নগদে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দিল উবার, চালকদের উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
‘টিকটক কাল্ট’ যাজকের বাড়িতে যৌন পাচারসহ একাধিক অভিযোগে ফেডারেল অভিযান
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেসের তুজুঙ্গা এলাকায় শুক্রবার ভোরে যৌন পাচারের অভিযোগে একটি বাড়িতে বড় পরিসরের অভিযান চালায় ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্ত বাড়িটির মালিক হচ্ছেন বিতর্কিত যাজক রবার্ট শিন, যিনি নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত ডকুসিরিজ “Dancing for the Devil: The 7M TikTok Cult”-এর মূল বিষয়বস্তু।
এল মন্টে পুলিশ বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ভোর ৬টার দিকে ম্যাকগ্রোরটি স্ট্রিটের ৭৭৪৪ নম্বর বাড়িটিতে যৌন পাচার ছাড়াও কর ফাঁকি, ডাক জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কিত অভিযোগে ওয়ারেন্ট কার্যকর করা হয়।
ঘটনাস্থলে স্কাই৫ হেলিকপ্টার প্রায় ৬:৪৫ মিনিটে উপস্থিত হয় এবং দেখা যায়, এফবিআই সদস্যরা বাড়ির ভেতর-বাহিরে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছেন—যাদের মধ্যে ভুক্তভোগী বা সাক্ষী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্তত ছয়জনকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধা মহিলা চেয়ারে বসা অবস্থায় ছিলেন, তার পায়ে একটি কম্বল ছিল। একজন নারীকে আবার শিশুকে আঁকড়ে ধরে কান্না করতে দেখা গেছে।
তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি, অভিযানের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না।
প্রপার্টি রেকর্ড অনুযায়ী, বাড়িটির মালিকানায় ছয়জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম রবার্ট শিন। সিরিজ সংশ্লিষ্ট একজন সূত্র নিশ্চিত করেছেন—এই বাড়িটিই সেই আলোচিত স্থান, যা নেটফ্লিক্স সিরিজে দেখানো হয়েছিল।
কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?
রবার্ট শিন, যিনি Shekinah Church-এর যাজক এবং প্রতিষ্ঠাতা, ২০২১ সালে 7M Films নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন—যেখানে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া তারকাদের জন্য কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেন। তবে ডকুসিরিজে সাবেক সদস্যরা অভিযোগ করেন, তিনি একটি কাল্টের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেন, মানসিক ও আর্থিকভাবে নির্যাতন চালান এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
সাবেক সদস্যদের অনেকে দাবি করেছেন—তাদের ব্রেইনওয়াশ, শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও শ্রমে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত রবার্ট শিনের বিরুদ্ধে কোনো ধর্ষণের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আনা হয়নি।
শিন নেটফ্লিক্স ডকুসিরিজে নিজে কিছু বলেননি, তবে 7M Films একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সিরিজটিকে “সাহিত্যিক অপবাদ এবং ব্যর্থ চাঁদাবাজির ফল” বলে উল্লেখ করে।
মামলা-পাল্টা মামলা ও পরবর্তী করণীয়
এদিকে, রবার্ট শিন বেশ কয়েকজন সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, দাবি করেছেন—তারা মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে ‘কাল্ট’ নেতা হিসেবে অপবাদ দিয়েছেন এবং একটি ‘ক্যান্সেল ক্যাম্পেইন’ চালাচ্ছেন। পাল্টা মামলায় শিন, তার স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, জোরপূর্বক শ্রম এবং মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া ৭ জুলাই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান Brown Neri Smith & Khan LLP-এর এক অংশীদার বলেন, “আমরা আনন্দিত যে ফেডারেল সরকার রবার্ট শিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং আশা করি, আমাদের ক্লায়েন্ট ও তার ভুক্তভোগীরা বিচার পাবেন।”
তবে শুক্রবারের অভিযান সরাসরি নেটফ্লিক্স সিরিজের ঘটনাবলির সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
শেয়ার করুন