নগদে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দিল উবার, চালকদের উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস শুরু
গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা ১২মিনিটে মাদার ভেসেল থেকে পাইপলাইনে তেল খালাস শুরু হয়। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাসের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
এখন এক লাখ মেট্রিক টনের একটি বড় জাহাজের তেল খালাসে সময় লাগবে মাত্র দুইদিন। আগে এই পরিমাণ তেল খালাসে সময় লাগত ১১দিন। এতে বছরে প্রায় আটশ’ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাহাজ এমটি হোরে ৮২ হাজার টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে সৌদি আরব থেকে ২৪ জুন মাতারবাড়িতে পৌঁছে। ২৫ জুন তেল খালাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২৮ জুন পর্যন্ত কমিশনিং কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এরপর রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় দফায় কমিশনিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য তিনটি টাগবোট ও প্রয়োজনীয় পাইলটিং সেবা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকাল ৯টায় এসপিএম বয়া থেকে মাদার ভেসেলের সঙ্গে হোস কানেকশন সম্পন্ন হয়। ১০টা ১২মিনিটে মাদার ভেসেল হতে ক্রুড অয়েল পাম্পিং শুরু হয়েছে। বিপিসি বলছে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বুধবারের মধ্যে মাদার ভেসেল থেকে ট্যাংক টার্মিনালে ক্রুড অয়েল গ্রহণ সম্পন্ন হবে। ট্যাংক টার্মিনাল থেকে ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে (ইআরএল) পৌঁছানো হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ডিজেল অংশের কমিশনিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিপিসি জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্র হতে মহেশখালী ট্যাংক টার্মিনাল পর্যন্ত ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পৃথক পাইপলাইন এবং মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ১১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পৃথক পাইপলাইন (ডিজেল ও ক্রুড অয়েলের জন্য) স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইনে ২০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীতে প্রতিটি ৫০ হাজার মেট্রিক টনের তিনটি ক্রুড অয়েলের ট্যাংক এবং প্রতিটি ৩০ হাজার মেট্রিক টনের ডিজেল মজুতের ট্যাংক টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে।
যেভাবে গভীর সমুদ্র থেকে জ্বালানি তেল আসবে চট্টগ্রামে। এসপিএম থেকে ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি আলাদা পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আনলোড করা হবে। ১৬ কিলোমিটার পাইপলাইন দিয়ে সেই তেল যাবে কালারমারছড়ায় পাম্প স্টেশন অ্যান্ড ট্যাংক ফার্মে। সেখান থেকে ৭৪ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল চলে যাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সমুদ্র উপকূলে। সেখান থেকে আবার ৩৬ কিলোমিটার পাইপলাইন দিয়ে তেল যাবে পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
শেয়ার করুন