ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিক্সি ফায়ার: হুমকির মুখে হাজারো বাড়িঘর
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবানল ডিক্সি ফায়ারে এখন পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক বাড়ি-ঘর ও কাঠামো পুড়ে গেছে। আর খুব শীঘ্রই দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা না থাকায় আরো এক হাজার কাঠামো ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যালফায়ারের সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৮৭৬ টি কাঠামো সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও ৬১টি কাঠামোর আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১৬ হাজার ৩৫টি কাঠামো সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ডিক্সি ফায়ারে ৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ একর জমি পুড়ে গেছে। দাবানলটির মাত্র ২২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে ১১টি বৃহৎ দাবানল সক্রিয় রয়েছে। দাবাবল নিয়ন্ত্রণে ৯ হাজার ৫৪২ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর অফিসের ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সূত্রমতে, ১১টি দাবানলের কারণে ৮টি কাউন্টির অন্তত ১২ হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাসিন্দাকে ডিক্সি ফায়ারের জন্য অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিক্সি ফায়ারের কারণে বুটে, প্লুমাস, লাসেন এবং তেহামার কাউন্টির ৯ হাজার ৫০০ বাসিন্দা উচ্ছেদ হুমকির মুখে আছে৷ প্লুমাস কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, প্লুমাস কাউন্টির ৩৯ শতাংশ বাসিন্দাই উচ্ছেদের মুখে আছে৷
আগুনের কবলে পরে প্লুমাস কাউন্টির গ্রিনভিলে শহর মাটির সাথে মিশে গেছে। শহরের বানিজ্যিক এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে৷ সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার গ্রিনভিলে পরিদর্শন কালে গভর্নর গেভিন নিউসাম বলেন, আমাদের এই কমিউনিটি গড়ে তুলতে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে৷ জলনায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং এটি বিশ্ব বাসীকে জানাতে হবে।
নরদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে এই ডিক্সি ফায়ার ২৭ দিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। দাবানল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আরো দুই সপ্তাহ সময় লেগে যাবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
তবে আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন দমকল কর্মীরা। সপ্তাহের শেষে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা অন্তত ৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছাবে। তবে বৃষ্টি হবে না।
ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ৪০ হাজার দাবানলে ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন একর জমি পুড়ে গেছে।
ক্যাল ফায়ারের মুখপাত্র এডউইন যুনিগা বলেন, 'এমন ভয়াবহ আগুন আমাদের সবচেয়ে পুরাতন কর্মীরাও কখনো প্রত্যক্ষ করেনি'।
ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার সূত্র জানায়, ১৫টি রাজ্যে এখনো সক্রিয় দাবানল রয়েছে। ১০৭টি ছোট-বড় আগুনে পুড়ছে দুই মিলিয়ন একরের বেশি জমি।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা রাজ্যগুলোতে আগামী গ্রীষ্ম এবং বসন্তজুড়ে আরো বেশ কয়েকটি দাবানলের সূত্রপাত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷
শনিবার (৭ আগস্ট) ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম বলেন, 'আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই দাবানলগুলো পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে হচ্ছে'।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেভযে উষ্ণতা ও গরম শুরু হয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় দাবানল সৃষ্টি হচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। বৃহৎ ভোক্তা দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ না কমালে দাবানল পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন