পুরোদমে খুলছে ক্যালিফোর্নিয়া: কী পরিবর্তন আসছে?
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর ১৫ জুন থেকে পুরোদমে খোলা হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক সহ সকল কিছুই।
তবে এখনো বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং টিকা গ্রহণ করেনি এমন বাসিন্দাদের উপর মাস্ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি উঠে যাচ্ছে৷ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে না, একই সাথে সক্ষমতার পুরো সেবা নিশ্চিত করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। যারা টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছে, তারা মাস্ক ছাড়া কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে৷ কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে মাস্ক ব্যবহার জারি রাখতে পারে বা টিকা গ্রহণের সত্যতা যাচাই করতে পারে।
আবার কিছু ক্ষেত্রে কেউ টিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করলেও তাদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। যেমন-
যেকোনো গণপরিবহণ ও প্লেন: বাস বা ট্রেনসহ যে কোনো গণপরিবহণে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত এই আইন জারি থাকবে। টিকাগ্রহণকারীদের জন্যও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
কে-টুয়েলভ স্কুল ও ডে-কেয়ার: কে-টুয়েলভ ও ডে-কেয়ারের ইনডোরে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীসহ সকলকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে খেলার মাঠ বা আউটডোরে কাউকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে না।
কারাগার ও হোমলেস শেল্টার: কারাগার এবং গৃহহীনদের থাকার জন্য হোমলেস সেন্টারের সকল বাসিন্দাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একই সাথে শোধানাগারগুলোতেও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
ইনডোর কর্মক্ষেত্রে: ইনডোর ওয়ার্কপ্লেসে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
একই সাথে আউটডোর কোনো লাইভ ইভেন্টে ১০ হাজারের বেশি দর্শক সমাগম হলে টিকা গ্রহণের সত্যতা যাচাই করা হবে বা করোনা নেগেটিভ টেস্টের প্রমাণ লাগবে।
তবে, ১৫ জুন করোনা বিধিনিষেধ রাজ্যজুড়ে শিথিল করে দিলেও জরুরি অবস্থা জারি থাকবে বলে জানান ডেমোক্রেটিক গভর্নর গেভিন নিউসাম।
তবে গেভিন নিউসামের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের আইনপ্রণেতারা কেনো জরুরি অবস্থা উঠিয়ে নেওয়া হবে না, তার উত্তর চেয়েছেন।
এর আগে জরুরি অবস্থা উঠিয়ে না নেওয়ার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি গেভিন নিউসামের অফিস বরাবর অ্যাসেম্বলিম্যান কেভিন কাইলি এবং আর-রকলিন।
কাইলি বলেন, 'বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের হতাশ মনোভাব চলে এসেছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন'।
করোনা মহামারি সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা তুলে দিতে আইনসভাও তৈরি হয়েছে৷ এই প্রস্তাবনার অন্যতম আহবায়ক কাইলি বলেন, 'আমার সহকর্মীদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি এই আইন পাশের মাধ্যমে জরুরি অবস্থা উঠিয়ে দিতে'।
একই রকম প্রস্তাবনা স্টেট সিনেটেও উত্থাপন করা হয়েছে। রিপাবলিকান ঘরানার আইনপ্রণেতারা জরুরি অবস্থা উঠিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এক টিকা লটারি অনুষ্ঠানে বলেন, 'করোনার সংক্রমণ কম মানে তা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। ১৫ জুন বিধিনিষেধ শিথিল হলেও রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে'।
ক্যালিফোর্নিয়ার জরুরি অবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সিনেটে মুখোমুখি অবস্থান নিবেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান রাজনীতিবিদেরা।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন