আপডেট :

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে ছাড়িয়ে গেলেন নিত্যা রমন

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

        নিউইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে আহত ৬

        ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহতের খবর

        নির্বাচনী কারচুপির দাবি নিয়ে চাপে পড়ে সাক্ষাৎকার ত্যাগ ট্রাম্পের

        ডি-ডে ভাষণে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা হেগসেথের

        নকল বোর্ডিং পাসে বিমানে উঠে পড়লেন যাত্রী

        সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় কুকুর চুরি, ২৭ ডলারে বিক্রির পর খেয়ে ফেলার অভিযোগ

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেনসার প্র্যাটকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন নিথ্যা রমন

        যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরে পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা বাড়ল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

        মাংসখেকো স্ক্রুওয়ার্মের আতঙ্কে টেক্সাসের গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করল কানাডা

        উৎসবে আতঙ্ক: ওহাইওতে গুলিতে আহত ১২

        লস এঞ্জেলেসের দাবানল ছড়াল কার্ন কাউন্টিতে

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছায় পরিবার ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুলিশের

        যুদ্ধবিরতির মাঝেই আবার হামলা, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

        মাংসখেকো পরজীবীর হানা যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে আক্রান্ত বাছুর শনাক্ত

        ৪০ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের বার লুকানোর অভিযোগে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা কারাগারে

        বাইডেন প্রশাসনের সাবেক মন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে

        ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রে সার্ফিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অভিজ্ঞ সার্ফার

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে কনসার্ট বাতিল, ট্রাম্পের বিশাল সমাবেশ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনরায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন, শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের সহধর্মিণী নেহরীন ফেরদৌসী মিলি। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সে ঘটনার দুদিন পর নিশ্চিত মৃত্যুপুরী থেকে নিজে ফিরে এলেও ফিরে পাননি তার ২৫ বছরের জীবনসঙ্গীকে। ঐ ঘটনার মাত্র দুই মাস আগেই উদযাপন করেছিলেন তাদের বিয়ের রজতজয়ন্তী।


নেহরীন ফেরদৌসী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে আমরা অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে ১৬ বছর পার করে দিলাম। আমরা এ হত্যাযজ্ঞের বিচার চাই। দেশের মানুষ এ বিদ্রোহের আসল ঘটনা জানতে চায়। যে বিচার হয়েছে, সেটা আসলে কোনো বিচার নয়। এতগুলো বছর এ বিষয়ে কথা বলার কোনো স্বাধীনতা আমাদের ছিল না। আমাদের দাবি—এ দিবসটিকে ‘শহিদ সেনা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি চাই। বিডিআরের তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার (ঢাকা) কর্নেল মুজিব ১৯৭৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশন লাভ করেন। চাকরিজীবনে তিনি ১, ৮ ও ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এসএমআই, ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও বিডিআরে বিভিন্ন নিযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে কর্নেল জেনারেল স্টাফ ও ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসে মিনিস্টার (কনস্যুলার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জর্জিয়ায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ মিশনেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্নেল মুজিব দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে সরকারের ‘ডালভাত’ কর্মসূচিরও দায়িত্বে ছিলেন।


বিডিআর বিদ্রোহের সেদিনের কথা স্মরণ করে মিলি মুজিব বলেন, সেদিন কর্নেল মুজিব কিছুই আঁচ করতে পারেননি। বাড়ি থেকে একসঙ্গে চা খেয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন দরবার হলের উদ্দেশে। দরবার হলে সেদিন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি। মুজিবসহ মেধাবী এ অফিসারদের সাহস আর ত্যাগের জন্য আমি গর্ববোধ করছি, কিন্তু দুঃখ একটাই, তাদের সাহসিকতাকে জাতির কাছে প্রমাণ করতে গিয়ে এত বড় বলিদান দিতে হলো। এ দেশ তাদের শূন্যতা অনুভব করবে দীর্ঘদিন আর স্বজন হারানোর বেদনা আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকবে চিরকাল।

তিনি আরো বলেন, দুটি টিনএজ ছেলে ও একটি মেয়েশিশুকে আমার একাই মানুষ করতে হয়েছে। নিজের শূন্যতা যেমন ছিল, তেমন ছিল তাদের মানুষ করার তাড়না। সন্তানদের মানসিক দিকটা সব সময় আমাকে নাড়া দিত। তিনি বলেন, আমার বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি শূন্য থেকে শুরু করেছি। তখন আমার বড় ছেলের ১৯ বছর, ছোটটার ১৭ আর মেয়েটা সবে ১০ বছরের। সেনাবাহিনীর সব বাবাদের ‘শ্রেষ্ঠ বাবা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওনারা বাচ্চাদের বেশি সময় দিতে পারেন না। কিন্তু যে সময় বাচ্চাদের সঙ্গে কাটান তা খুবই গুরুত্ব দিয়ে। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। তবে চেষ্টা করেছি। আমার ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা নেই, সেভাবেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাদের প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে ১০ বছর পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা করে দেয়। সেটা আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনায় কাজে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে বলে প্রায়ই লোকমুখে শুনতে হয়। কিন্তু আমি তা জানি না। তবে বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, মানুষকে বিডিআর বিদ্রোহের সত্যিকারের ঘটনা জানানো হবে।

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত