সাশ্রয়ী আবাসনের খোঁজে রিভারসাইডে বসতি, নিত্যসঙ্গী দীর্ঘ যানজট
উপসর্গ ছাড়াই ছড়াচ্ছে করোনা, লস এঞ্জেলেসের বাঙ্গালি কমিউনিটিতে আতঙ্ক
এলএবাংলাটাইমস
সপরিবারে লস এঞ্জেলেসে বসবাস করেন প্রবাসী বাঙ্গালি মহসীন আলী। জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশে আসার আগে নিয়মানুযায়ী করোনা পরীক্ষা করালেন তিনি। পরীক্ষার ফল আসার পর জানা গেলো মহসীন আলী ও তার পরিবারের অন্য আরেকজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ফল এসেছে করোনা নেগেটিভ।
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো মহসীন আলীর৷ এলএ বাংলা টাইমসকে জানালেন, দেশে যাওয়ার টিকিট কাটা হয়ে গেছে। ভ্রমণের আগে বাধ্যতামূলক করোনা পরীক্ষা করার পর জানতে পারলেন করোনা পজেটিভ তিনি।
মহসীন আলী বলেন, ‘আমার মধ্যে করোনার কোনো ধরনের উপসর্গ ছিলো না। জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা সর্দি-কাশির মতো কোনো লক্ষণই আমার শরীরে প্রকাশ পায়নি। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও করোনার কোনো ধরনের উপসর্গ ছিলো না। টেস্ট করানোর পর জানতে পারলাম আমিসহ পরিবারের আরেকজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত রয়েছি’।
প্রায় একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আরেকজন প্রবাসী বাঙ্গালি শ্যামল মজুমদারকে। তিনি বলেন, 'করোনার কোনো উপসর্গ ছিলো না আমার শরীরে। নেহায়েত সন্দেহের বশে করোনার টেস্ট করিয়েছিলাম। ফলাফল পাওয়ার পর জানলাম আমি করোনা পজেটিভ'।
শ্যামল মজুমদার আরো বলেন, 'অগত্যা পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে আমাকে। পরীক্ষা না করালে হয়তো পরিবারের অন্য সদস্যরাও আমার মাধ্যমে সংক্রমিত হতো'।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাঙ্গালি এলএ বাংলা টাইমসকে জানান, 'কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়াই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা। সন্দেহের বশে অথবা কোনো কাজে পরীক্ষা করালে তবেই শরীরে করোনার সংক্রমণ সনাক্ত হচ্ছে'।
এলএ বাংলা টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লস এঞ্জেলেস বাঙ্গালি কমিউনিটিতে উপসর্গ ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সন্দেহের বশে পরীক্ষা করানোর পর শরীরে মিলছে করোনার উপস্থিতি। ফলে নীরবে ছড়াচ্ছে করোনা, বাড়ছে সংক্রমণ। আর এই বিষয়টি নিয়ে লস এঞ্জেলেস বাঙ্গালি কমিউনিটিতে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক আর উদ্বেগ।
কোনো উপসর্গ না থাকায় কেউ বুঝতেই পারছেন না যে তিনি শরীরে করোনার ভাইরাস বহন করছেন। আর এর প্রভাব পড়ছে বাঙ্গালি কমিউনিটিতে। উপসর্গ ছাড়া আক্রান্তরা নিজেদের অজ্ঞাতেই অন্যান্যদের সাথে মিশছেন। পরিবারের সদস্যদের বাইরেও অনেকের সাথে জনসমাগম করছেন। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে। প্রতিটি পরিবারে অন্তত দুই-একজন করে করোনার আক্রান্ত হয়েছেন৷
লস এঞ্জলেস বাঙ্গালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. নাসিমা বেগম জানান, উপসর্গ ছাড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ শতাংশের শরীরে উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।
তবে তিনি বলেন, 'উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় একটি কমিউনিটিতে খুব দ্রুত করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে৷ নীরবে ছড়িয়ে যেতে পারে করোনার সংক্রমণ। একই সাথে আক্রান্ত হতে পারে অনেক বাসিন্দা। তাই বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যাবশ্যক'।
সেই সাথে বাসিন্দাদের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন নির্দেশিত করোনা সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি অবলম্বন করতেও আহবান জানান ড. নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, 'জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় চলা, কারো সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, বারবার হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক'।
ঘরে বসেই করোনা পরীক্ষা করাতে এলএ বাংলা টাইমসের আহবান:
লস এঞ্জেলেসের করোনা টেস্টিং সাইটগুলোতে করোনা পরীক্ষা করার পাশাপাশি ঘরে বসেই করোনা পরীক্ষা করানো যাবে। লস এঞ্জেলেস বাঙ্গালি কমিউনিটিকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এলএ বাংলা টাইমস ঘরে বসেই সবাইকে করোনা পরীক্ষা করিয়ে নিতে আহবান জানাচ্ছে। কারণ, উপসর্গ ছাড়াই করোনা আক্রান্ত হতে পারেন আপনি।
দ্য এল কাউন্টি হলিডে হোম টেস্ট কালেকশন এর আওতায় এবার বাসিন্দারা সহজেই ঘরে বসেই করোনা টেস্ট করাতে পারছেন৷ ফ্লুগেন্ট জেনেটিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাসিন্দাদের দুয়ারে করোনার কিট নিয়ে যাচ্ছেন৷ কাউন্টি টেস্টিং সাইটে যে কিট ব্যবহার করা হয়, সেই একই কিট বাড়িতেই ঘরে বসে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে৷
বিনামূল্যে জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত করোনা কিট বাসিন্দাদের কাছে ডেলিভারি করা হবে।
ঘরে বসে কিট পেতে করণীয় কী?
https://picturegenetics.com/covid19?c=LACPROMO এই ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসে করোনা টেস্ট কিট অর্ডার করা যাবে। ফ্যাডএক্স এর মাধ্যমে কিট ঘরে পৌঁছে যাবে। অর্ডার করার দুইদিনের মধ্যে কিট পাওয়া যাবে।
কিট অর্ডার করতে একটি ভ্যালিড মেইল এড্রেস এর প্রয়োজন হবে। তবে ডেলিভারির অর্ডার করার জন্য পোস্ট অফিস বক্স ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র ফ্যাডএক্স কিট বিতরণের দায়িত্বে থাকবে।
টেস্ট কিট পাওয়ার পর পরীক্ষা করাতে যা করতে হবে?
প্রথমত কিটের গায়ে লেখা কোডের মাধ্যমে অনলাইন টেস্ট অ্যাক্টিভ করতে হবে। এরপর নাক থেকে নিজের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। নমুনা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট একটি খামে করে ফ্যাডএক্স এর মাধ্যমে সেটি আবার ফ্লুগেন্টের ল্যাবে পাঠিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল জানা যাবে। মেইলের মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দিবে ফ্লুগেন্ট জেনেটিক্স।
কারা কিট পাবেন?
যাদের করোনার উপসর্গ আছে শুধু তাদেরকেই কিটের অর্ডার করতে বলা হয়েছে। তবে কারো সন্দেহ থাকলেও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছে এমন কারো সংস্পর্শে আসলে এই কিটের অর্ডার করা যাবে৷ এছাড়া বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরাও কিটের অর্ডার করতে পারবে।
বিশেষ সতর্কতা:
কারো মধ্যে যদি সংক্রমণ এর আশঙ্কা থাকে, তবে কিট না পৌঁছানো পর্যন্ত অন্য কারো সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চলা প্রয়োজন। কিট পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে অবশ্যই সেটি নমুনাসহ ফেরত পাঠাতে হবে৷
[বি.দ্র: করোনা টেস্টের কিট অর্ডার করতে কেউ অসুবিধার সম্মুখীন হলে এলএ বাংলা টাইমস এর করোনা হেল্প ডেস্কের 424-222-0572 এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে আহবান জানানো হলো]
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন