আপডেট :

        তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, সপ্তাহ শেষে মিলতে পারে স্বস্তি

        নতুন প্যাকেজিং ফি কার্যকর হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

        যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ, আক্রান্ত হতে পারেন ৭ হাজার

        বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

        উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা করা মার্কিন বিজ্ঞানীকে আটক করেছে চীন

        ট্রাম্পের হুমকি: আলোচনায় না ফিরলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

        আজুসায় দাবানল, ২৫ একর এলাকায় আগুন; বন্ধ হাইওয়ে ৩৯

        ২ বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

        মৃত সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হলেন তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন

        মেইনে আইসিই অভিযানে গুলিতে নিহত কলম্বিয়ার নাগরিক, তদন্ত শুরু

        হরমুজ প্রণালিতে দুই ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ আমিরাতের, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা

        মার্কিন আদালতে বাতিল ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা

        নবজাতকের সঙ্গে দেখা আর হলো না, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাবা

        ‘জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই

        লস এঞ্জেলেসে ডাকাতির চেষ্টায় গুলিতে নিহত ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার

        চরম গরমে সতর্কবার্তা, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১০ ডিগ্রির পূর্বাভাস

        ইয়েলোস্টোন পার্কে বাইসনের হামলায় বৃদ্ধ আহত, আকাশে ছিটকে পড়ার ভিডিও ভাইরাল

        হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

        এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তলব ট্রাম্প প্রশাসনের

        লস এঞ্জেলেসে পানির প্রধান পাইপ ফেটে সড়ক প্লাবিত, যান চলাচল বন্ধ

তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশিষ্টজনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশিষ্টজনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কে আমাদের ভিসা দেবে না, কে আমাদের স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে-এ নিয়ে মাথাব্যথা করে লাভ নেই। ২০ ঘণ্টা প্লেনে জার্নি করে আটলান্টিক পার হয়ে আমেরিকায় না গেলে কিচ্ছু (কিছু) যায় আসে না। শনিবার তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তার এই বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করলে হয়তো আমাদের কিছুই হবে না-এমন তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। দেশ ও মানুষের জন্য যেটা মঙ্গলজনক হবে নিশ্চয়ই সেটা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার কেউ বলেছেন, আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসাটাই অপমানজনক।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে-সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কতগুলো বাস্তবতা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। আমাদের দেশে মার্কিন বিনিয়োগও সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের অভিবাসী আয়ও ঐতিহাসিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে।

সাম্প্রতিককালে প্রথম অবস্থানে গেছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমি নিশ্চিত এর পেছনে তার কাছে তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হলেও আমরা কোনো সমস্যায় পড়ব না। আশা করি তিনি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থেই এই বক্তব্য দিচ্ছেন। আমার বিশ্বাস আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব তা অত্যন্ত বিবেচনা শক্তি কাজে লাগিয়ে, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নেব। যা আমাদের জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনবে না।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমেরিকা কাকে ভিসা দেবে না দেবে সেটা তাদের এখতিয়ার। ভিসা যারা পান তাদের যোগ্যতার মানদণ্ড আছে। আমরা কিছু মানুষ হঠাৎ কেন অযোগ্য হয়ে পড়লাম। আমাদের সেটা অনুসন্ধান করা দরকার। গত ৫২ বছর আমাদের জন্য ভিসানীতি এক রকম ছিল। হঠাৎ করে কেন আমাদের ভিসানীতিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা এলো। তার মানেই হলো ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কেউ কেউ অযোগ্য হয়ে পড়েছি। আমরা আমেরিকায় যাই না যাই আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসাটাই অপমানজনক, চিন্তার বিষয়। দেশ হিসাবে, জাতি হিসাবে আমরা এই জাতীয় বদনাম কেন অর্জন করলাম সেটা আমাদের দেখতে হবে। তিনি বলেন, কী কারণে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, এই নিষেধাজ্ঞা উঠানোর জন্য কী করা দরকার সেটা পূরণ করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হুসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আমেরিকার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যাওয়ার মতো কিছু নয়। সরকারপ্রধান হিসাবে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং একটা জাতির সেন্টিমেন্ট প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে ওনার মূল্যায়ন উনি (প্রধানমন্ত্রী) করেছেন। আমি মনে করি এটা দেশের সাধারণ মানুষের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। শুধু এই বক্তব্যের কারণে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে অনেক ইস্যু আছে।

গত ১৫ বছরে অনেক ইস্যু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গড়ে এসেছে। এর সবকিছুই যে মতঐক্যের বিষয় ছিল তা নয়। সেদিক থেকে আমি মনে করি এ বিষয়টিকে আরও বড় পরিসরে দেখার সুযোগ আছে। এটার ভেতরে নিঃসন্দেহে একটি রাজনৈতিক দিকও আছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের যে ধরনের ভাবমূর্তি থাকা দরকার, যে ধরনের অবস্থান থাকা দরকার, আত্মমর্যাদার যে জায়গাটুকু থাকা দরকার সে বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তিনি কথাগুলো বলেছেন। কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের যেমন সীমাবদ্ধতা আছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে কি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি করব। কোন দেশ কতটুকু গণতান্ত্রিক, কী ধরনের শাসন ব্যবস্থার মধ্যে আছে সেই ব্যবস্থা নির্ধারণ করার দায়িত্ব তো অন্য রাষ্ট্রের নয়। আর সেটা চিন্তা করেও কেউ ভিসানীতি তৈরি করে না।




এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত