আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন কর্মসংস্থান শর্ত চালু, খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

        লস এঞ্জেলেসে ব্যালট পুড়িয়ে ও ভোটকেন্দ্রে ভাঙচুর, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা

        হাওয়াইয়ে তিনজনকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত

        মিয়ানমারে বিস্ফোরকভর্তি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৪৫ জনের বেশি

        যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের

        ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিলের দাবি পেন্সের

        শিল্পীদের সরে দাঁড়ানোয় ‘ফ্রিডম ২৫০’ উৎসব বাতিলের আহ্বান ট্রাম্পের

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে আরও ৫২৪ ভোটকেন্দ্র চালু, আগাম ভোটগ্রহণ অব্যাহত

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর দৌড়ে এগিয়ে তিন প্রার্থী, শীর্ষে বেসেরা

        শিল্পীদের সরে দাঁড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নিজেই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার ইঙ্গিত

        ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাসচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা

        সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

        ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’, তবে ওজন কমানো ও বেশি ব্যায়ামের পরামর্শ

        রেকর্ড ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্রেডিট কার্ড ঋণে জর্জরিত মার্কিনরা, বাড়ছে বকেয়া বিল

        ইউসিএলএ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

        ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ

        কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

        ভার্জিনিয়ায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৫, আহত অর্ধশতাধিক; চালকের পরিচয় প্রকাশ

        স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের মেলা থেকে সরে দাঁড়ালেন একাধিক শিল্পী

        ট্রাম্পের তহবিলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১০০% করের হুমকি

তেভাগা কৃষকের আন্দোলন

তেভাগা কৃষকের আন্দোলন

প্রাচীনকাল থেকেই উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের সমৃদ্ধির পেছনে কৃষকদের অবদান থাকলেও তাদের সমৃদ্ধি কখনোই হয়নি। উল্টো যুগ যুগ ধরে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়েছেন। বছরের পর বছর এভাবে মাত্রাতিরিক্ত শোষণ-নিপীড়নে এক সময় শোষিত বর্গাচাষিরা আন্দোলনের ডাক দেন। ভূমিহীন কৃষকদের দাবি ছিল, উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ পাবেন জমির মালিক আর দুই ভাগ পাবেন কৃষক। তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ তেভাগা থেকেই এই আন্দোলনের নাম হয় তেভাগা আন্দোলন। মূলত সেটি ছিল শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বিপ্লব।

বঙ্গদেশে এক সময় সব ভূমির মালিক ছিলেন কৃষকরাই। বিভিন্ন রাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিদারদের কেবল তাঁরা রাজস্ব দিতেন। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথমবারের মতো পাঁচশালা এবং দুই বছর মেয়াদি ভূমি ইজারা পদ্ধতি চালু করেন। এর হাত ধরে ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত হয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা। তাতে জমির মালিকানা চলে যায় জমিদার বা ভূস্বামীর হাতে। কৃষক হন ভূমিহীন। তাঁরা জমি বর্গা চাষ করে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু অন্যের জমি চাষ করে কৃষক বা বর্গাচাষিরা উৎপন্ন ফসলের মাত্র অর্ধেক বা আরও অনেক কম পেতেন। অথচ ফসল ফলানোর জন্য বীজ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের আর্থিক ও শারীরিক শ্রম দিতে হতো কৃষকদের।

এর মধ্যে ১৯৩৬ সালে সোচ্চার কৃষকদের নিয়ে গঠিত হয় 'নিখিল ভারত কৃষক সভা'। তাদের নীতি ছিল, 'লাঙল যার জমি তার'। বাংলার ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৪০ সালে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভার প্রস্তাব করে 'ফ্লাউড কমিশন'। জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ, কৃষকদের জমির মালিকানা দেওয়া এবং বর্গচাষের ক্ষেত্রে উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দু'ভাগ মালিকানা চাষিদের দিতে সুপারিশ করে সেই কমিশন। ১৯৪৬ সালে বাংলার প্রাদেশিক কৃষক সভা ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সূচনা হয় তাদের ন্যায্য হিসাব বুঝে নেওয়ার তেভাগা আন্দোলন। পরে সেটি পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গে এমন প্রভাব বিস্তার করেছিল, কৃষকরা সেসব অঞ্চলকে তেভাগা এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেন। স্থানীয়ভাবে এলাকার শাসনের জন্য গঠন করা হয়েছিল তেভাগা কমিটি।

দিনাজপুর জেলার তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল তেভাগা আন্দোলনের মূল সূতিকাগার। দীর্ঘ ৪৬ বছরের দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এড়িয়ে এ আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান সমানভাবে অংশ নেয়। নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল তেভাগার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন হাজী মুহম্মদ দানেশ, ইলা মিত্র, অজিত বোস, বিষ্ণু চট্টোপাধ্যায়, কাঁসারি হালদার, সুশীল সেন, নূর জালাল, গণেশ দাস, কৃষ্ণবিনোদ রায়, ভূপাল পাণ্ডা, রূপনারায়ণ রায়, ড. গণেন্দ্রনাথ সরকার, কালী সরকার, শিবরাম মাঝি প্রমুখ।

আন্দোলনের প্রথমদিকে অবশ্য জমিদার শ্রেণি পুলিশ, লাঠিয়াল বাহিনী, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে দমনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের হার মানতে হয় নিপীড়িত মানুষের ন্যায্য দাবির কাছে। আন্দোলনের চাপে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৯৪৭ সালে ২২ জানুয়ারি সরকার বিধানসভায় 'বঙ্গীয় বর্গাদার সাময়িক নিয়ন্ত্রণ বিল'-১৯৪৭ উত্থাপন করে। জমির মালিকরা তেভাগা আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন এবং তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করেন। বর্গাচাষিকে স্বেচ্ছায় তেভাগা দেয় এবং খাজনার নামে বলপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধ বা সীমিত করা হয়। ১৯৫০ সালের 'জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০' বিলের মধ্য দিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। বিনয় চৌধুরীর নেতৃত্বে ২.৪ মিলিয়ন উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত