বিজেপির ইশতেহারে বাংলাদেশের ছবি, ভারতজুড়ে তুমুল বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহারের ছবি নিয়ে পুরো ভারতবর্ষে চলছে তুমুল সমালোচনা। ইশতেহারে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের ছবি দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে চলছে ভারত জুড়ে বিতর্ক।
এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। নির্বাচন নিয়ে জটিলতা চলছেই। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চান না। এরই মধ্যে আবার বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ল বিজেপির ইশতেহার প্রকাশের পরই। কারণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের সংঘর্ষের এক ছবি। আর এটা নিয়েই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।
জি নিউজ ও ওয়ান ইন্ডিয়া ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দলীয় নেতাদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ গতকাল মঙ্গলবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তাদের লক্ষ্য এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য বিজেপিকে দ্বিতীয় স্থানে নেওয়া। কিন্তু ইশতেহারে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে যে ছবিগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, তাতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের এক সংঘর্ষের চিত্র। ছবিটি ২০১৩ সালের। রাজ্যর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি করে বিজেপি রাজনৈতিক দেউলিয়ার পরিচয় দিয়েছে।
মঙ্গলবার পঞ্চায়েত নিয়ে আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এরপর বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেটুকু মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, তা নিয়েই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত তারা। রাজ্যের শাসক দলকে কড়া টক্কর দিতে দল যে কোনোভাবে পিছপা হবে না, তা জানিয়ে দিয়েছেন গেরুয়া শিবির। সেদিনই প্রকাশ হয় নির্বাচনী ইশতেহার। ইশতেহারের প্রচ্ছদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছবি। তবে বিতর্ক বাধে অন্য একটি ছবি ঘিরে। সংঘর্ষের কয়েকটি ছবির একটি পশ্চিমবঙ্গের তো নয়ই, পুরো ভারতেও নয়। সেটি বাংলাদেশের। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একটি ছবি জায়গা করে নিয়েছে বিজেপির ইশতেহারে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে আদালত একজনের ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পরই ২০১৩ সালে ১১ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকেরা। পথে নেমেই তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে তারা রিকশাভ্যানে আগুন দেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষের অনেক ছবিটি তোলে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলো। সেগুলোর একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বিজেপির ইশতেহারে। ছবিটি বার্তা সংস্থা এএফপির। আর তা নিয়েই বেধেছে বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রশ্ন, কেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলাদেশের ছবি? এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের অশান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরতে এক বিজেপি নেত্রী ভোজপুরি সিনেমার ছবি তুলে ধরেছিলেন। পরে তা ধরাও পড়ে যায়। এবারও কি তেমনই ভুল, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।
২০১৩ সালে ১১ মার্চে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকেরা আন্দোলনের দিনেই বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পুলিশ আটক করেছিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে।
তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, সচেতনভাবেই রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো ভুল নেই। ইশতেহারের একটি অংশের লেখা পড়লে বোঝা যাবে ছবিটি কেন রাখা হয়েছে। বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা টেনেই ছবিটি রাখা হয়েছে। এ বক্তব্য সত্ত্বেও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের সংঘর্ষের ছবি টেনে আনার বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে নিচ্ছেন না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
News Desk
শেয়ার করুন