আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দামে মৃদু পতন: ৮৮% এলাকায় মূল্য কমেছে

        বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযানে গুলি, ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা

        প্রথম প্রজন্মের গৃহক্রেতাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি আবার চালু

        ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার’ না করতে বিশ্বনেতাদের কড়া বার্তা নিউজমের

        ২০২৫ সালের শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম কমেছে, বিক্রি বেড়েছে

        সেতু উন্নয়নকাজের জন্য রাতে ইউএস-১০১ ফ্রিওয়ে বন্ধ থাকবে

        ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লস এঞ্জেলেসের ডাউনটাউন

        অভিবাসন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিনেসোটার শীর্ষ নেতাদের সমন জারি

        চতুর্থ সন্তানের মা হতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স

        দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় হামের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে

        দুর্ঘটনায় ফার্মেসির ভেতরে ঢুকে পড়ল টেসলা, আহত ২

        ইন্ডিওর কাছে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        ‘এটা বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং’: অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে আতঙ্ক

        গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক হুমকি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ট্রাম্পের, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সতর্ক বার্তা

        মিনেসোটায় চার্চের প্রার্থনা পণ্ড: আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ

        স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২১, আহত শতাধিক

        লস এঞ্জেলেসে ফ্রিওয়ে দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, আহত ৫

        রিভারসাইড কাউন্টিতে নিখোঁজ বন্ধুদের খুঁজতে গিয়ে মৃত্যু হলো এক হাইকারের

        গুলিতে নিহত ১৪ বছরের জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড়, শোকাহত পুরো এলাকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতি হত্যাকাণ্ডে বড় ছেলের দায় স্বীকার

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতি হত্যাকাণ্ডে বড় ছেলের দায় স্বীকার

ক্যালিফোর্নিয়ার সানহোসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দম্পতি হত্যাকাণ্ডে তাদের বড় ছেলের স্বীকারোক্তি মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বড় ছেলে হাসিব বিন গোলাম রাব্বি (২২) তার বাবাকে কয়েক দফা গুলি চালিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তিতে হাসিব মাকে হত্যায় জড়িত ছিলেন না এবং হত্যাকাণ্ডে তার ছোট ভাই ওমর (১৭) জড়িত নয় বলেও দাবি করেছেন।

শুক্রবার সান হোসের পুলিশ সার্জেন্ট পেট্রিক গুয়ের নিহত দম্পতির দুই ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে ‘হত্যার অভিযোগ’ ও দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দাখিল করেছে।

বাবা গোলাম রাব্বী (৫৯) ও মা শামীমা রাব্বী (৫৭) কে হত্যার দায়ে এর আগে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে তাদের জামিনঅযোগ্য আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে গুয়ের জানান। অভিযোগপত্রে ওমরকেও ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

‘অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নির্দেশে হাসিব তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন, এর আগে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে (হাসিব) আঘাত করে বলেও সে দাবি করেছে।’

অন্যদিকে ওমর তার বড় ভাইকে বাবা-মা হত্যার জন্য দায়ী করলেও ‘অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি’র উপস্থিতির কথা জানায়নি বলেও গুয়েরের ভাষ্য।

‘সে (ওমর) তদন্তকারীদের বলেছে, হাসিবই বাবা-মাকে খুন করে তাকে গ্যারেজ পরীক্ষা করে দেখতে বলে, যেন তারা ওকল্যান্ডের এনিম কনভেনশনে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত লাশের রক্ত চুইয়ে বাইরে না যায়। এই গ্যারেজেই হাসিব তার বাবাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।’

গুয়ের বলেন, বাবা গোলাম রাব্বীকে হত্যার পর হাসিব ওমরকে মৃতদেহ পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে বলে, এরপরই সে (হাসিব) তার মাকে হত্যা করে।

তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে গুয়ের।

এর আগে কারাগারে থাকা অবস্থায় সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিব তার ছোট ভাইকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে পুরো ঘটনা ‘খুলে বলা’র আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

‘আমি পুরো ঘটনা সবাইকে জানাতে চাই, তবে আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়া তা বলবে না।’

তাৎক্ষণিকভাবে দুই ভাইয়ের পক্ষে থাকা আইনজীবীর নাম জানা যায়নি।

সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টের এটর্নি অফিসের মুখপাত্র শন উইবি জানান, অভিযুক্ত দুই ভাই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

কয়েকদিন ধরে গোলাম রাব্বির কোনো খোঁজ না পেয়ে গত রবিবার বিকেলে তার কয়েকজন বন্ধু সান হোসের বাড়িতে যান।

সেখানে গিয়ে তারা বাড়ির দরজা খোলা পান এবং লন্ড্রি রুমে কাঠের মেঝের ওপর দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন।

সেখানে একটি চিরকূট পাওয়া যায় যাতে লেখা ছিল- ‘দুঃখিত, আমার প্রথম খুনটি ছিল বিরক্তিকর’।

এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তারা ওই বাড়ির দেওয়ালে লেখা আরেকটি বার্তা দেখতে পান। সেখালে লেখা ছিল- ‘তোমার মতো আমি মিথ্যাবাদী হতে পারব না। আমি ওদের (মা-বাবা) অজ্ঞাতে অথবা সম্মতি ছাড়া কাউকে ভালবাসতে পারব না।’

রাব্বি দম্পতির লাশ যখন পাওয়া যায়, তখন থেকেই তাদের দুই ছেলে নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন পর ২৬ এপ্রিল প্রথমে ছোট ছেলের সন্ধান পায় পুলিশ। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড় ছেলে হাসিবকে বুধবার সন্ধ্যায় ট্র্যাসি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সান্তা ক্লারা সিটির মুসলিম কম্যুনিটি অ্যাসোসিয়েশনে শুক্রবার নিহত দম্পতির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন বলে সান হোসে মারকিউরি নিউজ জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত