মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
রঙের নাম শেখার পূর্বেই রঙ চিনতে পারে শিশুরা
মানুষের মস্তিষ্ক রঙের মধ্যেকার পার্থক্যকে বুঝতে পারে ভাষা বুঝতে পারারও অনেক আগে থেকেই। ছবি: সংগৃহীত।
সাম্প্রতিক একটি নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নতুন রঙ ও পরিচিত রঙ দেখে নবজাতকের প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করেছেন। কিছু ভাষায় রঙের কোন শব্দ নেই, আবার কিছু ভাষায় একটি রঙকেই অনেক শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা হয়। ফিরোজা থেকে সবুজকে পৃথক করতে সংস্কৃতি সাহায্য করে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করেন গবেষকেরা। যদিও মানুষের মস্তিষ্ক রঙের মধ্যকার পার্থক্যকে বুঝতে পারে ভাষা বুঝতে পারারও অনেক আগে থেকেই।
প্রোসেডিং অফ দ্যা ন্যাশনাল একাডেমী অফ সায়েন্স নামক জার্নালে ৮ মে তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে চাক্ষুষ উপলব্ধি এবং চেতনার অধ্যাপক এবং গবেষণা পত্রটির সহ লেখক আন্না ফ্রাঙ্কলিন বলেন যে, মানুষের টিকে থাকা এবং মৌলিক মানসিক বিষয়গুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করার সামর্থ্য রাখেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের মন কীভাবে তথ্যকে শ্রেণী বিভক্ত করে তা নির্ণয়ের জন্য রঙের পরীক্ষা করা হয়।তিনি বলেন, আপনি যদি শ্রেণী বিভক্ত করতে না পারেন তাহলে এই পৃথিবী খুবই বিভ্রান্তিকর স্থানে পরিণত হবে।
বারকলে এর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেন্ট বারলিন ও পল কে ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড কালার সার্ভে প্রবর্তিত করেন। বারলিন এবং কে ৩২০ টি রঙের নাম খুঁজে পান। এর জন্য তারা অ-শিল্পিত ভাষার নির্দিষ্ট শ্রেণীর ১১০ জন মানুষকে জড়ো করেন, যেমন – এই গ্রুপের ভাষাভাষীরা কোন রঙকে উষ্ণ এবং কোনটিকে ঠান্ডা বলেন।
ফ্রাঙ্কলিন বলেন, যদিও ভাষার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান তথাপি তাদের একটি সাধারণ টেমপ্লেটে কাজ করতে দেখা যায়। মানসিক পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত করা কার্যকরী, কারণ শিশুর যোগাযোগের দক্ষতা এবং ভাষা বিকশিত অবস্থায় থাকে বলে তারা একটি রঙ থেকে অন্য রঙের প্রভাদ বুঝতে পারে। যদিও পূর্ববর্তী গবেষণায় কিছু রঙের প্রতি শিশুদের প্রতিক্রিয়াকে পরীক্ষা করা হয়েছিলো এবং কেউই নিয়ম অনুযায়ী বর্ণালীর সবগুলো রঙ পরীক্ষা করতে পারেন নি। ফ্রাঙ্কলিন এবং তার দল নোভেলটি প্রিফারেন্স নামক একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি ব্যবহার করেন যা ইনফেন্ট সায়েন্সের একটি সাধারণ বিষয়।
এই কৌশলে গবেষকেরা শিশুকে একটি বস্তুর সাথে পরিচিত করান এবং কিছুদিন পর ক্রমান্বয়ে পরিচিত এই জিনিসগুলোর পাশাপাশি নতুন কিছু জিনিস ও তাদের দেয়া হয়। একটি ক্যামেরা এবং ট্রেকিং সফটওয়ারের মাধ্যমে পরিমাণ করা হয় যে, শিশুটি কতবার নতুন বস্তুটির দিকে তাকিয়েছে। এর ফলে এটাই নির্দেশ করে যে, শিশুরা নতুন বস্তুটির দিকে পরিচিতের দৃষ্টিতে তাকায় নাকি অনন্য হিসেবে তাকায়। একটি শিশু তার পছন্দের বস্তুটির দিকে তাকায় বেশি।
এই কৌশলটি অবলম্বন করে ফ্রাঙ্কলিন এবং তার সহকর্মীরা ৪-৬ মাস বয়সের ১৭৯ শিশুকে একটি নির্দিষ্ট রঙ যেমন – নীল রঙকে পরিচিত করে তুলেন। তারপর গবেষকেরা ১ মিনিটের ও কম সময়ে পরিচিত রঙের পাশাপাশি একটি নতুন রঙ যেমন- সবুজ রঙ নিয়ে আসেন। যদি শিশুরা সবুজ রঙের প্রতি তাকিয়ে থাকে তাহলে গবেষকেরা এই রঙটিকেই শিশুর জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করেন। কখনো নতুন রঙের পাশাপাশি পরিচিত রঙকেও আনা হয় এবং শিশু অল্প সময়ের জন্য দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। অর্থাৎ শিশুটি নতুন রঙকে আদর্শ হিসেবে মেনে নেয়নি।
প্রতিটা শিশুকে দুটি রঙ দেখানো হয় এবং বিভিন্ন দলের শিশুদের বিভিন্ন বর্ণের জোড়া দেখানো হয়। বিজ্ঞানীরা সর্বমোট ১৪ টি রঙকে সমান আলোয় দেখান। পরিশেষে গবেষকেরা বলেন যে, শিশুরা ৫ ধরণের রঙকে চিনতে পারে যেমন – লাল, হলুদ, সবুজ, নীল এবং বেগুনী। যেহেত এই গবেষণার প্রভাব বিজ্ঞানের অন্যান্য অংশ যেমন – ভাষাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, গণনা বিজ্ঞান, জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞান এবং দর্শন এর উপর ও পড়ে তাই ফ্রাঙ্কলিন আশা করেন যে এই আলোচনাটি পরবর্তী ধাপে যাবে।
তিনি বলেন, ‘এই ফলাফলটি আরো ব্যাপক ধারণা দিতে সাহায্য করবে যে কীভাবে জীববিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ভাষা পরস্পরের উপর কাজ করে’।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
লাইফস্টাইল ডেস্ক
শেয়ার করুন