আপডেট :

        ঘুষ যে নেয় আর ঘুষ যে দেয়, দুজনেই সমান অপরাধীঃ প্রধানমন্ত্রী

        কোটা নিয়ে আদালত থেকে সমাধান না আসলে সরকারের কিছু করার নেই

        ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে ভারত-চীন খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে’

        হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ট্রাম্প

        সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকন্যার আবেগঘণ পোস্ট

        যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন কালো অধ্যায়

        ট্রাম্পের ওপর হামলাকে অসুস্থ মানসিকতা বললেন বাইডেন

        ট্রাম্পকে গুলি করা বন্দুকধারী রিপাবলিকান পার্টির নিবন্ধিত ভোটার

        হামলার পর শারীরিকভাবে নিরাপদ ট্রাম্প সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন

        'দাদা অঙ্ক কী কঠিন…', 'চন্দ্রবিন্দু'র এই গানটা কে না শোনেননি

        কত দূর থেকে ট্রাম্পের ওপর গু লি চালানো হয়, জানালো সিএনএন

        ‘দক্ষতা বাড়াতে’কোটি টাকা খরচে বিদেশ যেতে চান হাজারের অধিক কর্মকর্তা

        সচিবালয়ের বিভিন্ন গেইটে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, জিরো পয়েন্ট অবরোধ

        সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবি

        অন্যের সন্তানকে নিজের বলে কোটায় চাকরি প্রাপ্তি, মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা

        সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে সনাক্ত করেছে এফবিআই

        প্রচার সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডান কানে গু লি করা হয়েছে

        আমি দ্রুতই বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা হচ্ছে

        ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং

        উইম্বলডন নারী এককের ফাইনালে ৩১তম বাছাই বারবোরা ক্রাইচিকোভা

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চায় না আমি ক্ষমতায় থাকি

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চায় না আমি ক্ষমতায় থাকি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাঁকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেই বাংলাদেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে গত ১৪ বছর ধরে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকায় দেশে অসাধারণ উন্নয়ন হয়েছে।

শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরের সময় বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সোমবার রাতে বিবিসির বাংলা বিভাগ এটি প্রকাশ করে। প্রায় আধঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্রের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করা হয়, সেটি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরেই শুধুমাত্র দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আমরা উন্নতি করতে পারছি।’ যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশের একটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন?

এ প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বাহিনীর ওপর তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটা তাদের পরামর্শেই ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাদের সকল প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। যেভাবে তারা বাহিনীটাকে তৈরি করেছে, তারা তো সেভাবেই কাজ করছে বলে আমার বিশ্বাস। তাহলে কেন তারা এই নিষেধাজ্ঞা দিল– এটা আমার কাছেও বিরাট এক প্রশ্ন।’ তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি না, হয়তো তারা চায় না, আমি (ক্ষমতায়) আরও থাকি কিংবা বাংলাদেশের যে উন্নয়ন আমরা করছি, তা অব্যাহত থাকুক। হয়তো এ রকমই কিছু, আমার তাই মনে হচ্ছে।’

নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ২০১৮ সালে ৪৬৬ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে ৩৮৮ মানুষ এভাবে নিহত হয়েছে। আর ২০২০ সালে নিহত হয়েছে ১৮৮ জন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর এই সংখ্যা মাত্র ১৫ জনে নেমে এসেছে। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব নাম্বার তারা উল্লেখ করেছে, সেগুলো তারা প্রমাণ করতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করেনি। কারণ আমরা প্রমাণ চেয়েছিলাম, সেগুলো তারা পাঠিয়ে দিক, আমরা তদন্ত করে দেখব।’

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চেভেলের একটি তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, এই র‍্যাবের দুইজন ব্যক্তি গোপন তথ্য ফাঁস করে বলেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে। এই তথ্য তুলে ধরা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না, তারা কীভাবে এটা করেছে। কিন্তু আমেরিকায় কী ঘটছে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে প্রায় প্রতিদিন একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুল, শপিংমল, রেস্তোরাঁয় হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুলশিক্ষার্থীরা, সাধারণ মানুষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা সশস্ত্র ব্যক্তির হাতে নিহত হচ্ছে। আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের নিজেদের ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়া। তাদের দেশের কী অবস্থা? তাদের উচিত শিশুদের জীবন রক্ষা করা। তারা নিজেদের লোকজনের ব্যাপারে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছেন, আমেরিকা বাংলাদেশের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে চায়। এই বক্তব্যের পক্ষে কী প্রমাণ আছে– বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় শেখ হাসিনার কাছে। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন হলো– কেন তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করল? যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য কাজ করছে; মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তখন তারা লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; যারা ভুক্তভোগী, তাদের পক্ষে নয়।’

বিবিসি বলেছে, সরকারের তথ্যেই জানা গেছে, বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০ হাজারের মতো মামলা হয়েছে; সাত হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হ্যাঁ। কিন্তু তারা কী করেছিল? তারা মানুষ হত্যা করেছে; তারা মলোটভ ককটেল ছুড়েছে। তারা পাবলিক বাসে আগুন দিয়েছে। ৩৮০০ পাবলিক বাসের ভেতরে যাত্রীদের রেখেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে; ট্রেন, লঞ্চ, প্রাইভেটকারে আগুন দিয়েছে। যারা হত্যা করেছে, মানুষকে নির্যাতন করেছে, দুর্নীতি করেছে; এই জন্য তারা শাস্তি পেয়েছে। আমি বুঝতে পারি না– তারা যেসব অপরাধ করেছে, কেন এইসব (মানবাধিকার) সংগঠন সেটা দেখতে পাচ্ছে না!

বিবিসি বলেছে, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ভোটের এই হার মিসরের মতো অনেক সামরিক শাসকের চেয়েও বেশি। এটা অনেকটা ভ্লাদিমির পুতিনের ভোটের মতো। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন নয়? আমাদের কাজের জন্যই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা তাদের জন্য কাজ করেছি। আমাদের ১৭০ মিলিয়ন মানুষ রয়েছে। আমাদের জনগণ রাজনৈতিক অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। আমরা ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্য কমেছে, খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গৃহায়ন– সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তাহলে মানুষ কেন (আমাদের) ভোট দেবে না?’

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত