শুকিয়ে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার জলাশয়, ৪১ কাউন্টিতে খরার শঙ্কা
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলসের সান গ্যাব্রিয়েল জলাশয় উচ্চ তাপমাত্রা ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে। পুরো রাজ্য জুড়ে দেখা যাচ্ছে পানির অভাব।
এই বছর ক্যালিফোর্নিয়াতে পূর্বের তুলনায় বৃষ্টি ও তুষারপাতের হার কম। এর পাশাপাশি গ্রীষ্মকালের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে রাজ্যের অনেকাংশেই খরাবস্থা দেখা গিয়েছে।
নভেম্বরের আগে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বৃষ্টি ও তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
রাজ্যজুড়ে, অনেক লেক ও জলাশয়ে “বাথটব-রিং” দেখা যাচ্ছে। মূলত কোন জলাশয়ের পানির স্তর কমে গেলে, তাঁর চারপাশের পাথরগুলো একটি সাদা রিং তৈরি করে। এটিকেই “বাথটব রিং” বলে ।পাথরগুলো মূলত ক্যালসিয়াম কার্বনেট সহ ইত্যাদি খনিজ পদার্থের কারণে সাদা রং ধারণ করে। পানির স্তর যত কমে, ততোবেশি সাদা রিং দেখা যায়।
সান গ্যাব্রিয়েল জলাশয়ের ছবি দেখে আমরা আন্দাজ করতে পারি যে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় খরা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
মে মাসে, গভর্নর গ্যাভিন নিউসম রাজ্যের ৪১টি কাউন্টি খরা মোকাবিলার জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেছেন। উক্ত ৪১ কাউন্টিতে রাজ্যের ৩০ শতাংশ জনসংখ্যা বসবাস করে। গভর্নরের অফিস খরাবস্থার জন্য অস্বাভাবিক উষ্ণ তাপমাত্রাকে দায়ী করছে। এর পাশাপাশি তারা পর্বতের অতিশুষ্ক মাটিকেও দায়ী করছে। অতিশুষ্ক মাটিগুলো পর্বতের চূড়ায় জমে থাকা পানি শুষে ফেলে। এতে পানি স্বাভাবিকভাবে পর্বত থেকে জলাশয়ে পৌছাতে পারে না।
গভর্নরের অফিস একটি বিবৃতিতে বলে ‘এই বছরের এপ্রিল ও মে মাসে অস্বাভাবিক উষ্ণ তাপমাত্রা দেখা গিয়েছে। এরকম উষ্ণ তাপমাত্রা পূর্বে দেখা যায়নি।‘
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বৃহৎ জলাশয়গুলো যথা- ফলসোম লেক, লেক অরোভাইল ও শাস্তা লেকের পানির স্তরও কমে যাচ্ছে। মূলত তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার তেজন পাস থেকে লস এঞ্জেলেসে পানি সরবরাহ করা হয়। সান গ্যাব্রিয়েল জলাশয়ের পানি প্রধানত সান গ্যাব্রিয়াল ভ্যালিতে সরবরাহ করা হয়।
এলএবাংলাটাইমস/এমডব্লিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন