সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
হন্ডুরাস, নেপাল ও নিকারাগুয়ার ৬০ হাজার অভিবাসীর বৈধ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেন আদালত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত হন্ডুরাস, নেপাল ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। বিচারক এই সিদ্ধান্তকে আগে থেকেই ঠিক করা বা “পূর্বনির্ধারিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ট্রিনা থম্পসন রায়ে বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এসব দেশের বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (TPS) বাতিলের উদ্যোগ নেয়। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক আইন এবং TPS আইনের পরিপন্থী।
চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা দেন, হন্ডুরাস, নেপাল ও নিকারাগুয়ার TPS কর্মসূচি বাতিল করা হবে। তার যুক্তি ছিল—এই দেশগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকট কাটিয়ে উঠেছে, তাই আর বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন নেই।
১৯৯০ সালে কংগ্রেস প্রণীত TPS কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরা সম্ভব না হলে বিদেশিদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিচারক থম্পসন TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। তিনি তখন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তিনটি দেশের চলমান সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেছে এবং সিদ্ধান্তের পেছনে জাতিগত বিদ্বেষের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে আগস্টে একটি আপিল আদালত সেই আদেশ স্থগিত করলে প্রশাসন TPS বাতিলের পথ পায়।
সর্বশেষ বুধবার দেওয়া সারসংক্ষেপ রায়ে বিচারক থম্পসন স্পষ্টভাবে বলেন, এই সিদ্ধান্ত “আইনসম্মত নয়”। তিনি লিখেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সচিব TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার জন্য TPS চালু হয় ১৯৯০–এর দশকের শেষ দিকে, ভয়াবহ হারিকেন মিচ–এর পর। ওই দুর্যোগে মধ্য আমেরিকায় হাজারো মানুষ মারা যান। নেপালের জন্য TPS দেওয়া হয় ২০১৫ সালে, ভয়ংকর ভূমিকম্পের পর।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই TPS কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, এই নীতি অবৈধ অভিবাসন বাড়ায় এবং ডেমোক্র্যাট প্রশাসনগুলো এটি অতিরিক্ত সময় ধরে বাড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, সুদান, সিরিয়া ও আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের TPS বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে যোগাযোগ করলেও বুধবার পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইউসিএলএর সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন ল অ্যান্ড পলিসির সহ-পরিচালক আহিলান আরুলানান্থাম বলেন, এই রায়ের ফলে হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও নেপালের TPSধারীরা আবারও বৈধভাবে কাজ করতে পারবেন এবং তাদের গ্রেপ্তার বা বহিষ্কার করা যাবে না।
তিনি বলেন, “আজকের রায় হাজারো দীর্ঘদিন ধরে আইন মেনে বসবাস করা অভিবাসীর TPS সুরক্ষা পুনর্বহাল করেছে।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন