কোটা আন্দোলন: অভিভাবক সমাবেশে বাধা, আটকের পর দুজনের মুক্তি
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে অভিভাবক ও নাগরিকদের প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকি বিল্লাহকে আটক করা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৩ জুলাই, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ’ নামে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছিল। সেই ইভেন্টে সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ওই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত কর্মসূচির শুরুতেই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়াতে যাওয়া ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ।
ওই সময় সমবেত হওয়া ব্যক্তিদের হাতের ব্যানারও কেড়ে নেওয়া হয়। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
অভিভাবক সমাবেশে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য মরতে চাই। ছাত্রদের জন্য মরতে চাই। ছাত্রদের মারতে চাইলে আগে আমাদেরকে মারুক। আমাদের ভাইয়েরা নির্যাতনের শিকার হবে, রাম দায়ের কোপ খাবে, গুম হবে- আমরা ছাড়ব না।’
প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানানোর এতদিন পরও কোনো প্রজ্ঞাপন বা সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য জারি হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন একটি যৌক্তিক অধিকার। আবার তাদের ওপর যদি আক্রমণ করা হয়, তাহলে শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারি না।
আমরা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে এসেছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের তা করতে দেয়নি; বরং আমাদের দুজনকে ধরে নিয়ে যায়।’
ব্যানার কেড়ে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি: ফোকাস বাংলা
নজরুল ইসলাম তালুকদার নামের এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। আর তার মেয়ে ইডেন কলেজের ছাত্রী। তার ছেলেমেয়েরা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। কোটা সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন করেছে, তা যৌক্তিক। তাই সেটা মেনে নেওয়া ও আটক করা আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিতে হবে।
ওই সমাবেশে যোগ দিতে আসা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। আমাদের সন্তানদের আহত করেছে, অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আজকে এখানে তাদের অভিভাবকরাসহ আমরা সবাই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তা জানাতে এসেছিলাম।’
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। যারা এসেছিলেন, তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যানারে সমাবেশ করতে আসেননি। তাই তাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালানো হয়েছিল। ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই মঙ্গলবার ফারুকসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সুব্রত ঘোষ শুভ শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন