নগদে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দিল উবার, চালকদের উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
স্পার্টান কলেজের ডিনকে গুলি করে হত্যা: প্রাক্তন নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
স্পার্টান কলেজ অব অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন ড. কামেইশা ক্লার্ককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় কলেজের প্রাক্তন নিরাপত্তাকর্মী জেসি ফিগুয়েরোয়ার (৪০) বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিস।
মঙ্গলবার জেলা অ্যাটর্নি জর্জ গ্যাসকন জানান, ফিগুয়েরোয়া শুধু ডিনকেই নয়, আরও এক নারী কর্মীকে গুলি করে আহত করেন। ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি সমস্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে আজীবন কারাদণ্ড।
জেলা অ্যাটর্নি হোচম্যান বলেন, “যে কেউ স্কুলে গিয়ে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রাখে। এই নৃশংস সহিংসতা কেবল স্পার্টান কলেজ নয়, গোটা কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সব ধরনের অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ যুক্ত করব এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেব।”
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্যই ডিন হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন কামেইশা ক্লার্ক। এর আগে তিনি নিজের শহর আটলান্টার ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করতেন।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা শোকাহত ও বিধ্বস্ত। একটি নারীর জীবনে এমন সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। কামেইশার উষ্ণতা, হাসি আর সহমর্মিতা প্রতিদিন আমাদের জীবনে আলো ছড়াত। তিনি ছিলেন এক অনন্য উপহার, আর তাঁর না থাকাটা অপূরণীয়।”
ঘটনাটি ঘটে ২ মে, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে, ইংল্যাউডের অ্যাভিয়েশন বুলেভার্ডে অবস্থিত কলেজ ক্যাম্পাসের এক অফিসে। ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে পুরো কলেজ লকডাউন করে দেওয়া হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হামলাকারী ফিগুয়েরোয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময়ও ফিগুয়েরোয়া তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন। গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর, তাঁর গাড়ি সন্ধান পাওয়া যায় কোরিয়াটাউনে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ইংল্যাউডের মেয়র জেমস বাটস জানান, এই ঘটনাটি সম্ভবত কর্মস্থলের সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গুলি চালানোর পেছনের কারণ এখনও পরিষ্কার নয়।
স্পার্টান কলেজের প্রেসিডেন্ট ক্রিস বেকার বলেন, “আমরা প্রতিটি জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকি, কারণ আমরা একটি অ্যাভিয়েশন স্কুল। তবুও এই হামলা আমাদের সবাইকে চমকে দিয়েছে। আমাদের ক্যাম্পাসে একে অপরের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা আছে — এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর এই ঘটনার প্রভাব আমাদের সকলের ওপরই পড়েছে।”
প্রসঙ্গত, লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক মাইল দূরে অবস্থিত এই ইংল্যাউড ক্যাম্পাসে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এখানকার কোর্সগুলো মূলত বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
শেয়ার করুন