শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালিয়েছে একদল যুবক। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও পরে একত্রিত হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ১০ জন। এর মধ্যে পাঁচজন আওয়ামী লীগের কর্মী, তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন পথচারী।
৪ আগস্ট, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে জিগাতলায় সাত মসজিদ রোডে এই ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরে লাঠি হাতে ৩০ থেকে ৩৫ জন মধ্যবয়সী যুবক সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার দৃশ্যধারণ করার সময় বাংলা টিভির প্রতিবেদক তাসকিন আল আনাসও হামলার শিকার হন।
তাসকিন ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুকে লাইভ প্রচার করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন তার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে মারধর করে। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জিগাতলায় পিলখানার গেটে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যদের কাছে অসহায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে। এ ছাড়া একজন আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।
কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে—এমন কথা ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তখন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে যায়। এ খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে থাকা কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। ওই সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানো হয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীরা তাদের কার্যালয়ে হামলার উদ্দেশে গিয়েছিল। এ কারণে তাদের বাধা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগের কর্মীরা মারধর করেনি।
এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ জানান, খবর পাওয়ার পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর খবর ছড়ায় একজন শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগ অফিসে আটকে মারধর করা হচ্ছে। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা জিগাতলা আই হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকে এবং আওয়ামী লীগের অফিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
এ খবর আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারাও রাস্তায় বের হয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে জিগাতলার দুই পাশের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা আবারও জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং কর্মীদের ধাওয়া দেয়।
দুই পক্ষের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গিয়েই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
আন্দোলনকারী এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, দুপুরের দিকে তাদের কাছে খবর আসে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মারধর করা হচ্ছে। এমন কথা শোনার পরই কার্যালয়ের দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী যেতে থাকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা অফিস থেকে বের হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।
ওই সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে রাস্তায় থাকা লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকে। জনশূন্য হয়ে পড়ে ফুটপাত ও জিগাতলা এলাকা। এ ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে সিটি কলেজ পর্যন্ত। খবর পেয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সকাল থেকে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরাও জিগাতলার দিকে যায়। আবারও দুপুর সোয়া তিনটার দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় থাকা একজন সংবাদকর্মী জানান, কাউকে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা বের করতে দিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের কর্মীরা। কেউ মোবাইল বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করলেই তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করছে।
কয়েজন শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা বেধড়ক পেটায় বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ সরকার প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে বেশি কিছু বলতে পারব না। আপনারা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেন।’
News Desk
শেয়ার করুন