আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দামে মৃদু পতন: ৮৮% এলাকায় মূল্য কমেছে

        বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযানে গুলি, ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা

        প্রথম প্রজন্মের গৃহক্রেতাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি আবার চালু

        ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার’ না করতে বিশ্বনেতাদের কড়া বার্তা নিউজমের

        ২০২৫ সালের শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম কমেছে, বিক্রি বেড়েছে

        সেতু উন্নয়নকাজের জন্য রাতে ইউএস-১০১ ফ্রিওয়ে বন্ধ থাকবে

        ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লস এঞ্জেলেসের ডাউনটাউন

        অভিবাসন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিনেসোটার শীর্ষ নেতাদের সমন জারি

        চতুর্থ সন্তানের মা হতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স

        দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় হামের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে

        দুর্ঘটনায় ফার্মেসির ভেতরে ঢুকে পড়ল টেসলা, আহত ২

        ইন্ডিওর কাছে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        ‘এটা বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং’: অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে আতঙ্ক

        গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক হুমকি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ট্রাম্পের, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সতর্ক বার্তা

        মিনেসোটায় চার্চের প্রার্থনা পণ্ড: আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ

        স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২১, আহত শতাধিক

        লস এঞ্জেলেসে ফ্রিওয়ে দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, আহত ৫

        রিভারসাইড কাউন্টিতে নিখোঁজ বন্ধুদের খুঁজতে গিয়ে মৃত্যু হলো এক হাইকারের

        গুলিতে নিহত ১৪ বছরের জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড়, শোকাহত পুরো এলাকা

প্রবাসে হঠাৎ চোখে বাংলাদেশ!

প্রবাসে হঠাৎ চোখে বাংলাদেশ!

বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরে
এসেছে বসন্ত। সূর্য উঠেছে ঝলমলিয়ে।
শহরের শতাব্দী প্রাচীন ফ্লিন্ডার্স
স্ট্রিট স্টেশনের গম্বুজে ঝিলিক
দিচ্ছে রোদ। আকাশচুম্বী অট্টালিকার
ওপর দিয়ে উড়ে গেল একটা গাংচিল।
আনন্দ আর পানভোজনের জায়গা
হিসেবে সুখ্যাত মেলবোর্নের
সাউথব্যাংক এলাকায় ঢল নেমেছে
নানা দেশি পর্যটকের। পুরো দৃশ্যটা
আপনি দেখছেন ‘বাংলাদেশ’ লেখা
ঢাউস কাচের পর্দার ভেতর দিয়ে।
একজন বাংলাদেশির জন্য
অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরদেশে এর চেয়ে
চমৎকার দৃশ্য আর কী হতে পারে!
ঘটনাটা খুলেই বলা যাক।
গত মাসের মাঝামাঝি। পথ ভুলে চলে
এসেছি সাউথব্যাংক এলাকায়। সেই
ভুল এমন আশীর্বাদ হয়ে উঠবে কে জানত।
ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশনে নেমে
যাওয়ার কথা সোয়ানস্টন স্ট্রিট। ভুল
করে বেরিয়ে গেছি সাউথব্যাংক
বহির্গমন দিয়ে। সামনের সংযোগ
সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ভাবছি ঘুরপথে
আবার না কতখানি হেঁটে যেতে হয়।
তখনো জানি না আর মাত্র কয়েক কদম
সামনেই আমার জন্য অপেক্ষা করে
আছে ‘বাংলাদেশ’।
দুপুর বারোটা মতো বাজে। বসন্ত
বাহারে মুখরিত শহর মেলবোর্ন। রোদ
ঝিলিক দিচ্ছে ইয়ারা নদীর
পানিতে। খানিক দূরেই আকাশ ছুঁয়ে
দাঁড়িয়ে বিখ্যাত ক্রাউন ক্যাসিনো।
নদীর পাড়ে সবুজ ঘাসের জমিনে অলস
শুয়ে-বসে আছে অনেকে। নদীতে ঢেউ
তুলে একটা পর্যটকনৌকা চলে গেল।
ফিরতি রাস্তা খুঁজতে খুঁজতে
এগোচ্ছি, এর মধ্যেই আচমকা ব্রেক কষতে
হলো। সামনে ডান পাশ লেখা
‘বাংলাদেশ’। না, স্রেফ কোনো
দেয়াললিখন নয়। কেউ হুট করে আঁকিবুঁকি
কেটে গেছে তেমন তো নয়ই। ইয়ারা
নদীর উত্তর আর দক্ষিণ পাড়কে একসঙ্গে
বেঁধেছে এই সেতু। সেতুর বেষ্টনী
ঘিরে রেখেছে ঝকমকে স্বচ্ছ কাচের
পর্দা। সেই কাচের পর্দা বা দেয়ালেই
বড়সড় ইংরেজি হরফে লেখা
‘বাংলাদেশ’। ঘটনা সেখানেই শেষ
নয়। নিচে আবার আরেকটু ছোট হরফে
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের নাম
লেখা—ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট,
ময়মনসিংহ...। কী অভাবনীয় ব্যাপার!
দেখিবামাত্র যেন গৌরবের ক্ষুধাটা
মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। এ সময়কার
একটা জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনচিত্রে
দেখেছি একজন প্রবাসী
বাংলাদেশি বলছে, পেটের ক্ষুধা
ছাড়াও আরও একটা বড় ক্ষুধা আমাদের
আছে। সেটা ‘গৌরবের ক্ষুধা রে ভাই,
গৌরবের ক্ষুধা।’ সেই গৌরবের ক্ষুধার
বশেই দাঁড়িয়ে যাওয়া। বিশ্বের
সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের
প্রাণকেন্দ্রে এমন যত্ন করে লেখা
বাংলাদেশের নাম, গৌরব করার মতো
ব্যাপার তো বটেই।
বাংলাদেশের নাম
চলচ্চিত্র নির্মাণ-বিষয়ক কোর্স করতে
তিন মাসের জন্য মেলবোর্ন শহরে
এসেছি। যাওয়ার কথা এসিএমআই
(অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর মুভিং
ইমেজ) ভবনে। সেটা তোলা থাকল।
মনের খুশিতে বিনা কারণেই ব্রিজে
দু-তিনটে চক্কর দিয়ে ফেললাম। পথ
চলতি নানা রঙা মানুষজন কী ভাবল
কে জানে।
মেলবোর্ন নগরীতে দ্বিতীয়বারের
মতো এসেছি। আগে শুনিনি,
বাংলাদেশিদের জন্য এমন দারুণ একটা
উপহার ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার
রেখে দিয়েছে মেলবোর্ন শহরের
প্রাণকেন্দ্রে। শুরু করলাম খোঁজখবর। মূল
ভরসা মেলবোর্ন শহরের অফিশিয়াল
ওয়েবসাইট।
১৮৫১ সালে স্বর্ণ খনির সন্ধান মেলার
পর থেকে অস্ট্রেলিয়া হয়ে ওঠে
সারা বিশ্বের মানুষের জন্য লোভনীয়
এক ভূ-খণ্ড। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের
ইতিহাস বলছে, ইস্পাতের তৈরি এই
সেতু প্রথম চালু হয়েছিল আজ থেকে
প্রায় ১২৭ বছর আগে। সেতুটি তৈরি
করেছিলেন ডেভিড মুনরো। বয়সের
ভারে অকেজো হয়ে যাওয়ার পর এই
সেতুটি নতুনভাবে তৈরির দাবি ওঠে
বছর বিশেক আগে। ২০০৬ সালে নতুনরূপে
চালু হয় এই সেতু।
স্যান্ডরিজ সেতুর ১২৮টি কাচের পর্দা
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন
দেশের অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব
করে। দেশের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে
শহরের নামও। বাংলাদেশ অংশে
শহরগুলোর নামের মধ্যে আছে—ঢাকা,
চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা,
নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনা।
সেতুর কাচের পর্দায় দেওয়া তথ্যমতে,
১৯৯০ সাল থেকে ব্যাপক হারে
অস্ট্রেলিয়ায় আসতে শুরু করেন
বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশিদের
বড় অংশ এখানে পাড়ি জমিয়েছেন
ছাত্র এবং পেশাজীবী হিসেবে।
কাচের পর্দায় লেখা আছে সেই তথ্যও।
২০০১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায়
অভিবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা ৯
হাজার ৭৮। সংখ্যাটা খুব কম মনে হলো।
সে কারণেই পরে শরণাপন্ন হয়েছিলাম
ডক্টর মুনির আহমদ খানের। মেলবোর্নে
বসবাসরত এই বাংলাদেশি মোনাশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো।
তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য
জায়গাজুড়ে আছে অভিবাসন। তিনি
জানালেন, অস্ট্রেলিয়ায়
বাংলাদেশিদের সংখ্যা এখন প্রায়
৫৫ হাজার।
নানা রঙের অভিবাসী
বাঙালি কিংবা আইরিশ, ইংরেজ
অথবা চৈনিক—কত জাতের, কত রঙের
মানুষ যুগে যুগে এসে মিশেছে
অস্ট্রেলিয়ার জনস্রোতে। সেই সব
বহুবিধ মানুষের প্রতীক হিসেবে
স্যান্ডরিজ সেতুতে যুক্ত হয়েছে ভাস্কর্য
‘ট্র্যাভেলস’ বা ভ্রমণার্থী। খ্যাতিমান
লেবানিজ ভাস্কর নাদিম করম
অভিবাসীদের এই বৈচিত্র্যের কথা
মাথায় রেখে তৈরি করেছেন
ইস্পাতের সিরিজ ভাস্কর্য। নানা
আকৃতি আর নানা ভঙ্গিমার ১০টি
ভাস্কর্যের প্রথমটির নাম গায়িপ। সেটি
প্রতিনিধিত্ব করে অস্ট্রেলিয়ার আদি
বাসিন্দা বা এবরজিনাল
অস্ট্রেলিয়ানদের এখানে বসবাস শুরুর
সময়কে। ধারণা করা হয়, ৫০ বা ৭০
হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস
শুরু করেন তাঁরা। ১৯৭৫-২০০৫ পর্যন্ত সময়কে
বিবেচনা করা হয়েছে এশিয়া ও
মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের অভিবাসনের সময়
হিসেবে। যাদের একটি বড় অংশ
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, সিডনি হারবার
ব্রিজ, গ্রেট ওশান রোড, ফিলিপ
আইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় দেখার মতো
জায়গা বা স্থাপনার তালিকা যেন
শেষ হওয়ার নয়। কিন্তু তিন মাসের
অস্ট্রেলিয়া সফরে অন্যতম আনন্দময়
অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল মাত্র ১৭৮
মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। গায়ে
সগৌরবে ঝলমল করছে বাংলাদেশের
নাম। এর চেয়ে বড় দর্শনীয় স্থান একজন
প্রবাসীর কাছে আর কোনটা হতে
পারে?
তথ্যসূত্র: সিটি অব মেলবোর্নের
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ওনলি
মেলবোর্ন ডট কম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত