সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
পালিসেডস আগুনে LAFD–এর ভুল ঢাকতে চেয়েছিল নেতৃত্ব, তবু প্রকাশ পেয়েছে সত্য
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেসের প্যাসিফিক পালিসেডস এলাকায় ভয়াবহ আগুন লাগার পর উঠে এসেছে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ। প্রাণঘাতী ঝোড়ো হাওয়ার স্পষ্ট সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও লস এঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (LAFD) আগেভাগে অতিরিক্ত দমকল ইঞ্জিন ও কর্মী মোতায়েন করেনি। পরে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও তদন্তে সত্য প্রকাশ পেয়েছে।
আগুন লাগার দুই ঘণ্টার মধ্যেই LAFD–এর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে খবর—আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। কিন্তু তখনকার ফায়ার চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলি এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি তীব্র বাতাস, ইঞ্জিনের ঘাটতি ও বাজেট সমস্যাকে দায়ী করেন। সাবেক কর্মকর্তারা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, এটি ছিল দায় এড়ানোর চেষ্টা।
এই আগুনে ১২ জন মারা যান এবং পালিসেডসসহ আশপাশের এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক সু পাসকো, যিনি নিজের ৩০ বছরের বাড়ি হারিয়েছেন, বলেন, “তারা এখনো স্বীকার করেনি যে বড় ভুল হয়েছে। দায়টা ওপরের মহল থেকেই এসেছে।”
আগুনের এক বছর পূর্তির আগেও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কেন আগের একটি আগুন পুরোপুরি নিভে না যাওয়া সত্ত্বেও দমকলকর্মীদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল? কেন আগুন–পরবর্তী সরকারি প্রতিবেদনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সমালোচনা কমে যায়?
লস এঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাসের দপ্তর এখনো এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করেনি। প্রথম ৯১১ কল আসার সময় পালিসেডসে ফায়ার ইঞ্জিনগুলো কোথায় ছিল, তাও জানানো হয়নি। প্রথম দমকল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়; ততক্ষণে তীব্র বাতাস আগুনকে বাড়ির দিকে ছড়িয়ে দেয়।
মেয়রের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন পুরো সত্য জানতেই আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে LAFD এখন আর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছে না।
আগের আগুন থেকেই বিপর্যয়ের শুরু
নতুন বছরের দিন ভোরে পাহাড়ে একটি আগুন দেখা যায়, যাকে পরে ‘ল্যাচম্যান আগুন’ বলা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই LAFD জানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পরদিন দমকলকর্মীরা জানান, মাটি তখনো গরম ছিল। তবু তাদের সরে যেতে বলা হয়।
পাঁচ দিন পর, ৭ জানুয়ারি, সেই স্থান থেকেই আবার আগুন জ্বলে ওঠে। সেটিই পরে ভয়াবহ পালিসেডস আগুনে রূপ নেয়। শুরুতে LAFD বলেছিল আগুন পুরোপুরি নিভে গিয়েছিল, তবে পরে জানা যায় অভিযোগগুলো গোপন রাখা হয়েছিল।
আগাম প্রস্তুতি না নেওয়ার বড় ভুল
৬ জানুয়ারি আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিল—ভয়ংকর বাতাস আসছে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ মাইল হতে পারে বলেও জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে আগে লস এঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেভাগে বেশি ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠাত।
কিন্তু পালিসেডসে তা করা হয়নি। সেখানে সাধারণত মাত্র ১৮ জন দমকলকর্মী ডিউটিতে থাকেন। শহরজুড়ে অতিরিক্ত ইঞ্জিন থাকলেও, সেগুলোর বেশিরভাগ ব্যবহার করা হয়নি। পালিসেডসকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হলেও সেখানে একটি ইঞ্জিনও পাঠানো হয়নি।
প্রতিবেদন বদলানোর অভিযোগ
আগুনের পর তৈরি করা প্রতিবেদনের খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল—আগাম মোতায়েন না করাই ছিল বড় ভুল। কিন্তু পরে সেই প্রতিবেদন নীরবে বদলে ফেলা হয়। প্রকাশিত সংস্করণে বলা হয়, প্রস্তুতি নাকি যথেষ্টই ছিল।
প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা পরে জানান, তার মূল মতামত বদলে দেওয়া হয়েছে। সাবেক এক শীর্ষ ফায়ার কর্মকর্তা বলেন, “যদি একটি সরকারি সংস্থা সত্য লুকোতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতেও একই ভুল হবে এবং সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে।”
পালিসেডসের আগুন লস এঞ্জেলেস শহরের জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে আছে। তবে সেই শিক্ষা সত্যিই নেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন