আপডেট :

        ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পচা খাবারে নাকাল লস এঞ্জেলেস

        ক্যালিফোর্নিয়ার শেল্টারে ১১৭ কুকুরের কবর, ৬০০টির খোঁজ নেই

        ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার ধাক্কায় শপিং সেন্টারে নিহত ৭৯ বছর বয়সী নারী

        যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা প্রশমনের পথে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মতি

        অবতরণের সময় ড্রোনের ধাক্কার দাবি জেটব্লু পাইলটের

        দেরিতে পৌঁছানো ডাকযোগে ভোট গণনার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, ট্রাম্পের বড় ধাক্কা

        অবৈধ বর্জ্য তদন্তে মিলল মাদক কারখানা, জব্দ ৮০০ পাউন্ডের বেশি মেথ

        হাসপাতালের নামে প্রতারণা, সতর্ক করল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        জাহাজে হামলার পর ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

        গোপন নথি রাখার দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা জন বোল্টন

        লস এঞ্জেলস দাবানল মামলায় বিচার ভেস্তে গেল, ফের বিচার হবে

        বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে টিপস সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বিদেশি ফুটবল ভক্তরা

        এলএইউএসডির নতুন সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেলেন আন্দ্রেস চেইট

        বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর হয়ে ভ্রমণকারী এক ব্যক্তির হাম শনাক্ত, সতর্কতা জারি

        ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে যাবে আইএইএ, জানালেন সংস্থার প্রধান

        বাড়ির দাম কমানোর ঐতিহাসিক বিলে সই স্থগিত করলেন ট্রাম্প

        ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ৮৭.৬ বিলিয়ন ডলার চাইলেন ট্রাম্প

        আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপন শুরু, ন্যাশনাল মলে ট্রাম্পের বিশাল সমাবেশ

        লস এঞ্জেলেসে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, সপ্তাহান্তে মিলতে পারে স্বস্তি

        লস এঞ্জেলেসে প্রকাশ্যে বৃদ্ধা পথবিক্রেতাকে মারধর, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ

রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানোর দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘সমষ্টিগতভাবে শাস্তি’ দেয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে যৌন নিপীড়ন চালানো হয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতারোধ বিষয়ক বৈঠকে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে।

নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের প্রতিবেদন আগাম হাতে পাওয়ার দাবি করে এ খরব দিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। জাতিসঙ্ঘের কালো তালিকায় আওতায় আনা হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার, বিদ্রোহী ও চরমপন্থী ৫১টি গ্রুপকে। এতে সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো প্রতিবেদনে অ্যান্তোনিও গুতেরেজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকর্মীরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অনেকের ওপর শারীরিক ও নৃশংস যৌন নির্যাতনের মানসিক ভীতি বহনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনী স্থানীয় মিলিশিয়াদের সাথে নিয়ে এই নিপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময় এসব নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।

গুতেরেজ বলেন, এসব কর্মকান্ড রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিপীড়ন, ভয় দেখানো আর সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দেয়ার কৌশলের অংশ ছিল। পরিকল্পিত নিপীড়নের মাধ্যমে নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করে রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বন্ধ করা হয়েছে।

মহাসচিব বলেন, যৌন সহিংসতার শিকার বেশিরভাগই ছিলেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারী ও কিশোরী। দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করা এসব ভিকটিমদের সাহায্য পাওয়ার কোনো সুযোগও ছিল না। নিপীড়নের হাত থেকে গর্ভবতী নারীরাও রোহাই পায়নি। রোহিঙ্গাদের উচ্চহারে গর্ভধারণের প্রবণতা সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠির জন্য হুমকি হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের কালো তালিকার আওতায় এসেছে কঙ্গোর সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় পুলিশসহ ১৭টি, সিরিয়ার সশস্ত্রবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগসহ সাতটি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও দক্ষিন সুদানের ছয়টি, মালির পাঁচটি, সোমালিয়ার চারটি, সুদানের তিনটি এবং ইরাক ও মিয়ানমারের একটি গ্রুপ। মিয়ানমারে কেবলমাত্র সশস্ত্রবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে তালিকায় রয়েছে বোকো হারাম, যারা একাধিক দেশে সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করে।

গুতেরেজ বলেন, গণধর্ষনের অধিকাংশ ঘটনায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসলামি স্টেট (আইএস) বা বোকো হারামের একজন সদস্যকেও আজ পর্যন্ত বিচারের আওতায় আনা যায়নি।

এর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা চৌকিতে বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলাকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানায়, সামরিক বাহিনী প্রচারণার মাধ্যমে সেখানকার সমাজকে রোহিঙ্গাবিদ্বেষী করে তুলেছে। আর সমাজের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া সেই বিদ্বেষই রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের কারণ। জাতিসঙ্ঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা অভিযান শুরু হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে পোড়ামাটি নীতিতে চালানো এ অভিযানকে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান জাতিগত নিধন হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়া হয় না। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। বলা হয়, তারা বাংলাদেশ থেকে এসে অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না থাকায় তারা রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত