আপডেট :

        ট্রাম্পের বাতিল করা ভিসা কর্মসূচি আপাতত বন্ধই থাকছে, আদালতে বড় ধাক্কা আবেদনকারীদের

        ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন আবারও খারিজ

        অস্বাভাবিক জোয়ারে হান্টিংটন বিচে ১১৪ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি, আরও বন্যার আশঙ্কা শহর কর্তৃপক্ষের

        ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে টম জোন্সের চারটি কনসার্ট স্থগিত, ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ

        দুই দফা প্রা ণঘাতী ইনজেকশনেও মৃ ত্যু হয়নি, হাসপাতালে জ্ঞান ফিরল মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীর

        ইসরায়েলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নেতানিয়াহুর দলের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনা সহজ করতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি, ভোট হবে প্রস্তাব ৩৭-এ

        আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্য, ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবেশগত পর্যালোচনার নিয়ম বদলাতে প্রস্তাব ৪৫

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেনের পণ্য চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯, সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি পুলিশের

        কোরিয়ান স্পার ভিড় পেরিয়ে লস এঞ্জেলেসে রুশ বাথহাউসের ভিন্ন জগৎ, আছে পুরোনো ঐতিহ্য

        কাজ করে, গাড়ি চালায়, করও দেয় কিশোরেরা, এবার ভোটাধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহর

        হলিউড সাইনের পাশে বসবাস যেন দুর্ভোগ, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লায় অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা

        নিউপোর্ট বিচে এল নিনোর দাপট, জোয়ার ও বন্যার চাপে বিপর্যস্ত উপকূলীয় জনজীবন

        লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ব্যবধান ঘুচিয়ে রমনের সঙ্গে সমান অবস্থানে বাস, বলছে নতুন জরিপ

        কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের পরিবার থেকে পেন্টাগন, চারটি তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

        যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি ডোলোরেস হুয়ের্তার মৃত্যু, ৯৬ বছর বয়সে থামল দীর্ঘ সংগ্রাম

        ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনে ১৪ প্রস্তাব, ভোটারদের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আবাসন, কর ও পরিবেশনীতি

        মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও চাপে ট্রাম্প, বাইডেনের মতো একই সংকটে হোয়াইট হাউ

        ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ব্রিটেনে দুই নাগরিক অভিযুক্ত, তদন্তে নতুন মোড়

        ৬০ লাখ ডলারে বিক্রির অপেক্ষায় বিরল ডাইনোসরের কঙ্কাল, জনসমক্ষে দেখা যাবে কি ভবিষ্যতে

ছয় মাসে ব্যাংকের বাইরে টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার কোটির বেশি

ছয় মাসে ব্যাংকের বাইরে টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার কোটির বেশি

গত ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে বাসাবাড়িতে বা নিজের কাছে রাখার প্রবণতা বেড়েছে অনেক। ফলে অবৈধ বা বৈধ যাই হোক না কেন, টাকা নিজের কাছে রাখতে এখন বাসাবাড়ির জন্য সিন্দুক, লকার ও আলমারি কিনছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ টাকা লুকিয়ে রাখতে স্বভাবজাত প্রবণতার অংশ হিসেবে মানুষ টাকা রাখে গোপন জায়গায়। সে বিবেচনায় বাসাবাড়িতে সিন্দুকের ব্যবহার বাড়তে পারে। ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের অন্যতম কারণও হতে পারে সিন্দুকে টাকা রাখার প্রবণতা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত জুন শেষে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। মাত্র ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে ব্যাংকের বাইরে টাকার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ মোটা দাগে তিনটি হতে পারে। প্রথমত, ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সব পর্যায়ে খরচ বেড়েছে। ফলে মানুষের হাতে তুলনামূলক বেশি টাকা রাখতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা ব্যাংকে জমা না হওয়া। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কয়েক জন ব্যক্তির দুর্নীতি-ঘুষবাণিজ্য সামনে আসায় অনেকে সতর্ক হয়ে টাকা হাতে ধরে রাখছেন। তৃতীয়ত, ব্যাংকে জমা টাকা সময়মতো ফেরত পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে আস্থাহীনতা  রয়েছে।

অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংক থেকে টাকা সরানো হচ্ছে

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের অর্থই কিছু মানুষ ব্যক্তিগত সিন্দুকে রাখছেন। এর দুই ধরনের কারণ আছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার আস্থাটা এখনো গড়ে ওঠেনি। যেমন—মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে কি না; এটিএম বুথে টাকা থাকবে কি না; এ ধরনের ভীতি থেকে বাসায় সিন্দুকে টাকা রাখার প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায়, অর্থনীতির চাকা সচল হয়ে আসে, তাহলে ব্যাংকিং খাতে অনেক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সিন্দুকে টাকা রাখার প্রবণতা কমে যাবে। কারণ সিন্দুকে টাকা রাখার ঝুঁকিও আছে। পোকায় খেয়ে ফেলতে পারে। ডাকাতিও হতে পারে। অনিশ্চয়তা কেটে গেলে, মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারলে, এটিএমে বুথে টাকা পেলে, ইন্টারনেট সচল থাকলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সাধারণ মানুষ সিন্দুকে টাকা রাখার প্রয়োজনবোধ করবেন না।

দ্বিতীয় কারণ, ক্ষমতার একটি পরিবর্তন ঘটেছে। তৎকালীন ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছেন। তারা ব্যাংকে টাকা রাখছেন না। কারণ ব্যাংকে রাখলে টাকা জব্দ করা সহজ। সেক্ষেত্রে একটি ভালো সিন্দুক কিনে মাটির নিচে পুঁতে রাখলে সেখানে পোকা ঢুকতে পারবে না, পানিও ঢুকতে পারবে না। সেখানে ব্যাংকের চেয়ে একটু নিরাপদ থাকে। আর যদি সুসময় আসে সিন্দুক থেকে টাকা বের হয়ে আসবে। আমরা শুনছি, এ একবিংশ শতাব্দীতে বস্তায় বস্তায় টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো আইনের আওতায় এনে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে হবে।            

বংশালের কয়েক জন সিন্দুক ব্যবসায়ী জানান, মুঘল আমল থেকে এ জনপদে সিন্দুকের ব্যবহার হয়ে আসছে। বনেদী পরিবার এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এসব সিন্দুক রাখত। ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী, তারা সিন্দুক তৈরি করেন। সিন্দুক বিক্রির কোনো মৌসুম নেই। সাধারণত সোনা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন এজেন্ট, ব্যাংক তাদের কাছ থেকে সিন্দুক কেনে। তবে বর্তমানে সাধারণ মানুষও বাসাবাড়িতে সিন্দুক ব্যবহার শুরু করেছে। সিন্দুক, লকার কিনছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ২০ বছরের মধ্যে শেষ ১০ বছরে সিন্দুকের বেচাকেনা বেড়েছে দ্বিগুণ। আর শেষ পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডিজিটাল সিন্দুকের চাহিদা। একটা সময় শুধু রাজধানীর বংশালে সিন্দুকের বেচাকেনা থাকলেও এখন ঢাকার কলাবাগান-উত্তরাসহ চট্টগ্রাম-সিলেটের মতো বড় বড় শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে সিন্দুকের বড় বড় দোকান।

এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইত্তেফাককে বলেন, অনেকেই দুর্নীতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। এই টাকা তারা ব্যাংকে রাখতে পারছেন না। তারা এই টাকা বাসায় সিন্দুকে, লকারে রাখছেন। ব্যাংকে টাকা রাখলে এই টাকা একটা হিসাবের আওতার মধ্যে পড়বে।

বেসরকারি ব্যাংকের আরেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে হাতে টাকা রাখার প্রবণতা আরও বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ব্যাংক বন্ধ ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে বেশির ভাগ এটিএম বুথ বন্ধ রাখা হয়। আবার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ডিজিটাল লেনদেন হয়নি। অস্থিরতার কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেকেই এখন হাতে তুলনামূলকভাবে বেশি টাকা রাখেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, সবাই যে অবৈধ টাকা বাসার সিন্দুকে বা লকারে রাখছেন, এটা সব সময় ঠিক না-ও হতে পারে। তবে এই টাকার উৎস কী—এটা জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে দুদক ব্যবস্থা নেবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতির টাকার লেনদেন সব সময় নগদ অর্থে হয়। এই টাকার হিসাব থাকে না আয়কর ফাইলে। তাই টাকাগুলো ব্যাংকে রাখলে নানারকম জবাবদিহির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য মানুষ এই টাকা বাসায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর এই টাকাই দেশের বাইরে পাচার হয়।

 

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত