আপডেট :

        ২০২৭ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বনিম্ন মজুরি হবে ঘণ্টায় ১৭.৪০ ডলার

        ই-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১, গুরুতর আহত ১

        জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল না ট্রাম্প প্রশাসন

        যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিস্ফোরণধর্মী ডায়রিয়া’ সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হতে পারেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ

        ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

        বর্ডার প্যাট্রোল পর্যবেক্ষণের পর গ্লোবাল এন্ট্রি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নারীর মামলা

        ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক বৈঠক জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর, আলোচনায় ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ

        ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, ফের উত্তেজনা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের

        টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটে আবারও গুলি, চলতি বছরে দ্বিতীয় হামলা

        ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশ চ্যালেঞ্জের মামলা খারিজ, নতুন আবেদন করার সুযোগ দিলেন মার্কিন আদালত

        কোভিড ত্রাণ জালিয়াতি: এফবিআইয়ের জালে পলাতক নারী

        সাশ্রয়ী আবাসনের খোঁজে রিভারসাইডে বসতি, নিত্যসঙ্গী দীর্ঘ যানজট

        যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন পাসপোর্ট নির্দেশনা দিল মার্কিন দূতাবাস

        সান্তা মনিকার অ্যাপার্টমেন্টে নারীর মরদেহ উদ্ধার, একজন আটক

        মিশিগানে বাড়িতে আগুনের পর ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন

        সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

        হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা নৈশভোজে গণমাধ্যমকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

        লস এঞ্জেলেস মেট্রোকে ভাড়ামুক্ত করার পরিকল্পনা মেয়র কারেন ব্যাসের

        সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র, নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা

শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হলো যেভাবে

শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হলো যেভাবে

অগ্নিঝরা মার্চের আজ ১২তম দিন। একাত্তরের এদিন চিরপরিচিত শাপলাকে আমাদের জাতীয় ফুল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্পী কামরুল হাসানের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আয়োজিত শিল্পীদের এক সভায় এ ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণা শেষে মুক্তিকামী মানুষকে সেদিন আরও বেশি উৎসাহী করে তুলতে তারা প্রতিবাদী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন বিলি করেন।

একাত্তরের ১১ মার্চ জাতিসংঘের তদানীন্তন মহাসচিব উ থান্ট এক নির্দেশে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত জাতিসংঘের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন সদর দফতরে ফিরে যান। এ নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ দেশের মানুষও এ পৃথিবীর বাসিন্দা। তাদের প্রতিও জাতিসংঘের দায়িত্ব রয়েছে।

একাত্তরের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা আন্দোলনে অর্থের যোগান দিতে তাদের একদিনের বেতন দেয়ার ঘোষণা দেন। এই দিনে রাস্তায় নেমে আসেন শিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কর্মজীবী সবাই। স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে রাখে ঢাকার রাজপথ।

পূর্ব পাকিস্তানের সাংবাদিক ইউনিয়ন আন্দোলনকে জোরদার করতে, আরও সংঘবদ্ধ করতে রাজপথে নেমে আসে। পাকিস্তানবিরোধী স্লোগানে রাজপথকে উত্তাল করে তোলে জনতা। শিল্পী মর্তুজা বশীর ও কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে এদিন বাংলা চারু ও কারু শিল্পী সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে এ পরিষদ বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৯৭১ সালের এই দিনে প্রতিবাদ প্রতিরোধ বিদ্রোহ বিক্ষোভে দুর্বার হয়ে উঠছিল বীর বাঙালী জাতি। একাত্তরের মার্চ মাসের দিনগুলো ছিল থমথমে, উৎকণ্ঠা আশঙ্কায় পরিপূর্ণ। চাপা উদ্বেগ, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালী। কি ঘটবে, কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তিত- উৎকণ্ঠিত ছিলেন সকলেই।

অন্যদিকে ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে পাকিস্তানী বাহিনীর কর্মকান্ড। লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের ফলেই পূর্ব পাকিস্তানে থাকা পাকিস্তানী সামরিক জান্তা দমে যেতে থাকে।

রক্তঝরা উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের আজ ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের পঞ্চম দিবস। ১৯৭১-এর ১২ মার্চ ছিল শুক্রবার। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ জাতির জনকের নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্র সংগ্রামী জনতা তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকে। এমন সর্বাত্মক অসহযোগ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমনকি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগকেও তা ছাপিয়ে যায়। অসহযোগ পালনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে বাংলার মানুষ আসন্ন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সেই যুদ্ধ প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। প্রতিটি নিরস্ত্র মানুষ সেদিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র হয়ে উঠছিল।

পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে ইশতেকলাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব) আসগর খান টানা তৃতীয় দিনের মতো আজও লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশকে খন্ডবিখন্ড হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষাকল্পে এই পরিস্থিতিতে অনতিবিলম্বে প্রথম ফ্লাইটেই প্রেসিডেন্টের উচিত ঢাকায় গিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে মুজিব প্রদত্ত সকল শর্ত মেনে নেয়া।

জাতীয় লীগ সভাপতি আতাউর রহমান খান আজ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন।

ময়মনসিংহে এক জনসভায় মজলুম নেতা মওলানা ভাসানী এদিনও বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচীর প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের মুখে লাথি মেরে শেখ মুজিবুর রহমান যদি বাঙালীদের স্বাধিকার আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন তবে ইতিহাসে তিনি কালজয়ী বীররূপে, নেতারূপে অমর হয়ে থাকবেন।’

এদিন বিবিসির সংবাদে বলা হয় যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আগামী শনিবার রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আলাপ-আলোচনার জন্য ঢাকা আসছেন।

এদিকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ঘোষিত কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মিছিল সহকারে ধানমন্ডির বাসভবনে আসতে থাকে। সারাদিন এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত সংগ্রামী জনতা বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিতে চারদিক প্রকম্পিত করতে থাকে।

এদিন অন্তত দেড় শতাধিক মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসে এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারী আধা-সরকারী কর্মচারীগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অফিস-আদালত বর্জন করে।

জনসাধারণ খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দিয়ে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে নবতর অধ্যায়ের সূচনা করে। যথারীতি আজও সারা ঢাকা শহর স্বাধিকার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কালো পতাকার শহরে পরিণত ছিল।

গত কয়েক দিনের মতো এদিনও বগুড়ার কারাগার ভেঙ্গে ২৭ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পুলিশের গুলিবর্ষণে এদিনও ১ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।

 

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত