মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
ইমিগ্রেশন অভিযানের ভয়ে লস এঞ্জেলেস স্কুলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (LAUSD) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসে ফিরছেন। তবে এবারে ফিরছেন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে, কারণ গ্রীষ্মকালজুড়ে ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির ফলে স্কুলগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
জেলার সুপারিনটেনডেন্ট আলবার্তো কারভালহো অনুরোধ করেছেন, স্কুল শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পরে পর্যন্ত, স্কুলের দুই ব্লকের মধ্যে যেন কোনো ইমিগ্রেশন অভিযান না হয়। তিনি বলেন, “ক্ষুধার্ত বা ভীত শিশু ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে না।”
গত সোমবার, আরলেটা হাই স্কুলের বাইরে ১৫ বছরের এক কিশোরকে ভুল করে ফেডারেল এজেন্টরা আটক করেছিল, পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শহর ও জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লস এঞ্জেলেস পুলিশ কিংবা স্কুল পুলিশ—কেউই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। এছাড়া, স্কুল ও শহরের প্রশাসনকে ফেডারেল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নিয়ম-কানুন জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন পরিবারগুলোর জন্য একটি “প্রস্তুতি প্যাকেট” দেবে, যেখানে থাকবে—নিজের অধিকার সম্পর্কিত তথ্য, জেলার সহায়তা তহবিলের যোগাযোগ নম্বর, জরুরি যোগাযোগ হালনাগাদ করার উপায় এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীকে অন্য কারও তত্ত্বাবধানে দেওয়ার প্রক্রিয়া।
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বাস রুট পরিবর্তন ও নতুন রুট যোগ করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকেরা রাস্তায় বের হতে ভয় পেলেও সন্তানদের নিরাপদে স্কুলে পাঠাতে পারেন। কারভালহো বলেন, “আমরা চাই না কেউ ভয়ের কারণে বাড়িতে থেকে যাক।”
এছাড়া, অনলাইন শিক্ষার সুযোগও বাড়ানো হয়েছে, যেখানে ভর্তি বেড়েছে ৭%। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১,০০০ এর বেশি কর্মকর্তা এবং ১০০-রও বেশি নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হবে, যেখানে ইমিগ্রেশন অভিযানের হার বেশি।
লস এঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট। এখানে ৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী আছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার অভিবাসী, এবং ধারণা করা হয়, তাদের এক-চতুর্থাংশের বৈধ কাগজপত্র নেই।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন