সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের আশঙ্কায় ২৭ অঙ্গরাজ্যে আইসবার্গ লেটুস প্রত্যাহার
মার্কিন-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপেও হামলা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী বলে অভিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সংশ্লিষ্ট ইউনিটকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় আরও একজন মার্কিন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়, ‘ক্যাম্প উদাইরি’ ও ‘আলি আল সালেম এয়ার বেস’-এ বড় পরিসরে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম জানায়, টানা অষ্টম রাতের এই অভিযান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত শাস্তি দিতেও এই অভিযান চালানো হয়েছে।
গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ জোরদার করেছে, আর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে। জুন মাসে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্প আরও দৃঢ় করেছে।”
এদিকে, চলমান সংঘাতে মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। এর আগে নিখোঁজ থাকা এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে, উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ইরানের অভিযোগ, সেতু ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইরানের সমালোচনা করেছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক মানুষ বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ। তবে কোনো বেসামরিক স্থাপনা যদি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে সেটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে, জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। শনিবার রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন