মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
লস এঞ্জেলেস ভ্রমণে থাকতে হবে কোয়ারেন্টাইনে
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় যেকোনো রাজ্য থেকে লস এঞ্জেলেসে আগত দর্শনার্থীসহ সকল বাসিন্দাকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৫ নভেম্বর) থেকে নতুন এই নীতিমালা ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য কাউন্টিসহ লস এঞ্জেলেসে কার্যকর করা হবে।
লস এঞ্জেলেসের মেয়র এরিক গারসেটি জানান, লস এঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ভ্যান ন্যুই এয়ারপোর্ট ও রেলপথ ইউনিয়ন স্টেশন দিয়ে আগত সকল বাসিন্দাকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এরজন্য বাসিন্দাদের ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ প্রণীত নীতিমানা মেনে কোয়ারেন্টাইনের ফরম এ স্বাক্ষর দিতে হবে।
এদিকে, মধ্য-মার্চের পর আবারো লস এঞ্জেলেসে দ্বিতীয়বারের মতো জারি হতে পারে 'স্টে-এট-হোম' অর্ডার৷ আসন্ন থ্যাংকসগিভিং হলিডের আগেই নতুন নির্দেশনাটি আসতে পারে৷
কাউন্টি হেলথ ডিরেক্টর বারবারা ফেরেরা বলেন, এই সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আসন্ন থ্যাংকসগিভিং হলিডের সময়ে সংক্রমণের গতি ৭০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।
লস এঞ্জেলেসের মেয়র এরিক গারসেটি বলেন, যদি সংক্রমণ বেড়ে যায়, তবে ক্রিসমাসের আগে লস এঞ্জেলেসের হাসপাতালগুলোতে রোগী ঠাঁই দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে৷
মেডিকেল সেন্টারে কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খোলা মাঠে সাময়িক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হবে বলেও জানান মেয়র এরিক গারসেটি।
সংক্রমণ এড়াতে ইতোমধ্যে আরো কিছু নীতিমালা জারি করা হয়েছে লস এঞ্জেলেসে৷ নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বার এবং পানশালা রাত দশটার পর খোলা রাখা যাবে না৷
এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাড়ির বাহিরে সর্বোচ্চ ১৫ জন বাসিন্দা অথবা ৩টি বাড়ির বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে আড্ডা দিতে পারবে। এর আগে এই বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিলো না৷
এছাড়া নেইল পার্লার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কেয়ার শপকেও নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। এখন এই ধরণের সেবা পেতে আগে থেকে বুকিং দিতে হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বৃহৎ কাউন্টি লস এঞ্জেলেসসহ বেশকিছু কাউন্টিতে নভেম্বরে সংক্রমণ বেড়েছে আশংকাজনক হারে৷ ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর হচ্ছে, এই কারফিউ জারি থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
আসন্ন থ্যাংকসগিভিং হলিডের সময় করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কারফিউ জারি করা হয়েছে। অধিকাংশ কাউন্টিতেই এই কারফিউ জারি থাকবে।
তবে কারফিউ চলাকালীন জরুরি প্রয়োজনে খাবার ও বাজার করতে পারবে বাসিন্দারা। এছাড়া দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটা যাবে।
আপাতত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কারফিউ জারি হলেও সংক্রমণ বাড়লে আবার কারফিউ এর সময়কাল বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এলএবাংলাটাইমস /ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন