আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠতে হবে, শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী
দেশকে ভালবাসার আহ্বান জানিয়ে শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখানে জাতির পিতার জন্ম, এখানেই তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তোমরা এ মাটির সন্তান। তোমাদের আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠতে হবে। দেশকে ভালবাসবে, দেশের মানুষকে ভালবাসবে। নিজেকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তোমরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারো। ভবিষ্যতে আমার মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারো।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮ জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের উদ্যেগে শুক্রবার (১৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধী সৌধ মসজিদ কমপ্লেক্স চত্তরে আয়োজিত এক শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
সমাবেশে উপস্থিত আভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রত্যেক আভিভাবক ও শিক্ষকরা শিশুদের খোঁজ-খবর রাখবেন। শিশুরা স্কুলে উপস্থিত আছে কিনা দেখবেন। উপস্থিত না থাকলে খোঁজ-খবর নিবেন। যাতে তারা বিপথগামী না হয়। কোনো প্রকার অপরাধ বা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।’
শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, ‘জাতির পিতা শিশুকাল থেকে শিশুদের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তা সকল শিশুদের জানাতে হবে।’
শিক্ষার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমারা যখনই ক্ষমতায় এসেছি তখনই দেশকে উন্নয়ন, খাদ্য ও শিক্ষা নির্ভর করতে চেয়েছি। আমরা সে ব্যবস্থাও নিয়েছি।১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথম প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন ও শিক্ষানীতি চালু করেন। আমরা ক্ষমতায় এসে আবার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছি। বিনামূলে বই বিতরণ করেছি। আমরা মায়ের হাসি প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ গরীর ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করছি। যা মোবাইল ফোনের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মায়েদের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।’
শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘শিশুদের সুস্বাস্থের অধিকারী হতে হবে। তাদের পুষ্ঠিবান হতে হবে।পড়াশোনার সাথে সাথে তাদেরকে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। যাতে তারা বিপথে চলে যেতে না পরে। প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। ভালবাসা দেখাতে হবে এবং তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। আমরা ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামুলক করেছি। কিন্তু ধর্মান্ধতা যেন না আসে। ধর্ম মানুষকে খুন করার অধিকার দেয়নি। প্রত্যেকটি ধর্ম শান্তির বাণী প্রচার করে।’
সকাল ১০ টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি প্রথম বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা দু’জনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য বইতে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন