আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসের দাবানল ছড়াল কার্ন কাউন্টিতে

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছায় পরিবার ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুলিশের

        যুদ্ধবিরতির মাঝেই আবার হামলা, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

        মাংসখেকো পরজীবীর হানা যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে আক্রান্ত বাছুর শনাক্ত

        ৪০ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের বার লুকানোর অভিযোগে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা কারাগারে

        বাইডেন প্রশাসনের সাবেক মন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে

        ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রে সার্ফিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অভিজ্ঞ সার্ফার

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে কনসার্ট বাতিল, ট্রাম্পের বিশাল সমাবেশ

        কেন দেরিতে আসে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনের ফল?

        মাংসখেকো স্ক্রুওয়ার্ম ঠেকাতে মাছি ও কুকুর মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

        কয়লা খাতে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ট্রাম্পের

        ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিপক্ষে রিপাবলিকানরা

        নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারিতে এগিয়ে কারেন বাস

        যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে, নতুন হামলায় জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

        উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আরও ১৬ বছর বাড়াতে আনুষ্ঠানিক আবেদন কানাডার

        গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বিল পুল্টেকে বেছে নিলেন ট্রাম্প, শুরু বিতর্ক

        নিরাপত্তা জোরদার করে ফের আয়োজন হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ডিনার

        ট্রাম্প প্রশাসন ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল বাতিল করল

        ভোটের আগে শেষ প্রচারে মেয়র-গভর্নর প্রার্থীরা

বৃহৎ শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া নেমে এসেছে অর্ধেকে

বৃহৎ শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া নেমে এসেছে অর্ধেকে

বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতারসহ বেশ কয়েকটি দেশে হঠাৎ করেই কর্মী যাওয়ার হার কমে গেছে। কোনো কোনো দেশে এই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। যদিও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি চলতি বছর ১২ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

তবে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জনশক্তি রফতানি সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম আর দুর্নীতি বেড়ে যাওয়া ও বিদেশ থেকে কর্মী ফেরত আসার কারণে মূলত গতি কমেছে। এ ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে বহির্গমন দেয়ার কারণে বিদেশগামী কর্মীর হার কমছে বলে তারা মনে করছেন। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যে সিন্ডিকেট এখনো কাজ করছে সেটি ভেঙে সব রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করতে পারলে আবারো শ্রমিক যাওয়ার গতি বেড়ে যাবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান ঘেঁটে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশ থেকে মোট শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ২৫০ জন। এ রমধ্যে জানুয়ারি মাসে গিয়েছে ৮১ হাজার ৮৪৬ জন। সেটি কমতে কমতে জুন মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৫ জনে অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে ১২ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক সৌদি আরব, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গেলেও সেটি কমতে কমতে এখন পাঁচ হাজারে এসে ঠেকেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যে সৌদি আরবে গত বছর সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক গিয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে শ্রমিক গেছে এক লাখ ৪৪ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে জুন মাসে গেছে মাত্র ১৩ হাজার ৬৬৮ জন। একইভাবে মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে মোট ৯১ হাজার শ্রমিকের মধ্যে সর্বোচ্চ মে মাসে ২২ হাজার ৮৮০ জন শ্রমিক গেলেও জুন মাসে সেটি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে ১১ হাজারে ঠেকেছে। একইভাবে ওমান. কাতার, কুয়েত, মরিশাস, ইরাক, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে একইভাবে কর্মী যাওয়া কমে গেছে।

গতকাল জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও আদেব এয়ারের স্বত্বাধিকারী মো: শিমুল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরাতো কমন কান্ট্রিতে শুধু লোক পাঠাচ্ছি। যেমন সৌদি আরব, কাতার, লেবানন, ওমান, মালয়েশিয়াসহ মধ্যেপ্রাচ্যের অনেক দেশে। এর মধ্যে গত বছর শুধু সৌদি আরবেই আমাদের সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি শ্রমিক গিয়েছিল। এ বছর সৌদি আরবে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়ায় ওয়ার্কার নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে এখন ওই পরিমাণ শ্রমিক যাচ্ছে না। পুরুষ ও মহিলা কর্মী কোনো বিষয় না। দেখতে হবে কতজন মোট কর্মী বিদেশে গেল।

এর মধ্যে আমাদের দেশের সরকারের নিয়ম-নীতির কারণে ৭০ শতাংশ কমে গেল। অর্থাৎ গত রোজার ঈদের পর থেকে এ বছর যে ৫০০-৬০০ নারী শ্রমিক ফেরত এসেছে তার কিছুটা সমস্যা নিয়ে এলেও বেশকিছু নারী শ্রমিক এনজিওদের কারসাজির কারণে এসেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। যার কারণে সরকার অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বেও বিষয়টা সিরিয়াসলি নিয়েছে। অন্য মার্কেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাতার থেকে কোনো চাহিদাপত্র আসছে না। কাতারের যে কাজ আসছে সেগুলো স্লো। এরপর ইরাকে নতুন সরকার এসেছে। আমার জানা মতে গত তিন মাসে ইরাক থেকে কোনো ডিমান্ড ঢাকায় আসেনি। একমাত্র কারণ পটপরিবর্তন। মালয়েশিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটা একটা সিন্ডিেেকটের মাধ্যমে যাচ্ছে। বিপুল শ্রমিক সেখানে জবলেস অবস্থায় আছে। সবকিছু মিলিয়ে অন্যান্য কান্ট্রির অবস্থাও একই বলে আমার মনে হয়। তিনি বলেন, নতুন নতুন মার্কেট ওপেন হচ্ছে না। যার কারণে শ্রমবাজারে ধস নেমেছে। আগামী দুই মাসে এ সংখ্যা আরো কমে আসতে পারে। অন্যদিকে বায়রায় প্রশাসক বসেছে। এখন বায়রার কোনো বাস্তব রূপরেখা নেই যে বায়রার সদস্যদের প্রসঙ্গে কোনো বডি গিয়ে আলোচনা করবে। তাই সবকিছু মিলিয়ে অবস্থা এখন শোচনীয়।

গত রাতে একজন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ বলেন, মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে আমি জানি দেশটির সরকার নতুন করে কোনো এপ্রুভাল দিচ্ছে না। পুরনো এপ্রুভাল যেগুলো দিয়েছে সেসব লোকই যাচ্ছে। যে কারণে লোক যাওয়া কমেছে। সৌদির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ফেরত আসার কারনে গভর্মেন্ট কিন্তু নীতিমালা ফলো করার কারণে কিছুটা কমে যাচ্ছে। আগের মতো ঢালাও যাচ্ছে না। সরকার এখন যাচাই করে তারপর দিচ্ছে। এটি শুধু সৌদি আরবের ক্ষেত্রে নয় সব দেশের ক্ষেত্রেই যাচাই-বাছাই করছে। যার কারণে শ্রমিক পাঠানোর গতি কমেছে। কি ধরনের যাচাই-বাছাই করছে মন্ত্রণালয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই ভাষা জানে না, ফিজিক্যালি ফিট না। এসব কারণে লোক যাওয়া কমেছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত