, “বিভ্রাটের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক এখনো সমস্যা অনুভব করছেন, তাদের ডিভাইস রিস্টার্ট করে নেটওয়ার্কে পুনরায় সংযোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
এর আগে ভেরিজন জানিয়েছিল, তারা সারা রাত কাজ করে সেবা স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বিভ্রাটে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট দেওয়া হবে।
নেটওয়ার্ক বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর (Downdetector) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ ভেরিজন গ্রাহকরা সেবা বিঘ্নের বিষয়টি লক্ষ্য করতে শুরু করেন।
অনেক গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, তাদের ফোনে নেটওয়ার্ক সিগন্যালের জায়গায় “SOS” লেখা দেখা যাচ্ছিল।
ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ জন ভেরিজন গ্রাহক এই বিভ্রাটে আক্রান্ত হন। পরে ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা কমতে থাকে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে নিউইয়র্ক সিটি, আটলান্টা, শার্লট ও হিউস্টন থেকে।
ডাউনডিটেক্টরের হিসাব অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে আক্রান্ত গ্রাহকের সংখ্যা কমে ৬০ হাজারের নিচে নেমে আসে।
বিকেল ৪টার কিছু পর ভেরিজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, “আজকের সেবা সমস্যাটি সমাধানে আমাদের টিম মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট (NYCEM) জানিয়েছে, এই বিভ্রাটের কারণে কিছু ব্যবহারকারীর ৯১১–এ কল সংযোগ ব্যাহত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “ভেরিজন সমস্যাটি সমাধানে কাজ করছে। জরুরি অবস্থায় যদি ভেরিজন ডিভাইস দিয়ে সংযোগ সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য ক্যারিয়ারের ফোন, ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করুন অথবা নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ফায়ার স্টেশনে সরাসরি যান।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা প্রথমে আশঙ্কা করেছিল, এই বিভ্রাট কোনো সাইবার হামলার ফল হতে পারে। তবে তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, এটি একটি কারিগরি সমস্যা, সাইবার হামলা বা কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (CISA) এ বিষয়ে প্রশ্নের জন্য ভেরিজনের কাছেই সংবাদমাধ্যমকে পাঠাচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন