আপডেট :

        মিনিয়াপোলিসে গুলিকাণ্ডের পর ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা সহজ করতে বিল পাস করল ক্যালিফোর্নিয়া সিনেট

        ট্রাম্প নীতির প্রভাবে বিদেশি জনসংখ্যা কমল ১৫ লাখ, হুমকিতে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বাড়ি! কোথায় মিলছে সবচেয়ে সস্তা বাড়ি?

        ম্যাজিক জনসনের উদ্যোগে লস এঞ্জেলেস বন্দরে নতুন ক্রুজ টার্মিনাল

        মিনিয়াপলিসে অ্যালেক্স প্রেটি হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবিতে রিপাবলিকানদের চাপ বাড়ছে

        ফুলারটনে বিদ্যালয়ের কাছে অস্ত্রধারী সন্দেহভাজন: সতর্কতা না পাওয়ায় প্রশ্নে অভিভাবক ও বাসিন্দারা

        মিনেসোটায় আইসিই অভিযানে হত্যাকাণ্ড: ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রোহে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে সরকার শাটডাউনের শঙ্কা

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, উত্তাল লস এঞ্জেলেস

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির দাবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের, মিনেসোটাকেও ছাড়িয়ে গেছে পরিমাণ

        লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯০ মৃত্যুর প্রতিবাদে সিটি হলের সামনে ব্যতিক্রমী ‘ডাই-ইন’ বিক্ষোভ

        মিনিয়াপোলিসে ফের এক মার্কিন নাগরিকের গুলিতে মৃত্যু, বিক্ষোভ আবারও জারি

        যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর ডব্লিউএইচওর রোগ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যোগ দিল ক্যালিফোর্নিয়া

        লস এঞ্জেলেসে গৃহহীন তহবিল আত্মসাৎ: দাতব্য সংস্থার প্রধান গ্রেপ্তার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দামে মৃদু পতন: ৮৮% এলাকায় মূল্য কমেছে

        বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযানে গুলি, ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা

        প্রথম প্রজন্মের গৃহক্রেতাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি আবার চালু

        ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার’ না করতে বিশ্বনেতাদের কড়া বার্তা নিউজমের

        ২০২৫ সালের শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম কমেছে, বিক্রি বেড়েছে

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইউরোপীয় নেতারা

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইউরোপীয় নেতারা

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্রের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ সিদ্ধান্তকে “সম্পূর্ণ ভুল” বলে অভিহিত করেন, আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা দেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে এবং গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে “পূর্ণ ও সম্পূর্ণ চুক্তি” না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলে তিনি জানান। ট্রাম্পের দাবি, স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এমনকি প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।

এই ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোববার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বৈঠকে ইইউর ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেবেন। এদিকে, প্রস্তাবিত মার্কিন দখলের বিরুদ্ধে শনিবার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

জনসংখ্যায় কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নৌযান নজরদারিতে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডকে “সহজ পথে” বা “কঠিন পথে” পেতে পারে।

ইউরোপীয় দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য একটি তথাকথিত ‘রিকনিসান্স’ মিশনে সীমিতসংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো “খুবই বিপজ্জনক খেলা” খেলছে এবং এতে “আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও টিকে থাকা” ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তিনি জানান, আগামী মাসে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে এবং জুনে তা বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তা রক্ষায় মিত্রদের উদ্যোগের জন্য তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে তুলব।” যুক্তরাজ্যের বিরোধী নেতারাও সমালোচনা করেন—কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, এটি “ভয়াবহ ধারণা”, আর রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারাজ বলেন, “এতে আমাদের ক্ষতি হবে।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়… কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের অবস্থান বদলানো যাবে না।” সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, “আমরা ব্ল্যাকমেইল মেনে নেব না।” তিনি জানান, সুইডেন ইইউ দেশগুলো, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এক্সে লেখেন, “ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি।” তিনি সতর্ক করেন, শুল্ক আরোপ ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করবে এবং বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র তৈরি করতে পারে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, “চীন ও রাশিয়া নিশ্চয়ই আনন্দ পাচ্ছে—মিত্রদের মধ্যে বিভাজনেই তাদের লাভ।”

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় দৃঢ় থাকবে—যার সূচনা অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকেই।” ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, শুল্কের হুমকি “অপ্রত্যাশিত” ছিল।

জার্মানির ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও ইপিপি গ্রুপের নেতা মানফ্রেড ওয়েবার বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি গত বছর আলোচিত ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ওই চুক্তিতে ইইউ পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শতাংশ শুল্ক এবং কিছু পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শূন্য শতাংশ শুল্কের কথা ছিল। ওয়েবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তির অনুমোদন সম্ভব নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শূন্য শুল্ক স্থগিত রাখা উচিত।

তবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, উত্তরাঞ্চলে যা প্রয়োজন, তা করার মতো “সম্পদ ও সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই।” ফক্স নিউজকে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় গ্রিনল্যান্ডবাসীর জীবন হবে “আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ।”

ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, ‘শুল্ক’ তার প্রিয় শব্দ—এটিকে তিনি বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর নীতিতে প্রভাব ফেলতে চাপের হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ ঘোষণা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ন্যাটো মিত্র ও বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েনে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস বলেন, তিনি “এই অবৈধ ও অযৌক্তিক শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলের প্রস্তাব” আনবেন। তার ভাষায়, “ট্রাম্প কৃত্রিমভাবে বিদেশি সংকট তৈরি করছেন এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ জোটকে দুর্বল করছেন—যখন তিনি মার্কিন জনগণের আসল উদ্বেগ, জীবনযাত্রার ব্যয়, উপেক্ষা করছেন।”

মতামত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানের বিরোধী। শনিবার ডেনমার্কের শহরগুলো ও গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’, ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর’—এমন স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভ হয়। নুকে প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বিক্ষোভে যোগ দেন; হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়” ও “আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ি”। বিক্ষোভের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল কোপেনহেগেন সফর করে; দলের নেতা সিনেটর ক্রিস কুনস ট্রাম্পের বক্তব্যকে “গঠনমূলক নয়” বলে মন্তব্য করেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম  

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত