বগুড়ায় ৫০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে ‘রাজমহল’
বগুড়ার মোকামতলায় তৈরি হচ্ছে স্বপ্ন। গত ১০ বছর ধরেই স্বপ্ন তৈরি হচ্ছে। ইটের পর ইটই শুধু নয়, দামি পাথরের পর পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই স্বপ্ন। একেবারে শখের বসে পড়ে এই স্বপ্নের রাজমহল নির্মাণ করছেন শাখাওয়াত হোসেন টুটুল নামের এক ব্যবসায়ী। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে মূল্যবান পাথর দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িটি দূর থেকে দেখলে ভারতের আগ্রার তাজমহলের মতো মনে হয়। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ হচ্ছে এই স্বপ্নের রাজমহল। বাড়িটির অবস্থান বগুড়ার মোকামতলা থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে। সাধারণত এত টাকা খরচ করে বসবাসের জন্যে কেউ বাড়ি নির্মাণ করে না।
সরেজমিনে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরের দেউলি সরকারপাড়ায় শাখাওয়াত হোসেন টুটুল নামের এক ব্যবসায়ী এই রাজমহল নির্মাণ করছেন। বলা হয় টুটুলের পূর্বপুরুষগণ জমিদার ছিলেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করেন। পৈত্রিক জায়গার ওপর ২০০৬ সালের শেষ দিকে প্রথমে নির্মাণকাজ শুরু করার পর আশপাশের আরো কিছু জমি কিনে নেন। বর্তমানে প্রায় ১ একর জমির ওপর এই রাজমহল নির্মাণ করা হচ্ছে। কবে নির্মাণকাজ শেষ হবে সে কথা কেউ বলতে পারে না। নির্মাণকাজে কত টাকা ব্যয় হয়েছে বা হবে সে কথা বলতে পারেনি। এলাকার লোকের কাছে বাড়িটি ‘টুটুলের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে এসেছে। বাড়িটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সবকিছুতেই দামি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ির দরজায় লাগানো হয়েছে কাঠের দরজা আর তাতে খোদাই করা হয়েছে বিভিন্ন নকশা। রয়েছে শ্বেতপাথরের হংস ফোয়ারা। হংস ফোয়ারার চারধারে পাথরের শানবাঁধানো পুকুর রয়েছে। পুকুরটি আরো নান্দনিক করে তুলেছে ভবনটিকে। ভবনের ভেতরের দেওয়ালে রয়েছে কারুকার্য করা এবং পোড়ামাটির ফলক বসানো হয়েছে। ফলকগুলো ইতিহাস বহন করছে। আপাতত ভবনটি ৪তলা পর্যন্ত করা হবে। ভবনের ভেতরে-বাইরে সব জায়গাতেই দামি তৈজসের ছাপ রয়েছে। মূল ফটকটি নাটোরের উত্তরা গণভবনের মতো। রাজমহলের মালিকের অনুমতি ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। বাড়ির সীমানাসহ প্রতিটি অবকাঠামো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা। দূর থেকে মনে হবে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। মূল ফটকটি নাটোরের উত্তরা গণভবনের নকশায় নির্মিত। ভেতরে চারতলা ভবনের প্রথম ইউনিট ও দ্বিতীয় ইউনিটের ওপরে চৌকোনা চারটি গম্বুজ উত্তরা গণভবনের (একদা রানির প্রাসাদ ছিল) মতো। মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পরই হাতের বাঁয়ে চোখে পড়বে শ্বেতপাথরের হংস ফোয়ারার চারধারে পাথরের শানবাঁধানো পুকুর। প্রাসাদের প্রথম ইউনিটে বড় দরজা দিয়ে প্রবেশের পর বিরাট হলরুম। দেওয়ালের পরতে পরতে নকশা। দ্বিতীয় ইউনিটে প্রবেশের পর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় নজরে আসবে পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা)। প্রতিটি ফলকে প্রাচীন ইতিহাসের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দোতলার ঘরগুলো সুপরিসর। এখানে ফাইভ স্টার হোটেলের লাউঞ্জ ও রিসেপশনের মতো রয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে চতুর্থতলায় গিয়ে মনে হবে বিদেশি হোটেলগুলোর মতো যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব।
এলাকাবাসী জানায়, শাখাওয়াত হোসেন টুটুল শখের বসে বাড়িটি নির্মাণ করছেন। তা ছাড়া তার ঢাকার ধানমন্ডিতে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গাজীপুরে টাটকা ফুড প্রোডাকশন ফ্যাক্টরি, এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজ, ইটভাটা এবং এএইচজেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। টুটুল পাশাপাশি এলাকাবাসীর জন্য ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করে দিয়েছেন। আশপাশের বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করেছেন। এলাকাবাসী আরো জানায়, রাজমহলটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছে।
কিচক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জানান, বাড়িটি দেখতে অনেক সুন্দর। মনে হয় বাংলার তাজমহল।
News Desk
শেয়ার করুন