মিনিয়াপোলিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইসিই’র পদক্ষেপে বিধিনিষেধ দিলেন মার্কিন বিচারক
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে শান্তিপূর্ণ ও অ-বাধাদানকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের ভিড় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে বিচারক ক্যাথরিন মেনেন্ডেজ জারি করা আদেশে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারী বা আইসিই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা বা পেপার স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না। আসন্ন সপ্তাহান্তে শহরে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে এই আদেশ এলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নামে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিচারকের ৮৩ পৃষ্ঠার আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ ও অ-বাধাদানকারী বিক্ষোভ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, পেপার স্প্রে বা অনুরূপ অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করার উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না।”
এছাড়া, যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট সন্দেহ ছাড়া কোনো যানবাহন থামানো বা যাত্রীদের আটক করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আইসিই এজেন্টদের অনুসরণ করলেই তা গাড়ি থামানোর বৈধ কারণ হতে পারে না।
এই আদেশটি ডিসেম্বরে একদল বিক্ষোভকারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, “দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণকে রক্ষায় সংবিধানসম্মত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” হোয়াইট হাউসও আদেশটির সমালোচনা করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন একে “বামপন্থী বর্ণনাকে সমর্থনকারী একটি অযৌক্তিক রায়” বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, আলাস্কার ফোর্ট ওয়েনরাইটে ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ১,৫০০ সক্রিয় সেনা মিনিয়াপোলিসে মোতায়েনের সম্ভাব্য প্রস্তুতির জন্য স্ট্যান্ডবাইয়ে রয়েছে। তবে এখনো তাদের মোতায়েনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ডকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। শনিবার ন্যাশনাল গার্ড এক পোস্টে জানায়, প্রয়োজনে তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং সদস্যরা আলাদা করে চেনার জন্য উজ্জ্বল হলুদ ভেস্ট পরবেন।
এদিকে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। উভয়েই আইসিই অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এক বিবৃতিতে বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” তবে ওয়ালজ এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একটি কর্তৃত্ববাদী কৌশল।”
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন