নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ছাত্র তানভির নিখোঁজ, দিশেহারা মা-বাবা
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে এক বাংলাদেশী-আমেরিকান শির্থী নিখোঁজ হয়েছে। তানভির হোসেন এর বয়স ২১ বৎসর , জন্ম তারিখ ৩০ নভেম্বর ১৯৯৬ । তানভীর হোসেন রাব্বী বাবার হাত ধরেই ঘর থেকে বের হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কিছুÿণ পর থেকেই তার আর হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও প্রিয় সন্তানকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশী অভিবাসী আলতাফ হোসেন। জানা গেছে, নিখোঁজ শিÿর্থী তানভীর কয়েক বছর ধরেই মানসিক বিষাদগ্রÍতায় ভুগছে। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোন সন্ধান পচ্ছে না নিউইয়র্ক সিটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও এনওয়াইপিডি’র তরফ থেকে লিফলেট ও হ্যান্ড বিল বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাব্বীর পরিবারে চলছে কান্নার রোল। খবরটি মঙ্গলবার টাইম টেলিভিশনের রাত ১০ খবরে প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রচার করা হয়। খবর বাপসনিউজ’র।
জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রæয়ারী রোববার অপরাহ্নে থেকে তানভীর হোসেন রাব্বী নিখোঁজ রয়েছে। ঐদিন দুপুুরে তার বাবার সাথে বাসার অদুরেই সেলুনে চুল কাটার কথা ছিলো। কিন্তু কি মনে করে জেনো যে চুল কাটতে রাজী না হওয়ায় বাবা আলতাফ হোসেনকে সেলুনে রেখেই বাসায় চলে আসে। কাকাও পুত্রের কথায় তাকে (রাব্বী) বাসায় যেতে বলে। পরবর্তীতে আলতাফ হোসেন বাসায় ফিরে দেখে রাব্বী বাসায় ফিরেনি। চলতে থাকে খোঁজাখুজি। মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত রাব্বীর কোন খোঁজজ না পেয়ে রাব্বীর পরিবারের পÿ থেকে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়। তানভীর হোসেন রাব্বী ব্রঙ্কসের ডিষ্ট্রিক্ট ৭৫-এর লুইস এন্ড ক্লার্ক স্কুলের ইলেভেন গ্রেডের ছাত্র। তার জন্ম বাংলাদেশের বরিশালে। ছোট বেলায় বাবা-মা’র হাত ধরে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। সিটির ব্রঙ্কেসর ব্রীক্স এভিউনিতে তাদের বসবাস।
কমিউনিটির পরিচিত মুখ, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সদস্য ও সম্মিলিত বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি এবং তানভীর হোসেন রাব্বীর পিতা আলতাফ হোসেন মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রæয়ারী) সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের কাছে তার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বর্ণনাকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি তার পুত্রকে ফিরে পেতে সকল মহলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
রাব্বীর মা সৈয়দা সুফিয়া বানু কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফিরে চাই। আমি ওর জন্য ভাত খেতে পারি না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই রাব্বী নিজে খেতে চাইতো না, আমাকেই ওকে খাইয়ে দিতে হতো। কয়েকদিন যাবৎ বেশী কথাও বলতো না। বাসায় বসে মোবাইল ফোনে গান শুনতো। ঘটনার দিন রোববার সকালে রুটি-চা না¯Íা খাইয়ে দেয়ার পর মোবাইল নিয়ে গান শুনে সময় কাটিয়েছে। বেলা আড়াইটার দিকে চুল কাটার জন্য বাবার সাথে বাইরে গিয়ে ও আর ফিরে আসেনি। ও আসবে ফিরে বলে আমি ভাত নিয়ে রাত পর্যন্ত অপেÿা করেছি। ও আসেনি বলেই আমিও ভাত খেতে পারিনি’।
রাব্বীর বড় ভাই আরিফ হোসেন বাপ্পী বলেন, কয়েক বছর আগে ওর আগের স্কুলের দুই গ্রæপের মারামারি ঘটনার পর তানভীর হোসেন রাব্বী বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে এবং তারপর থেকেই কম কথা বলতে থাকে। এজন্য তার চিকিৎসা চলছে। ব্যক্তিগতভাবে রাব্বী কোন অঘটনের সাথে জড়িত ছিলো না এবং বাসা আর স্কুল ছাড়া বাইরে খুব একটা সময় কাটাতো না। তবে মানসিকভাবে পির্যন্ত হওয়ার পর রাব্বী মাঝে মধ্যে বাইরে গেলে একটু দেরী করে বাসায় ফিরতো।
বাপ্পী বলেন, রোববার দিন রাতে রাব্বী বাসায় না ফিরায় আশ-পাশের এলাকা যতদূর সম্ভব হেটে হেটে ওর খোঁজ করেছি, কিন্তু পাইনি। তারপর ৯১১-এ কল করে রাব্বীর নিখোঁজ হওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছি।রাব্বীর পরিবার তার খোঁজ পেলে ৩৪৭-৯৪৪-৪৬৬৮ অথবা ৩৪৭-২৮৪-৫৯০১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদি কেহ তাহার সন্ধান পান তাহলে দয়া করে নিম্নে বর্নিত নং বা ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল ।
এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন