যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:01pm

|   লন্ডন - 10:01am

|   নিউইয়র্ক - 05:01am

  সর্বশেষ :

  স্তন্যপান করিয়ে বিপন্ন শিশুকে বাঁচালেন আর্জেন্টিনার পুলিশ কর্মকর্তা   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু   সরকার কোনো আন্দোলনকে দানা বেঁধে উঠতে দেবে না : এরশাদ   বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক   ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার আন্দোলনে নিহত ১৬৬   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান   ফাইনালে পারল না বাংলাদেশি মেয়েরা   মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে : নাসিম   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই   সবচেয়ে বেশি আয় স্কারলেট জোহানসনের   শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি ড. কামালের   ছাত্র আন্দোলনে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে কফিশপের মালিক ফারিয়া রিমান্ডে   এবার ট্রাম্পের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!   হ্যান্ডশেক না করা সেই সুইডিশ তরুণী মামলায় জিতলেন

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ভাষার ভবিষ্যৎ কী

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১০ ১৫:১৩:৪৫

নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্বে কোন ভাষার কর্তৃত্ব সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হলে কোনো ভাবনা ছাড়াই হয়তো বলে দেওয়া যায় ইংরেজির নাম। বিশ্বজুড়ে ভাষা হিসেবে ইংরেজির এই প্রভাব কেন? কারণ, বিশ্ববাণিজ্যের ভাষা, মুদ্রাব্যবস্থা ও যোগাযোগ-সবই হয় এই ভাষাতেই।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও ভালো আয় অথবা উন্নত জীবন-একে অন্যের পরিপূরক। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখার জন্য বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিশাল অর্থ ও সময় ব্যয় করে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৫০টি ভাষা প্রচলিত অাছে। কিন্তু ইংরেজি এখনো সেখানে সর্বেসর্বা। অন্যান্য ইংরেজি ভাষাভাষী দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরাও ইংরেজি বলতে বলতেই বেড়ে ওঠে। প্রবণতার দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে ভাষা হিসেবে ইংরেজি সবচেয়ে এগিয়ে। সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের উত্থান ও ‘ইংরেজিই অভিজাত’- এমন মনোভাবের কারণেও সেখানে ইংরেজির প্রধান্য আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন একটু একটু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষদের মধ্যে বিভেদ আরও গাঢ় হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ইংরেজি ভাষার ভবিষ্যত কী?

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি ভাষা নেই। কিন্তু ইংরেজি সবসময়ই দেশটিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিভিন্ন অভিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দেশ। তাই সরকার কখনোই একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে জনসাধারণের ভাষা হিসেবে সবসময়ই ইংরেজির প্রাধান্য ছিল। যদিও আদি আমেরিকানদের ভাষা ‘নাভাজো’কে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে অনেক চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সুইডেনের কথা উল্লেখ করা যায়। সুইডেনে ইংরেজি রাষ্ট্রীয় ভাষা নয়, কিন্তু সেখানে শিশুদের খুব অল্প বয়স থেকেই ইংরেজি শেখানো হয়।

বহু দশক ধরে মার্কিন জনগণ শুধু ইংরেজিকেই একমাত্র প্রয়োজনীয় ভাষা হিসেবে জেনে আসছে। কিন্তু বর্তমানে এ চিত্র দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের গবেষক উইলিয়াম এইচ ফ্রে গত বছর বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আগামী দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ভিন্নতা এত বেশি হবে যে, অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তন হবে অনেক দ্রুত।’

এইচ ফ্রে অনুমান করে বলেছিলেন, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু ও নানা জাতিগোষ্ঠী থেকে আসা তরুণদের সংখ্যা হবে দেশের মোট তরুণ জনগোষ্ঠীর অর্ধেক। বলা হয়, ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরা (‘জেনারেশন জেড’ নামে পরিচিত) হচ্ছেন মার্কিন ইতিহাসে জাতিগতভাবে সবচেয়ে বিভক্ত প্রজন্ম। কারণ এ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিনিই অভিবাসী বংশোদ্ভুত অথবা মিশ্র জাতিসত্তার।

২০১১ সালে ‘দ্য ইউএস সেনসাস’ রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বাড়িতে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষার ব্যবহার বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ। ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার ব্যবহার এত বেড়ে যাওয়া শ্বেতাঙ্গ মার্কিন জাতীয়তাবাদীদের ক্ষেপিয়ে তুলেছে। কিন্তু আগে থেকেই বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এ বিভক্তি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, এখন সেটিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ মার্কিনিই শুধু ইংরেজি ভাষাটাই জানেন। গবেষণায় দেখা যায়, তৃতীয় প্রজন্ম আসতে আসতে অনেক অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা তাদের পূর্বপুরুষের ভাষা সম্পূর্ণরুপে ভুলে যাবে। দ্য ইউএস সেনসাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ নাগরিক বাড়িতে শুধু ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে।

২০১৩ সালে ইউগভের এক জরিপে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ মার্কিনি বাড়িতে শুধু ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে। কিন্তু জরিপে অংশ নেওয়া ৪৩ শতাংশ মার্কিনিই একাধিক ভাষা জানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নানা দিক থেকে বিভক্ত তরুণদের ভাষা প্রবণতাও পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে যেসব শিশু-কিশোররা যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠছে, তাদের মধ্যে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষা শেখার প্রবণতা বাড়ছে। ২০০০ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বাড়িতে শিশুদের ইংরেজির বাইরে ভিন্ন ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে।

‘আমেরিকান কাউন্সিল অন দ্য টিচিং অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর নির্বাহী পরিচালক মার্টি অ্যাবট বলেন, ‘আমরা অভিবাসীদের তাদের পূর্বপুরুষদের ভাষা ব্যবহারে উৎসাহিত করছি, যাতে তারা পুরোপুরি দ্বৈত ভাষাভাষী হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে। আগে কখনো ভিন্ন ভাষা ব্যবহারের জন্য এভাবে উৎসাহ দেওয়া হতো না।’

অ্যাবট ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিক থেকে শূন্য দশকের প্রথম অংশে হওয়া ‘ইংলিশ অনলি’ আন্দোলনের কথা মনে করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ রাজ্যের মানুষজন সরকারি কাজকর্মের জন্য শুধু ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের পক্ষে আন্দোলন করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি রাজ্যে সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি আইন দ্বারা স্বীকৃত। কিন্তু এখন অ্যাবটের মতো অনেকেই অভিবাসী বা নৃ-গোষ্ঠীর সন্তানদের ইংরেজির পাশাপাশি তাদের পূর্বপুরুষদের ভাষা ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছেন।

কেন নতুন ভাষা শিখতে হবে?
ইংরেজি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনো একক কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে, এমনকি হোন্ডার মতো প্রতিষ্ঠানও ২০২০ সালের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। কিন্তু তারপরও বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে কয়েকটি ভাষার প্রাধান্য বাড়ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আরবি, মান্দারিন, জাপানিজ ও স্প্যানিশ।

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিদাতাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তারা এমন প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছে, যারা একাধিক ভাষায় দক্ষ। এমনকি ইংরেজি ভাষাভাষী চাকরি প্রার্থীদের বেলাতেও নিয়োগদাতারা অন্য আরেকটি ভাষায় দক্ষতার বিষয়টি খুঁজেছেন।

নিউ আমেরিকান ইকোনোমির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দ্বৈত ভাষাভাষী চাকরিপ্রার্থীদের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’ যত চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছে, তাদের এক তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রেই শর্ত হিসেবে প্রার্থীর ইংরেজির পাশাপাশি স্প্যানিশ, আরবি, মান্দারিনের মতো একাধিক ভাষায় দক্ষতা চাওয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বৈত ভাষাভাষীরা মূলত বেশি সম্মানজনক ও বেশি বেতনের চাকরি পেয়ে থাকেন।

ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ডেভিড লাইটফুল বলেন, ‘একজন মার্কিনি মান্দারিন (চাইনিজ ভাষা) শিখলে তার সামনে অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। আমেরিকানরা চায়নিজ শিখলে সেটি অনেক ক্ষেত্রেই কাজে আসবে, কারণ চীনে প্রায় কেউই ইংরেজি জানে না।’

দ্বিতীয় ভাষার অনেক সম্ভাবনা থাকলেও মার্কিনিদের মধ্যে এখনো ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষা শেখার প্রবণতা তুলনামূলক কম।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণা বলছে, স্কুলের শিশুদের অন্য ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন শিশুকে স্কুলে অন্য ভাষা শেখানো হয়, যেখানে ইউরোপের ৯২ শতাংশ শিশুকে স্কুলে অন্য ভাষা শেখানো হয়।

একটি ভাষা থেকে বেরিয়ে আসা আরেকটি কারণে জরুরি হয়ে পড়েছে। মার্কিন তরুণদের মধ্যে আবেগের পার্থক্য দিন দিন সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাষাগত জটিলতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে এক পক্ষের আবেগ-অনুভূতি আরেক পক্ষকে পুরোপুরি স্পর্শ করতে পারে না।

অ্যাবট বলেন, এক ভাষার মানুষ অন্য ভাষার দেশে গেলে নিজেকে ‘জলহীন মাছ’ বলে মনে হয়।

দেশের বাইরে গেলে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষাটা অনেক সময় বেশ দরকারি হয়ে পড়ে। কিন্তু মার্কিনিদের মধ্যে ভ্রমণ প্রবণতা কম। মাত্র ৪০ শতাংশ মার্কিনির পাসপোর্ট আছে (যদিও পাসপোর্টধারীর সংখ্যা এখন দ্রুতগতিতে বাড়ছে)। অথচ অস্ট্রেলিয়ার ৫৭ শতাংশ মানুষের পাসপোর্ট আছে। আবার বিদেশ ভ্রমণ মার্কিনিদের জন্য বেশ ব্যবয়বহুলও। যেমন, যুক্তরাজ্যের মানুষ এক ঘণ্টার মধ্যেই ইচ্ছা করলে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের খরচ অনেক বেশি।

ভাষাগত সীমাবদ্ধতার সমাধান মূলত শিশুদের নিজেদের বাড়ি থেকেই শুরু করতে হবে। নিজের বাড়িতেই তাকে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষার চর্চা বাড়াতে হবে। স্কুলেও ভাষাশিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।

পুরো আলোচনার সারমর্ম টানলেও নানা তথ্য, গবেষণা ও জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটা দেখা যাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোতে নিকট ভবিষ্যতে ভাষা হিসেবে ইংরেজি হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে না। কিন্তু বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিবর্তন হচ্ছে, প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে, পৃথিবীকে নতুন নতুন জিনিস গ্রহণ করে নিতে হচ্ছে। ভাষা হিসেবেও ইংরেজির একাধিপত্য খুবই ধীরে হলেও কমতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যে বিভাজনের কথা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, সে হিসেবে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষার প্রভাব দেশটিতেই সবার আগে চোখে পড়বে। -সূত্র: বিবিসি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৭৯৭ বার

আপনার মন্তব্য