বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো
মিনেসোটায় চার্চের প্রার্থনা পণ্ড: আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে একটি চার্চে রোববারের প্রার্থনা চলাকালে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরোধী বিক্ষোভকারীদের কার্যক্রম তদন্ত করছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেন্ট পলের ‘সিটিজ চার্চ’-এর ভেতরে বিক্ষোভকারীরা “ICE out” এবং “Justice for Renee Good” স্লোগান দিচ্ছেন। রেনে গুড মিনিয়াপোলিসে এ মাসের শুরুতে একজন আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হন।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীরা একটি উপাসনালয় ‘অপবিত্র’ করেছেন এবং এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত করা হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে মিনেসোটায় আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন ১,৫০০ সেনাকে স্ট্যান্ডবাইয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।
রোববার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানান, চার্চের প্রার্থনা ব্যাহতকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “ফেডারেল আইনের পূর্ণ শক্তি” প্রয়োগ করা হবে। সোমবার অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ধিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “এ ঘটনায় ফেডারেল অভিযোগ আনা হবে।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, চার্চটির আটজন পাস্টরের একজন ডেভিড ইস্টারউড স্থানীয় আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। তবে রোববারের ওই প্রার্থনায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন না।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসিএলইউর আদালত নথিতে ডেভিড ইস্টারউড নামের একজনকে আইসিই সেন্ট পল ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত অক্টোবরে মিনিয়াপোলিসে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও তাকে দেখা গেছে।
বিবিসি এ বিষয়ে চার্চটির মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের এজেন্টদের পরিচয় নিশ্চিত বা অস্বীকার করে না, কারণ পরিচয় প্রকাশ পেলে এজেন্ট ও তাদের পরিবারের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার মিনেসোটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক মনিক কালার্স-ডোটি সিবিএস নিউজকে বলেন, “মানুষকে বিভ্রান্ত হতে দেখে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না।”
এদিকে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত হুইপল ভবনের আশপাশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র জানান, মোতায়েন শুরুর পর থেকে মিনিয়াপোলিসে অন্তত ৩,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক মিনিয়াপোলিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইসিই এজেন্টরা কী ধরনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ কৌশল ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান চালাতে মিনেসোটায় বিপুলসংখ্যক আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সিবিএস নিউজ জানায়, মিনিয়াপোলিসে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য ১,৫০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে তিনি ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করতে পারেন।
উনিশ শতকের এই আইন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয়। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে রডনি কিংকে মারধরের ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তার খালাসের পর ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে এ আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন