আপডেট :

        মাদক সম্রাট ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও

        মার্কিন হামলা অব্যাহত, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

        উপকূলে ধেয়ে আসছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম বার্থা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা

        এলিডা ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা

        লস এঞ্জেলেসে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১, বাস্তুচ্যুত ৬০ জন

        চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

        যুক্তরাষ্ট্রে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব: লেটুসে পরজীবী শনাক্তের দাবি ছিল ভুল, জানাল এফডিএ

        ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

        সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের আশঙ্কায় ২৭ অঙ্গরাজ্যে আইসবার্গ লেটুস প্রত্যাহার

        লস এঞ্জেলেসে সেতু থেকে ৪০ ফুট নিচে পড়ে আহত নারী, হেলিকপ্টারে উদ্ধার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের

        ডিজনিল্যান্ডে খাবার ও পানীয়ের দাম বেড়েছে, জনপ্রিয় আইটেমেও মূল্য বৃদ্ধি

        যুক্তরাজ্যে নতুন অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান

        মার্কিন-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমবে, আগামী সপ্তাহে আবার বাড়বে গরম

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকের গুলিতে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার মা ও তার প্রেমিক

        কানাডার দাবানলে ভয়াবহ ধোঁয়া, বিপর্যস্ত কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা

        ডায়রিয়ার ঝুঁকিতে টাকো বেলের মেনু থেকে লেটুস বাদ

        কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি

        টানা সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

শত্রু শত্রু খেলাটা মানুষ খুব ভালোবাসে এবং উপভোগ ও করে: আফজাল হোসেন

শত্রু শত্রু  খেলাটা মানুষ খুব ভালোবাসে এবং উপভোগ ও করে: আফজাল হোসেন

নন্দিত অভিনেতা, নির্মাতা, লেখক ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। অভিনয় ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব তিনি। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা সুকৌশলে তুলে ধরেন। এবার এক দীর্ঘ পোস্টে মানুষের গতি প্রকৃতি নিয়ে কথা বললেন এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘আমরা সকলেই মানুষ। এই দাবী মানুষদের মতো হাত পা, মুখ নাক, কান চোখ- ইত্যাদি আছে বলে করা যায় কিন্তু মানুষের কাঁধে কঠিন এক দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে। দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই। সে দায়িত্ব পালন করে আমরা কে কতখানি মানুষ? জগতের সবকিছুরই তিনি সৃষ্টিকর্তা কিন্তু সব সৃষ্টিকে প্রমাণ করে দেখাতে হয় না- কে কি? সমুদ্র সমুদ্রই- তার স্বভাব নদীর মতো হয় না। শকুন স্বভাব দিয়ে বোঝায়, সে শকুন। ঈগল পাখি আকৃতিতে বেশ বড় সড় কিন্তু ভাগাড়ে তার দেখা মেলে না বলে তাকে শকুন বলে কেউ ভুল করে না। মানুষ জগতের সবচেয়ে ক্ষমতাবান- গুণে মানে, সক্ষমতায় শ্রেষ্ঠ কিন্তু স্বার্থ বা লোভের ঠ্যালায় মানুষ ভাগাড়েও নেমে যেতে পারে। প্রত্যককে, প্রতিটি বিষয়ের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন সৃষ্টিকর্তা। সাপ চলে এঁকেবেঁকে বানর চলে লাফিয়ে। গাছ একা একা বেড়ে উঠতে পারে, লতার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পড়ে সাহায্যের। মানুষ মানুষের মতো দেখতে তাই মানুষ বলা হয়ে থাকে কিন্তু এ কথাও ঠিক- মানুষই মানুষের কর্মকান্ডে শিউরে ওঠে। বিরক্ত, বিব্রত ও ক্রুদ্ধ হয়- রেগেমেগে মানুষকে সম্বোধন করে থাকে ‘অমানুষ’ বলে।’

এরপর অভিনেতা লিখেন, ‘সৃষ্টিকর্তা চান, মানুষ প্রকৃত মানুষ পরিচয়ের মর্যাদা অটুট রাখার চেষ্টা করবে। সেজন্যেই তিনি মানুষদের বিবেক, বিচার বোধ, জ্ঞান অর্জনের সাধ্য দিয়েছেন। জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী থাকা, বিশ্বাসী হওয়া, সত্যের পথে চলা, কল্যাণকামী হওয়া কর্তব্য বলে জানান দিয়েছেন। মিথ্যা বলো না, প্রতারণা করো না, ঘৃণা ছড়িও না, তোমাদের দ্বারা যেনো অন্যের অনিষ্ট না হয়- এরকম বহু বার্তা তিনি কেবল মানুষদের জন্যই পাঠিয়েছেন। কি করা উচিত আর কি কি করা উচিত নয়- এসব বার্তা তার সৃষ্ট অন্য জীব জন্তু, প্রানী, গাছ পালা ইত্যাদি আর কাউকেও দেয়া হয় নি। কারণ তিনি অবগত- তার সৃষ্ট বাঘ কখনোই হাম্বা শব্দ করে ডাকবে না বা টিয়া পাখি কাকের মতো ডেকে উঠবে না। উল্টোপাল্টা কান্ডকীর্তি কেবল মানুষদের দ্বারাই সংগঠিত হবে। বিশেষ নজর, নিয়ম তাই তিনি মানুষের জন্য, একমাত্র মানুষের জন্যই জারী রেখেছেন।’

মানুষের কিছু স্বভাব উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘মানুষ খুবই অদ্ভুত, অত্যন্ত অনিশ্চিত স্বভাবের। মানুষদেরকে উদার হওয়ার উপকারিতা বুঝিয়েছেন কিন্তু তিনি জানেন- উদারতায় সন্তুষ্ট না হয়ে সংকীর্ণতা, হীনমন্যতা প্রকাশ করে করে তার সৃষ্ট মানুষ উঁচুদরের  আরাম পায়। খাটাশ নিজেকে শিয়াল ভাবে না। বিড়ালের মনে প্রশ্ন জাগে না, আমার চেয়েও বাঘ এতো বড় কেনো? বাঘ সিংহরা বাঘ ও সিংহের গৌরব নিয়ে বেঁচে থাকে। বাঘ ভাবে না- দ্যাখ দ্যাখরে, আমরা সুন্দর ডোরা কাটা দাগ পেয়েছি, তোরা পাসনি সিংহ। তোরা সস্তা, কম দামি। সিংহরা সে ছোট করতে চাওয়ার জবাবে বলে না- ওরে ইতরেরা, তোরা কি করে বুঝবি কেশর না থাকাতে তোদের কতটা গরীব গরীব দেখায়। কাউকে বড় ভাবা, কাউকে ছোট করে দেখার প্রবণতা প্রকটভাবে কেবল মানুষদের মধ্যেই রয়েছে। ও মরুক, সে জ্বলে পুডে ছারখার হয়ে যাক, তার সর্বনাশ হোক- এরকম হাজার হাজার অসভ্য চাওয়া কেবলমাত্র মানুষের মনেই খই ফোটার মত ফুটফাট করে ফুটতে থাকে। মানুষ যা নয়- ভাব দেখিয়ে, ভুলভাল বকে টকে তা প্রমাণের চেষ্টা করে। অনেক মানুষ অহরহই প্রমাণ দিতে চায়- সে ধর্মপ্রাণ। বলে বলেই প্রমাণ দিতে চায়- তাদের বলার সাথে করার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিক একই কায়দায় বহুজন প্রমাণ দিতে চায়, অতি বড় আকৃতির দেশপ্রেমিক তারা। এই অতি প্রমাণ করতে চাওয়াতেই বাধে যতরকমের বিপত্তি।’

আরও বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে, বৃটিশরা দেশভাগের জন্য ধর্মের অজুহাতে মানুষ ভাগের বুদ্ধিটা এঁটেছিল। সেই ভাগের আনন্দ, বদবুদ্ধি যেনো চিরস্থায়ীভাবে আসন গেড়ে বসে গেছে আমাদের রক্তে, মনে, মানুষদের বিশ্বাসে। প্রায় সকল মনে ডাকাতের মতো লাল চোখ পাকিয়ে, যাত্রার ঢঙে হা হা হা হেসে সর্বনাশা ভাগের বুদ্ধি সদাই পায়চারি করতে থাকে।’ 

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘দেশ কি চায়, মানুষ তা ভেবে দেখতে নারাজ। দশরকমের মতামত দেশে বিরাজ করবে- তাতে দেশের আপত্তি নেই, বহু দেশবাসীর তাতে ঘোর আপত্তি। কারণ আপত্তি জানালেই বিশেষ হয়ে ওঠা যায়। সে কারণেই মানুষ আনন্দ পায় ভাগের কথা ভেবে, ভাগের কথা বলে। কত কায়দায় ভাগের কথা বলে। ইনিয়ে বিনিয়ে বলে, কঠিন ভাষায় বলে। গড়ার চেয়ে ভাঙায় যেনো অশেষ সন্তোষ, আনন্দ। মানুষ বলে দেশে শান্তি বিরাজ করুক- কিন্তু মানুষই উঁচুদরের অশান্তির একমাত্র বিশ্বস্ত আমদানিকারক। একদিকে ধর্মের নামে কে ভালো আর কে মন্দ- নিজের বোধ দিয়ে বিচার আচার করা চলছে। নিজ মনে শান্তি ও পূণ্যবোধের জোগান দিতে অতি ধর্মীয় মানুষগণ মানুষে মানুষে ভাগের রেখা টানছে। অন্যদিকে আর একদল মানুষ দেশের নামে বুক ফুলিয়ে কত্তো বড় দেশপ্রেমিক- তা জানানো, বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছে।’

সত্য ও সুন্দরের পথে থাকার আহবান জানিয়ে এই অভিনেতা সবশেষে লিখেন, ‘শত্রু শত্রু খেলাটা খুব ভালোবাসে মানুষ। ভালোবাসে এবং উপভোগও করে। মানুষ হয়েও বুঝতে পারে না বা উপলব্ধি করে না, আমি মানুষ- এই পরিচয়টা টিকিয়ে রাখতে পারাটা মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরী ও সম্মানের। সে গৌরবজনক পরিচয়ের পরের ধাপ ‘আমি ধার্মিক’ বা ‘আমি দেশপ্রেমিক’। এ সে অজুহাতে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, একে অপরকে চরম শত্রু বানানোর চেষ্টায় রত থেকে থেকে নিজের ভিতরের স্বার্থবাদী স্বভাব, ঘৃণা ও অপ্রেমকে  দৈত্যের মতো বাড়তে দিচ্ছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষসকল। বোধহয় একেই বলে ‘দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা’। সবকিছু সৃষ্টি করে সৃষ্টিকর্তা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, কেবল যাদেরকে পেয়ারা বান্দা হিসাবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, ভালো করেই অবগত তিনি- তার প্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টার চেয়ে এরা নিজেদের প্রিয় হওয়ার বাসনায় অহরহই প্রবলভাবে ‘মত্ত থাকিবে’। সব জেনে বুঝেই তাই তিনি কেবলমাত্র তার পেয়ারা বান্দাদের জন্য সদা সতর্কতা জারি রেখেছেন। নানাভাবে কেবল ‘তাহাদেরকেই’ মনে করিয়ে দেয়া হয়- হে মানুষ, সত্য ও সুন্দরের পথে থাকো।’

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত