Updates :

        মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে আগুন, ২০ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু

        রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

        লস এঞ্জেলেসে গ্যাসোলিনের মূল্য ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ বাড়লো

        ২০২২ সালেও চলতে পারে করোনা মহামারি: ডব্লিউএইচও

        লালমনিরহাটে আকস্মিক বন্যায় দিশেহারা মানুষ

        'ট্রুথ সোশ্যাল' নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিরছেন ট্রাম্প

        তালেবানের সাথে বৈঠক করল ভারত

        লস এঞ্জেলেস বন্দরে ক্রমশই বাড়ছে জাহাজের জট

        ফ্রি-ওয়েতে পাওয়া গেলো মানবদেহের অবশিষ্টাংশ

        বন্ধ হতে যাচ্ছে লস এঞ্জেলেসের ১০১নং ফ্রি-ওয়ে

        বেভারলি হিলসে শপিংমলে বন্দুক হামলায় আহত ১

        ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮ কাউন্টিতেই খরা সতর্কতা জারি

        ত্রিপুরার ভিডিওকে রংপুরের বলে অপপ্রচার চলছে : র‍্যাব

        নাম বদলে যাচ্ছে ফেসবুকের!

        এবার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উ. কোরিয়ার

        লস এঞ্জেলেসে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ১, আহত ২

        টিকাগ্রহণ করলে কমতে পারে মুদ্রাস্ফীতি

        বাধ্যতামূলক টিকাগ্রহণের আদেশের বিরোধীতা করছে অভিভাবকরা

        হাইতিতে অপহৃত মিশনারি দল: জনপ্রতি ১ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি

        লস এঞ্জেলেসে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

লাশের গন্ধে বাবার মৃত্যুর কথা জানল ছেলে

লাশের গন্ধে বাবার মৃত্যুর কথা জানল ছেলে

ঢাকর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষক রোকনুদ্দিন আহমেদের (৮০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজের বাড়িতে মারা গেলেও মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পরে ছেলে জানতে পারেন তারা বাবা মারা গেছেন।


গত সোমবার বিকেলে রোকনুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে, পাশের ঘরে থেকেও বাবার মৃত্যুর খবর ছেলের না জানা ও পচা লাশ উদ্ধার হওয়ার পর ওই পরিবারটি সম্পর্কেও অনেক অদ্ভুত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, রোকনুদ্দিনের মরদেহের পাশেই অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তার স্ত্রীকে। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পল্লবীর কালসি কবরস্থানে রোকনুদ্দিন আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

বাড়িটিতে গিয়ে নিচ তলায় নিরাপত্তা প্রহরী কবির হোসেনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কবির হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি বাড়িটির গেটের পাশের একটি কক্ষে বসবাস করছেন।


তিনি বলেন, 'বাড়িটিতে প্রতি তলায় একটি করে মোট আটটি ফ্ল্যাট আছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্ল্যাটের মালিক রোকনুদ্দিন আহমেদ। তিনি স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন ও ছেলে রূপমকে নিয়ে ওই বাড়িটিতে বসবাস করতেন। তিনি সপ্তাহে এক থেকে দুদিন ইন্টারকমে আমাকে তার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকতেন। বেশিরভাগ সময় তিনি পাউরুটি, দই, মিষ্টি, ফ্রাইড চিকেন, চানাচুর ও বিস্কুটের মতো খাবার কিনে আনতে বলতেন। এক থেকে দুই সপ্তাহ পর পর তিনি বাড়ি থেকে বের হতেন।'


কবির হোসেন আরও বলেন, 'তবে, রূপম বাড়ি থেকে বের হতেন খুবই কম। দেড় বছরে তাকে চার-পাঁচবারের বেশি দেখা পাইনি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রোকনুদ্দিন আহমেদ শরীরে জ্বর অনুভব করার কথা বলেছিলেন। এরপরই ১০ দিনের ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়িতে চলে যাই।'

তিনি জানান, গতকাল ঢাকায় ফিরে কবির হোসেন রোকনুদ্দিন আহমেদের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার কথা জানতে পারেন। এর পরই প্রথমবারের মতো তিনি ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢোকেন। ভেতরে দেখেন, সবগুলো ঘর ধুলো আর আবর্জনায় পূর্ণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রূপম জানান, বাবার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ঘর থেকে বের হতেন না। গত কয়েক দিন তিনি চানাচুর আর বিস্কুট খেয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, রোকনুদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। ১৯৯৫ সালে তার এক ছেলে মারা যান। এ ছাড়া তার তিন মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে খুব একটা যোগাযোগ ছিল না।

পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার শাহ কামাল বলেন, 'চল্লিশোর্ধ্ব রূপম একসময় মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তবে, এমবিবিএস পাস করতে পারেননি। এরমধ্যে বিয়েও করেছিলেন কিন্তু সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি।'

ওই ভবনের আরেক ফ্ল্যাটের গাড়িচালক নূরুল মিয়া বলেন, 'গত সাত বছর ধরে আমি এই ভবনের একটি পরিবারের গাড়ি চালাই। আমি কোনোদিন রোকনুদ্দিন আহমেদের স্ত্রীকে বাসা থেকে বের হতে দেখিনি। আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছি তিনি বাসা থেকে বের হন না।'

শাহ কামাল বলেন, 'আমরা সন্দেহ করছি রোকনুদ্দিন আহমেদ দুএকদিন আগেই মারা গেছেন। তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিনকে মরদেহের পাশেই অচেতন অবস্থা পাওয়া যায়।'

এই দম্পতির ছেলে রূপম গতকাল পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি দুদিন আগে তার বাবা-মায়ের ঘরে গিয়েছিলেন। দুর্গন্ধ ছড়ালে গতকাল বিকেলে তিনি বাবা-মায়ের ঘরে যান। সেখানে দেখতে পান, তার বাবার মরদেহ পচতে শুরু করেছে। এরপর থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/বি

[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত