সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
ভেনেজুয়েলা ইস্যু ও শাটডাউন সংকটে ওয়াশিংটনে ফিরছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও আসন্ন সরকার শাটডাউন সংকটের মুখে এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ফিরছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিষয়ে কংগ্রেসকে আগে থেকে না জানানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তারা অবিলম্বে কংগ্রেসকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যদিও রিপাবলিকান নেতৃত্ব জানিয়েছে, ব্রিফিংয়ের প্রস্তুতি চলছে, তবু অনেক আইনপ্রণেতা তথ্য পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে এনে মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা “চালাবে” এবং দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
এই অভিযানের আগে কংগ্রেসকে অবহিত না করায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সদস্যও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, “এই অভিযানের বিষয়ে কংগ্রেসকে আগেই জানানো উচিত ছিল এবং পরিস্থিতি এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।”
রোববারের টকশোগুলোতে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ও হাউসের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজ ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে বহু অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। শুমার প্রশ্ন তোলেন—যুক্তরাষ্ট্র কতদিন সেখানে থাকবে, কত সেনা প্রয়োজন হবে, কত খরচ হবে এবং এর সীমা কোথায়?
এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’-এ জেফরিজ বলেন, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা চালানোর পরিকল্পনা তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তার ভাষায়, “যিনি নিজ দেশের শাসনেই ব্যর্থ, তিনি অন্য দেশ চালাতে চাইছেন।”
ডেমোক্র্যাটরা জানায়, তারা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসনের সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করবে, যাতে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলা ইস্যুর পাশাপাশি কংগ্রেসকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বৃদ্ধি, সরকার শাটডাউন ঠেকানো এবং জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি নিয়ে বিতর্ক সামলাতে হবে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবারও সরকার শাটডাউন এড়ানো। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে নতুন ব্যয় বিল পাস না হলে ফেডারেল সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে মাত্র দুই মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন শেষ করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে, কারণ অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় লাখো আমেরিকানের স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান কেভিন কাইলি দুই বছরের জন্য কর ছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাস্থ্য বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর সরাসরি চাপ দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানান, বিমা ও ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ওয়াশিংটনে ডেকে এনে দাম কমাতে বাধ্য করবেন।
“ওরা অনেক বেশি মুনাফা করছে, এখন কমাতে হবে,”—ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে বলেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ও কারাগারে মৃত জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়েও বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্য বিচার বিভাগে ব্যাপকভাবে নথি গোপন রাখার অভিযোগ তুলেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খানা বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি প্রকাশ না করায় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ আনবেন।
বিচার বিভাগ জানায়, বিপুল সংখ্যক নথি পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অংশ গোপন রেখে প্রকাশ করতে সময় লাগছে।
হাউস ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া বলেন, নতুন বছর শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে।
তার ভাষায়, “আমরা খুব দ্রুত বুঝতে পারব—রিপাবলিকানরা সত্যিই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করবে।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন